যে ৮ কারণে বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারেন পুরুষরা
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিয়ের পর দীর্ঘদিন সন্তান না হলে প্রশ্নের তির সাধারণত নারীর দিকেই ছোটে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। বিশ্বজুড়ে প্রজনন সমস্যায় ভোগা দম্পতিদের প্রায় অর্ধেকের ক্ষেত্রে পুরুষের শরীরেও কোনো না কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়।
এক বছর নিয়মিত দাম্পত্য সম্পর্কের পরও গর্ভধারণ না হলে সেটিকে বন্ধ্যত্বের লক্ষণ ধরা হয়। আর যৌনসক্ষমতা পুরোপুরি স্বাভাবিক থাকলেও পুরুষ বন্ধ্যত্বে ভুগতে পারেন। চিকিৎসকেরা এর পেছনে আটটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন।
১. শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া
পুরুষ বন্ধ্যত্বের সবচেয়ে পরিচিত কারণ এটি, যাকে বলা হয় ওলিগোস্পারমিয়া। শুক্রাণু প্রয়োজনের তুলনায় কম তৈরি হলে ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার সুযোগও কমে আসে।
২. শুক্রাণুর মান খারাপ হওয়া
সংখ্যা ঠিক থাকলেই হয় না, শুক্রাণুর আকৃতি ও গতিও সমান জরুরি। শুক্রাণু দুর্বল হলে কিংবা ঠিকমতো সাঁতরাতে না পারলে গর্ভধারণ কঠিন হয়ে পড়ে।
৩. ভেরিকোসিল
অণ্ডকোষের শিরা ফুলে গেলে তাকে ভেরিকোসিল বলে। এতে অণ্ডকোষ গরম হয়ে ওঠে এবং শুক্রাণু তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তবে এটি বেশ প্রচলিত একটি কারণ, আর চিকিৎসায় সারানো সম্ভব।
৪. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
টেস্টোস্টেরনসহ নানা হরমোনের গোলমালে শুক্রাণুর উৎপাদন কমে যেতে পারে। পিটুইটারি গ্রন্থি ও থাইরয়েডের সমস্যাও এর পেছনে থাকতে পারে।
৫. সংক্রমণ
মাম্পস, যৌনবাহিত রোগ, প্রোস্টেটের সংক্রমণসহ বিভিন্ন প্রদাহ অণ্ডকোষের শুক্রাণু তৈরির ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে।
৬. জিনগত ত্রুটি
অনেকে জন্ম থেকেই প্রজনন অঙ্গের ত্রুটি নিয়ে আসেন। আবার কিছু জিনগত রোগও শুক্রাণু তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে।
৭. অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, মাদকাসক্তি, স্থূলতা, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা এবং শরীরচর্চার অভাব পুরুষের প্রজননক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়।
৮. পরিবেশ ও কর্মক্ষেত্রের প্রভাব
কীটনাশক, ভারী ধাতু, কলকারখানার রাসায়নিক কিংবা অতিরিক্ত তাপের মধ্যে কাজ করলে শুক্রাণুর মান খারাপ হতে পারে। এসব পেশায় যাঁরা আছেন, তাঁদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
চিকিৎসকেরা মনে করিয়ে দেন, পুরুষ বন্ধ্যত্ব লজ্জার কিছু নয়, এটি অন্য যেকোনো রোগের মতোই একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই সন্তান না এলে শুধু স্ত্রী নন, স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই একসঙ্গে পরীক্ষা করানো উচিত।
