মেনোপজের পর নারীদের হৃদরোগের ঝুঁকি কেন বাড়ে, যা জানালেন দেবী শেঠি
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অল্পবয়সী নারীরা তাদের হরমোনের কারণে কিছুটা প্রাকৃতিক সুরক্ষা পান। কিন্তু মেনোপজের পর তাদের হৃদরোগের হার পুরুষদের কাছাকাছি চলে আসে এবং তাদেরও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে নারীদের হার্ট অ্যাটাকের হার এখনও পুরুষদের তুলনায় কম। তবে মেনোপজের পর ঝুঁকিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে।
এ সম্পর্কে ভারতের সেরা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠির বলেন, আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং সহজলভ্য খাবারের কারণে আমরা স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। জিনগতভাবে সম্ভবত ইউরোপীয়দের তুলনায় আমাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি। আমাদের আরও কম বয়সে ডায়াবেটিস হয়।
আমরা ডায়াবেটিসকে গুরুত্ব দিই না, কারণ এটি সঙ্গে সঙ্গে কোনো সমস্যা তৈরি করে না। অনেকে একবার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করে মনে করেন সব ঠিক আছে। কিন্তু তারা সবসময় এইচবিএ১সি- পরীক্ষা করেন না, যা গত প্রায় তিন মাসে ডায়াবেটিস কতটা নিয়ন্ত্রণে ছিল তা বোঝায়। সচেতনতা খুবই কম।
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া, চোখের সমস্যা এবং অন্যান্য জটিলতা বেশি দেখা দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ এটি।
পেশিবহুল শরীর থাকলেই হৃদরোগের ঝুঁকি নেই বিষয়টি এমন নয়। নিজেকে ভালো লাগলেই ধমনিগুলো সুস্থ—এমনটিও নয়। ডায়াবেটিস বছরের পর বছর নীরবে শরীরের ক্ষতি করতে পারে। আবার মেনোপজের পর নারীদের হৃদরোগের ঝুঁকিতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। তাই হার্টের সুস্থতা নিশ্চিত করতে আমাদের নিয়মিত পরীক্ষা করানো উচিত।
মানুষকে ফিট দেখালেও তার হার্টে সমস্যা থাকতে পারে
দেবী শেঠির মতে, অতিরিক্ত ব্যায়াম, সাপ্লিমেন্ট এবং নির্দিষ্ট ধরনের শরীর দেখানোর চাপ তরুণদের হৃদঝুঁকি তৈরি করছে। আমরা এমন অনেক তরুণকে দেখেছি, যাদের হৃদযন্ত্রে কোনো ব্লকেজ ছিল না, কিন্তু খাদ্য-সাপ্লিমেন্ট, হরমোন এবং ফিট ও শক্তিশালী দেখাতে ব্যবহৃত নানা ধরনের পদার্থের কারণে তারা মারাত্মক হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছে।
দেবী শেঠি আরও বলেন, হার্ট অ্যাটাকের পর আমাদের কাছে আসা প্রায় ৫০ শতাংশ রোগীর আগে একটি সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। তারা জানতেনই না যে তাদের হৃদযন্ত্রে কোনো সমস্যা রয়েছে। তারা নিজেদের সবচেয়ে ফিট মানুষদের মধ্যে মনে করতেন, অথচ পরে তাদের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।
মানসিক চাপ কি সত্যিই হার্টের জন্য ক্ষতিকর?
ডা. দেবী শেঠি বলেন, কারও যদি হৃদযন্ত্রে ব্লকেজ তৈরি হওয়ার প্রবণতা থাকে, অথবা ইতিমধ্যেই ব্লকেজ তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে খারাপ জীবনযাপন ও মানসিক চাপ রোগটির অগ্রগতিকে দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।
মানসিক চাপ শরীরে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটাতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। তবে সাধারণত এসব মানুষের আগে থেকেই হৃদরোগ থাকে।
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করার গুরুত্ব
দেবী শেঠি বলেন,অকালমৃত্যুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের জন্য হৃদরোগ ও ক্যানসার দায়ী। এই দুটি রোগ যদি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়, তাহলে আমরা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারি।
সূত্র: এনডিটিভি
