হিজামা না রক্তদান কীসে বেশি উপকারিতা?

  ডা. আশরাফুল হক ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

হিজামা
ছবি: সংগৃহীত

সমগ্র বিশ্বেই এখন গতানুগতিক চিকিৎসার বাইরে আরও কিছু চিকিৎসা প্রচলিত। এদেরকে বড় পরিসরে কয়েকভাগে ভাগ করা যায়, এর মাঝে রয়েছে complementary and alternative medicine (CAM)।

সংজ্ঞাগতভাবে একে বলা যায়, সুস্থতা বজায় রাখার লক্ষ্যে চিকিৎসার মূল ধারাকে অক্ষুণ্ণ রেখে গতানুগতিক চিকিৎসার পরিপূরক চিকিৎসাকে CAM বলে। এ পদ্ধতির মধ্যে কাপিং থেরাপি অন্যতম।

বেশ কয়েক ধরনের কাপিং থেরাপি প্রচলিত রয়েছে। যেমন- wet cupping, retained cupping, flash cupping, moving cupping, medicinal cupping, and needle cupping।

হিজামা বলতে wet cupping কেই বুঝানো হয়। আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) হিজামাকে উদ্ধুদ্ধ করেছেন, যা বুখারি শরিফের ৫২৬৩ এবং মুসলিম শরিফের ২৯৫২

তে উল্লেখ রয়েছে। তবে নবী করিম (সা.) কোন কোন রোগের ক্ষেত্রে তা উপকারি তা পরিষ্কারভাবে সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।

আধুনিক চিকিৎসার সঙ্গে অনেকেই হিজামা ব্যবহারের চেষ্টা করছেন। অনেকেই বলছেন কার্যকরী অনেকেই তা মানছেন না। দ্বিমত থাকতেই পারে। কে কোন রোগে তা ব্যবহারে করছেন, রোগী তাকে কিভাবে গ্রহণ করছেন তার ওপরও নির্ভর করে চিকিৎসার সফলতা কিংবা ব্যর্থতা।

গেল অলিম্পিক খেলায় অনেক তারকা খেলোয়াড়কে কাপিং থেরাপি নিতে দেখা গিয়েছে। তারা বিশ্ব মিডিয়ায় তা প্রচারও করেছেন। তারা ঘাড় ও পিঠের পেছনের ব্যাথার ক্ষেত্রে তা নিয়েছেন বলেই প্রকাশিত হয়েছে।

কাপিং থেরাপি বা হিজামায় কেন রোগীরা আসক্ত হন?

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হিজামা বা কাপিং থেরাপির জন্য প্রথমে সূচ দিয়ে যে ছোট ছোট ছিদ্র করা হয় চামড়ার ভিতরে তার উপরে একটি নির্দিষ্ট চাপে যখন কাপ দেওয়া হয় তখন সেই এলাকায় রক্ত চলাচলের তারতম্য ঘটে।

শরীরে কোথাও ব্যাথার সৃষ্টি হলে তার থেকে কোষ অনুযায়ী, কিছু কেমিক্যাল নির্গত হয়, সেগুলো ব্যাথার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ওষুধ সেবনের ফলে মস্তিষ্কে ব্যাথার অনুভূতি সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য চলে গেলেও ব্যাথা পরিপূর্ণভাবে নিরাময় হয় না। কাপিং দেওয়ার ফলে সেই কেমিক্যালগুলো কিছু মাত্রায় হলেও নিয়ে আসা যায় যেহেতু সেখানে সুনির্দিষ্ট চাপের কারণে রক্ত প্রবাহের গতি ভিন্নমুখী হয়। আর এতেই অনেকেই নিরাময় বোধ করেন।

হিজামা কি কার্যকরী চিকিৎসা?

আসলে চিকিৎসার স্বার্থকতা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে তার মাঝে রোগীর তৃপ্তি একটি। চিকিৎসাটি কতদিন স্থায়ী হল, এতে ঝুঁকি আছে কিনা তাও কিন্তু দেখার বিষয়। শরীরের যে স্থানে ব্যাথার কারণে একে প্রয়োগ করা হয়েছিল সে স্থানটিতে যে কারণে এটি উদ্ভূত হয়েছে তা কিন্তু অপরিবর্তনশীল থাকে।

কাজেই বারবার একই জিনিষের পুণরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। কী কারণে এর সৃষ্টি তার নিরাময় দরকার। দেখা গেল পিঠের পেছনে হাড়ের সমস্যার কারণে এটি হয়েছে, সেক্ষেত্রে সেটি সাধারণেতেই চিকিৎসা নিশ্চিত হয়। আবার যেহেতু এটি রক্তের সঙ্গে জড়িত, তাই এতে রক্তবাহিত রোগ হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। যেমন হেপাটাইটিস বি ও সি, এইচআইভি ইত্যাদি।

এসব রোগের লক্ষণ খুব দ্রুত প্রকাশ পায় না বলে যখন ধরা পড়ে তখন বেশ সময় চলে যায়। যার কারণে এই চিকিৎসা পদ্ধতি পশ্চিমা দেশগুলোতে এটি সফল চিকিৎসা নয় বলে তারা দাবি করে। তবে পূর্ব ও মধ্য এশিয়ায় এটি সফল বলেই প্রচলিত রয়েছে।

কাপিং থেরাপির মাধ্যমে রক্ত শরীরের বাইরে নিয়ে আসা যায় বলে রক্তের মাঝে যদি কোনও উপাদান বেশি থাকে তবে তার থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় বলে অনেকেই দাবি করেন। এখানে আসলে দাবির চেয়ে বিশ্বাস জিনিসটা অনেকাংশেই জড়িত।

এই পদ্ধতিতে যতটুকু রক্ত শরীর থেকে বের হয় তার পরিমাণ দেহের ওজন অনুপাতে নিতান্তই নগন্য। এর চেয়ে নিয়মিত রক্তদান করলে উপকার বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

হিজামা না রক্তদান কীসে বেশি উপকারিতা?

নিয়মিত রক্তদাতাদের মাঝে গবেষণা করে দেখা গেছে তাদের রক্তচাপ, রক্তের চর্বি, রক্তের আয়রন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে সুস্থ জীবনযাপন অনেকটাই নিশ্চিত হয়। রক্তদানের ফলে শরীরে নতুন রক্তকোষ তৈরি হয়ে ফলে শরীরের ক্লান্তি ভাব চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ কমে যায় ফলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি হ্রাস পায়। কিছু রোগ রয়েছে যাতে রক্ত নিয়মিত ফেলে দেওয়া লাগে রক্ত বেশি উৎপাদন হয় বলে, যেমন Hemochromatosis ।

তাই হিজামা বা কাপিং পদ্ধতিতে রক্ত ফেলে না দিয়ে সেটি অন্য কাউকে দান করে দেওয়াটা মঙ্গলজনক। কারণ, রক্তদান করলে পাঁচটি রোগের তথ্য নিয়মিত পাওয়া সম্ভব।

আর রক্তদানে যে মানুষিক প্রশান্তি পাওয়া যায় তার তুলনা অন্য কিছুর সঙ্গে মেলানো কঠিন। আমাদের দেশে রক্তের যে চাহিদা তার স্বল্প অংশ পুরণ স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের মাধ্যমে। চিকিৎসার অংশ হিসাবেও যদি আমরা নিয়মিত রক্তদান করি তাহলে সেই অভাব কেটে যাবে।

লেখক: ডা. আশরাফুল হক, ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিশেষজ্ঞ

ঘটনাপ্রবাহ : ডা. আশরাফুল হকের লেখা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×