পুরুষের প্রোস্টেট ক্যানসার কেন হয়? জানুন গুরুত্বপূর্ণ ৫ ঝুঁকির কারণ
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৪ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রোস্টেট ক্যানসার পুরুষদের জন্য পরিচিত একটি রোগ, বিশেষ করে বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে। এই ক্যানসারের অনেক ধরন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। তবে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রোস্টেট ক্যানসার কী?
প্রোস্টেট ক্যানসার হলো প্রোস্টেট গ্রন্থির কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি, যার ফলে ক্যানসার তৈরি হয়। প্রোস্টেট পুরুষের প্রজননতন্ত্রের একটি ছোট, আখরোটের মতো গ্রন্থি। এটি মূত্রথলির ঠিক নিচে এবং মলদ্বারের সামনে অবস্থিত। এই গ্রন্থি বীর্যের একটি অংশ তৈরি করে, যা শুক্রাণুর পুষ্টি ও পরিবহণে ভূমিকা রাখে।
প্রোস্টেট ক্যানসারের অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্যানসার শুরু হয় গ্রন্থির তরল উৎপাদনকারী কোষে। এ ধরনের ক্যানসারকে অ্যাডেনোকার্সিনোমা বলা হয়।
প্রোস্টেট ক্যানসারের ৫ টি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ—
বয়স
প্রোস্টেট ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ বয়স। ৪০ বছরের কম বয়সি পুরুষদের মধ্যে এ রোগ তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে ৫০ বছরের পর ঝুঁকি বাড়ে এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে অধিকাংশ রোগ শনাক্ত হয়।
বাবা বা ভাইয়ের প্রোস্টেট ক্যানসার থাকলে অন্য পুরুষ সদস্যদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে পরিবারের কোনো সদস্যের অল্প বয়সে ক্যানসার শনাক্ত হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিআরসিএ১ ও বিআরসিএ২ এর মতো কিছু জিনের বংশগত পরিবর্তনও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পরিবারে প্রোস্টেট, স্তন, ডিম্বাশয় বা অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্থূলতা
স্থূলতা ও প্রোস্টেট ক্যানসারের মধ্যে জটিল সম্পর্ক রয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, স্থূল পুরুষদের ক্ষেত্রে আক্রমণাত্মক প্রোস্টেট ক্যানসার এবং রোগের প্রতিকূল পরিণতির ঝুঁকি বেশি হতে পারে। শরীরে অতিরিক্ত চর্বি বিপাক, হরমোন ও প্রদাহের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অতিরিক্ত ওজন সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং ফলমূল, শাকসবজি ও পূর্ণ শস্যসমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়া সুস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
ধূমপান
ধূমপান বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার ও গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। কিছু গবেষণায় ধূমপানের সঙ্গে প্রোস্টেট ক্যানসারের মৃত্যুঝুঁকি এবং প্রতিকূল চিকিৎসার ফলাফলের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই ধূমপান পরিহার করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রোস্টেট ক্যানসারের লক্ষণ কী কী?
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রোস্টেট ক্যানসারের কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। রোগটি অগ্রসর হলে কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন—
১. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, বিশেষ করে রাতে;
২. প্রস্রাব শুরু করতে বা বন্ধ করতে অসুবিধা;
৩. প্রস্রাবের ধারা দুর্বল বা থেমে থেমে আসা;
৪. প্রস্রাব বা বীর্যের সঙ্গে রক্ত যাওয়া;
৫. প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া;
৬. লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা বা যৌন সক্ষমতার পরিবর্তন;
৭. কোমর, নিতম্ব, শ্রোণি বা হাড়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা।
প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে করণীয়
প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধের কোনো নিশ্চিত পদ্ধতি নেই। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এজন্য—
* স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে হবে;
* নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে;
* সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে;
* ধূমপান পরিহার করতে হবে;
* পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করতে হবে;
* প্রস্রাবের সমস্যা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসা নিতে হবে।
প্রোস্টেট ক্যানসার পুরুষদের স্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হলেও সব ক্ষেত্রে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে না। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ক্যানসার ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার মাধ্যমে দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।


