দুই দুটো মানুষের মধ্যে কত্তো তফাৎ!

  ডা. যোবায়ের মাহমুদ ০৫ জুলাই ২০১৯, ০০:২০ | অনলাইন সংস্করণ

হাসপাতাল

ইমার্জেন্সিতে বসে আছি।

রাত বারোটার দিকে একটা ছেলে আসলো।

খোঁড়াতে খোঁড়াতে। ডান পায়ের বুড়ো আঙুলের নখের বেশ বড় একটা অংশ ভাঙা। বললাম, 'কিভাবে হলো'?

উত্তরে বুঝলাম, পেশায় সে হেলপার।

গাড়ির দরজায় দাড়িয়ে ছিলো। পা বাইরে। গাড়িটা চলছিলো রাস্তার পাশ ঘেঁষে। পাশে চলা গাড়িটা সামনে আগানোর জন্য হঠাৎ করে চাপ দিলে, তার ড্রাইভারও গাড়ি সাইড করতে যায়। তখনই পায়ের সাথে রাস্তার আইল্যান্ডারে ছ্যাঁচা লেগে এই অবস্থা।

নখটা তুলে দিয়ে ড্রেসিং শেষে ওষুধ লিখছি। ছেলেটা ডাকলো, 'স্যার'!

মাথা তুলে তাকালাম। 'বলো..'

'কবে থেকে কাজে যেতে পারবো'?

'খুব বেশি হলে তিন-চার দিন পর থেকেই'

'কিন্তু..'

'কিন্তু কী?’

'আমি একজনের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়ে অনার্সের ফর্ম ফিলআপ করছি তো! দেরি হয়ে যাবে। টাকাটা শোধ করা দরকার। একটু কড়া ব্যথার ওষুধ দিয়েন..'

লেখা বাদ দিয়ে কলম তুলে কিছুক্ষণের জন্য চুপ করে বসে থাকলাম। বুঝলাম, ছেলেটার জন্য বুকের গহীনে কোথাও এক সমুদ্র শ্রদ্ধা জমা হচ্ছে।

আবার ভাবলাম, কিছুক্ষণ আগেই তো ১৪-১৫ বছরের একটা মোটামুটি অভিজাত পরিবারের মেয়ে এলো বাবার সঙ্গে অভিমান করে দশ-পনেরোটা ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে। মিনিট দশেক আগে-পরে আসা এই দুই দু'টো মানুষের মধ্যে কত্তো তফাৎ!

শুধু প্রার্থনা, খেটে খাওয়া এমন পরিশ্রমী মানুষ দিয়ে আমাদের দুনিয়াটা ভরে যাক। ওদের উষ্ণ নিঃশ্বাসে ছেয়ে থাক আকাশ।

যতদিন ওদের হাতে দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ।

লেখক: ডা. যোবায়ের মাহমুদ

ইন্টার্ন চিকিৎসক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, ঢাকা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×