ইয়াবা ট্যাবলেট যে রোগের ওষুধ

  ডা. মো. সাঈদ এনাম ১২ জুন ২০১৮, ০০:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

ইয়াবা ট্যাবলেট

চেম্বারে অশান্ত সজিব। এটা টান দেয় তো ওটা ধরে। কখনো স্টেথোস্কোপ কখনোও বা কলম। টেবিলের উপর থেকে পেপার ওয়েটটা হাতে নিলো। চোখমুখে রাজ্যের বিস্ময়। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সেটা দেখে আবার ঠাস করে রেখে দিল। সঙ্গে আসা মা ভাবলেন, টেবিলের গ্লাসটা বোধহয় ভেঙ্গেই ফেললো এবার!

‘স্যার সরি’ বলে, না পেরে অনেকটা জোর করে ধরেই তাকে চেয়ার বসিয়ে দেবার চেষ্টা করলেন। কখন কী করে বসে, এই ভেবে।

সজীব নার্সারিতে পড়ে। অসম্ভব দুষ্টুমি করে। অশান্ত চঞ্চল সারাক্ষণ। মিস, স্যার কারো কথাই শোনে না। পড়ায় কোনও মন নেই। জোর করে সামনে বই মেলে ধরলে দুই এক মিনিট পড়ে কি পড়ে না। অন্য কিছুতে ব্যস্ত হয়ে যায়।

ক্লাসে একে চিমটি দেয় তো ওর খাতা ছিঁড়ে ফেলে। বাধা দিলে, রেগে গিয়ে মারামারি শুরু করে। সমসাময়িক বাচ্চাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করা, ফেলে দেয়া ইত্যাদি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। প্রতিদিন তার নামে অভিযোগ আসে অভিভাবকদের কাছ থেকে, এটা করেছে, ওটা করেছে। একে মেরেছে তো ওকে ধরেছে। মা বাবা যারপরনাই অপমানিত, বিরক্ত।

সেদিন স্কুলের মিস ডেকে বললেন, ‘আপা আপনার বাচ্চাকে আমরা একেবারে সামাল দিতে পারছি না। ক্লাসে বসিয়ে রাখাই দায়। বলা নেই কওয়া নেই হুট করে দৌঁড়ে ক্লাস থেকে বের হয়ে যায় যখন তখন। একেবারেই মনযোগ নেই ক্লাসে। বলে কয়ে আদর করে মনযোগী করলেও মনযোগ ধরে রাখে না। সারক্ষণ চঞ্চলতা।'

আরো জানালেন, শুধু সহপাঠী নয়; মিস ও স্যারদের সঙ্গে অনেক সময় দুর্ব্যবহার করে, তাদের নাম ধরে ডাকে।

প্রতিদিন স্কুলে গিয়ে এটা ওটা হারিয়ে আসবে। কোথায় রাখে কাকে দেয় মনে খেয়াল নেই। এজন্যে প্রতিদিন তাকে নতুন কলম, বই, পেন্সিল কিনে দিতে হয়। কেবল স্কুল বা ক্লাসেই যে এরকম করছে তা না। ঘরেও একই ব্যাপার। সেদিন সিঁড়ি থেকে এক লাফ দিয়ে পড়েছে নিচে। হাত পা ছুলেছে, কেটেছে। কিন্তু ওতে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। রক্ত ঝরলেও সে ব্যথা পেলো কী পেল না, বুঝাই গেল না। উঠে আবার ভুঁ দৌড়। বলা নেই কওয়া নেই, কারনে অকারনে ছোট বোনটিকে হঠাৎ মেরে বসে। চেয়ার থেকে ফেলে দেয়। তার দুষ্টুমিতে এখন সবাই তটস্থ, বিরক্ত।

কারো কথা শোনে না। যা নিষেধ করা হয় সেটাই দেখা যায়, বেশি করে করে। বাসায় প্রায়ই গ্যাসের চুলার আগুন বাড়িয়ে দিয়ে কাছে দাঁড়িয়ে থাকে!

এটা ওটা আগুনে দিয়ে দেয়। ভয় বিপদ বুঝে না। সেদিন নাকি প্রতিবেশীর এক পোষা ময়না পাখিকে খাঁচা থেকে বের করে এক আছাড়েই মেরে ফেললো। তাছাড়া স্কুলে যেতে আসতে এটা ওটা দিয়ে রাস্তার কুকুর বিড়ালদের ছুড়ে মারা আঘাত করা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

এতক্ষন ধরে সজিবের আম্মা অভিযোগগুলো বলতে বলতে প্রায় হাঁফিয়ে গেলেন। অভিযোগ কোনটা বলবেন কোনটা না এমন অবস্থা। সজীব তাদের একমাত্র ছেলে। বিয়ের অনেক বছর পর, অনেক সাধনার পর আল্লাহ তার কোল জোড়ে দিয়েছেন, যেন এক ফালি চাঁদের টুকরা। কিন্তু তাঁর এমন আচরনে তিনি আর পারছেন না।

এবার অনেকটা কেঁদে কেঁদে বললেন, স্যার দুষ্টামিতে বিরক্ত হয়ে দুদিন আগে আমি ছেলেটিকে খুব মেরেছি। মারার পর খুব খারাপ লেগেছিল আমার যাদুর টুকরা, সোনা বাবুটার হাউমাউ কান্না দেখে।'

মার খেয়ে কেঁদে কেঁদে বললো, মা তুমি আমাকে মারলে, আমি তোমার সঙ্গে আর থাকবো না।

স্যার, আমি সারা রাত ঘুমাতে পারিনি, ছটফট করেছি। কেনো মারতে গেলাম ভেবে। কিন্তু আমি আর পারছি না যে। বাচ্চারা দুষ্টুমি করে কিন্তু তার এটা কী ধরনের দুষ্টুমি। সেদিন তার দাদুভাইয়ের হাত থেকে তাসবীহ কেড়ে নিয়ে জানালা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। যে দাদুর কলিজার টুকরা সে কিনা...",

তিনি আর কিছু বলতে পারলেন না। চোখের পানি মুছলেন। সজীবের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। মায়ের কান্না দেখে এবার সে একটু চুপচাপ বসে থাকার চেষ্টা করলো।

দুই.

মীনা চৌধুরী দম্পতির (ছদ্মনাম) একমাত্র সন্তান সজিব। বিয়ের পর দীর্ঘদিন তাদের সন্তান হয়নি। স্বামী পেশায় আর্কিটেক্ট। কারোরই কোন শারীরিক সমস্যা ছিলোনা। যখন তারা আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন, তখনই হঠাৎ একদিন মিনা তার গর্ভে সজিবের অস্তিত্ব টের পান।

প্রথমে শাশুড়ি কে কথাটি পাড়েন। শাশুড়ি পাত্তা দিলেন না। কারন বিয়ের পর থেকে এভাবে অনেকবার তার এরকম হালকা পাতলা লক্ষন দেখা দিয়েছে, কিন্তু না। প্রতিবার তাদের স্বপ্ন ভংগ হয়েছে।

তারপর ও শাশুড়ি কথাটি শুনে সঙ্গে সঙ্গে কোরান খতমের নিয়ত করলেন, নফল নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন। আল্লাহ যদি মরার আগে একবার নাতি নাতনীর মুখ দেখান। নোটন চৌধুরী (ছদ্মনাম) বড় আদরের ছেলে তার। নোটনের বাবা মারা গিয়েছেন তার নোটনের বিয়ের পরপর। জীবিত থাকতে তিনি নোটন কে ডেকে সুন্দর সুন্দর ক'টা নাম দিয়ে বলতেন, যদি কখনো নাতী, নাতনী আসে, তাহলে সেই নাম গুলো রাখতে।

কিন্তু বিয়ের পর বেশ ক'বছর যখর তাদের কোন সন্তান হচ্ছিলোনা তখন বেশ ভেংগেই পড়ছিলো নোটন। কেবল ই মায়ের পাশে বসে বলতো, "আম্মু তুমি দোয়া করো। শুনেছি মায়ের দোয়া বিফলে যায়না, বাবার দেয়া নাম গুলো যেনো বিফলে না যায়.."।

তিনি প্রতিবার ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেন, বাবা ধৈর্য ধর। আমি দোয়া করছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোকে সন্তানের মুখ দেখাবেন। তোর বাবার দোয়া আছে। দেখিস তার দেয়া নাম গুলো বিফলে যাবে না।

যাইহোক বউমা মীনা যখন বললো, মা আমার শরীরটা কেমন জানি লাগছে, তিনি তখন কিছু না বলে, এবারও তিনি জায়নামাজ নিয়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে গেলেন। পরদিন তারা স্বামী-স্ত্রী ক্লিনিকে গেলেন। খুব একটা আশাভরসা নিয়ে না। তবুও গেলেন।

সেখানে মীনার এক বাল্যবান্ধবী ডা. তনুশ্রী সাহা গাইনি বিভাগের ডাক্তার। তাকে কথাটি পাড়লেন মীনা। তনুশ্রী গুরুত্ব দিয়ে ভালোভাবে দেখলেন তাকে। খটকা লাগলো। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কিছু না বলে চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে বান্ধবীকে মীনাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, মীনা তোর স্বপ্ন মনে হয় এবার সত্যি হচ্ছে...।

মীনা আর নোটন চৌধুরী ক্লিনিক থেকে বাসায় এসে সোজা পড়লেন শাশুড়ির পায়ে। বললেন, আম্মা, আপনার দোয়া আল্লাহ শুনেছেন। তিনি তখনও মানত করা নফল নামাজে। সালাম ফিরিয়েই বললেন, কী বলছিস তুই মীনা?

শাশুড়ি মাঝেমধ্যে তাকে তুই বলে সম্বোধন করতেন। তবে খুব আবেগের কিছু হলে তখন তিনি এমনটি করেন। শাশুড়ির মুখে তুই শুনলে মীনার খুব ভালো লাগে। তার মা-বাবা তাকে তুই বলতেন। তাই শাশুড়ির এমন ডাকে তার ভালো লাগে।

শাশুড়ি বললেন, জানিস কাল রাতে আমি স্বপ্নে দেখেছি, একটা হলুদ-লাল জামা পড়ে একটা ফুটফুটে বাচ্চা মেয়ে আমার সঙ্গে দুষ্টুমি করছে।

মীনার কোল জোড়ে এসেছে সজিব। তারা ভেবেছিলেন তাদের মেয়ে হবে যেহেতু শাশুড়ি স্বপ্নে দেখেছিলেন একটা মেয়ে শিশু তার সঙ্গে খেলছে। যাহোক, সজীবের জন্মের পর তারা সবাই হজ করেন। অনেক আশা আকাঙ্ক্ষার ধন, তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন তাদের।

তিন.

ইদানীং সজীবের এমন দুষ্টুমি আর চঞ্চলতায় তারা ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কী করবেন, কোথায় যাবেন ভেবে পাচ্ছেন না। গত আট ন'মাস মাস যাবৎ সজিবের এই আচরন। প্রথম প্রথম অতি চঞ্চলতা ভেবে এটা তেমন পাত্তা দেননি। কিন্তু এখন তা একেবারে অসহনীয় হয়ে পড়েছে তাদের জন্যে। একটা চাকরি করতেন মীনা। সজীবের এসব অতি দুষ্টুমি আর অমনোযোগী স্বভাবের ভয়ে চাকরি ছেড়ে দিয়ে সারাক্ষণ তাকে দেখাশুনা করছেন। না জানি ছেলেটা কখন কী করে বসে?

শিশু ডাক্তারদের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। তারা প্রায়ই ঘুমের ওষুধ দেন। এসব খেয়ে ক'দিন মরার মতো ঘুমায়। কিন্তু পরে যেই সেই। কোন উন্নতি নাই। একজন মিস বললেন, আপা সাইকিয়াট্রিস্ট দেখান। তিনি চমকে গেলেন। তার ছেলে কি পাগল?

তার মন মানলো না। তাদের স্বামী-স্ত্রী কারো বংশেই কোন মানসিক রোগী নেই। তবে সজীবের দাদার মেজাজ একটু চড়া ছিল। প্রচণ্ড রাগী মানুষ ছিলেন। এর বিশেষ কিছুই না। সাইকিয়াট্রিস্ট দেখানোর কথা শোনে তিনি কিছুটা চিন্তিত ছিলেন। তিনি শুনেছেন, শিশুদেরও মানসিক সমস্যা হয়। ক'দিন থেকে তাই দিনরাত নেট ঘাঁটছিলেন। আসলেই কী হয়েছে তার ছেলের, সে কেন এমন করে। ইন্টারনেট খুঁজতে খুঁজতে একটা আর্টিকেলে তার চোখ আটকে যায়। মনে হলো তিনি যেনো কিছু একটা পেয়েছেন। বাচ্চার সকল উপসর্গই মিলে গেছে আর্টিকেলের রোগটির সঙ্গে। আর্টিকেলে রোগটির নাম এ.ডি.এইচ.ডি (ADHD)। ইংরেজীতে এটেনশন ডিফিসিট হাইপার এক্টিভিটি ডিসওর্ডার বলে।

তিনি বললেন, স্যার আমার বাচ্চাটি কি তবে এ.ডি.এইচ.ডি'র (ADHD) রোগী। যদিও লন্ডন প্রবাসী তার বড়বোন বলেছেন সিমটমটা নাকি কিছুটা অটিজমের মতো। কিন্তু অটিজমের শিশুরা ডাকলে বুঝে না যে তাকে কেউ ডাকছেন বা তাকে কেউ কিছু বলতে চাইছেন। সজীবতো সবই বুঝে। শুধু বুঝে বললে ভুল হবে, বেশি বুঝে..."

আমি মীনাকে বললাম, আপনি ঠিক ধরতে পেরেছেন। আপনার বাচ্চার এ.ডি.এইচ.ডি'র ADHD সিমটম রয়েছে। একেবারে টিপিক্যাল সিমটম। তবে আপনার ভয় বা মন খারাপ করার কোনো কারন নেই। এ রোগের খুব ভালো ভালো কার্যকরী চিকিৎসা রয়েছে। ওকে কোন ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করবে না করে বরং ধৈর্য ধরে আদর যত্ন ভালোবাসা দিয়ে তাকে বার বার বুঝানোর চেষ্টা করতে হবে। ধৈর্যহারা হলে চলবে না। একে বিহেভিয়ার থেরাপি বলে। বয়স কম বলে আপাতত তাকে মেডিসিন দেয়ার দরকান নেই।

চার.

বাচ্চাদের ADHD এ.ডি.এইচ.ডি রোগ আমাদের দেশে বেশ পাওয়া যায়। সচেতন অভিভাবকরা কিংবা স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা খুব সহজেই ক্লাসে শিশু সন্তানের মধ্যে এ রোগের লক্ষণটি শনাক্ত করতে পারেন।

দেশে শতকরা কতজন শিশু এ রোগে আক্রান্ত তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান না থাকলেও আমেরিকায় কয়েকটি স্টাডিতে দেখা গেছে, তাদের দেশে শতকরা পাঁচ থেকে দশজন শিশুদের মধ্যে এই এডিএইচডি (ADHD) রোগের লক্ষণ পাওয়া যায় । মেয়ে শিশুদের চেয়ে ছেলেদের মধ্যে এ রোগটি বেশি দেখা দেয়। পরিণত বয়সেও এ রোগের দেখা মেলে।

এডিএইচডি রোগটি হয় মূলত ব্রেইনের ডোপামিন ও এপিনেফ্রিন নিউরোট্রান্সমিটার তৈরি নিঃসরণ ও সরবরাহের মধ্যে কিছুটা গোলযোগ থাকায়। ব্রেইনের ফ্রন্টাল কর্টেক্স (FRONTAL CORTEX), ব্যাসাল গ্যাংগলিয়া (BASAL GANGLIA), লিমবিক সিস্টেম (LIMBIC SYSTEM) , রেটিকুলার একটিভেটিং সিস্টেম (RETICULAR ACTIVATING SYSTEM) ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ এরিয়াতে ডোপামিন ও এপিনেফ্রিন নিউরোট্রান্সমিটার পর্যাপ্ত পরিমানে না থাকায় শিশু বা বয়স্কদের মধ্যে এই ADHD এডিএইচডি রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।

এডিএইচডি রোগের চিকিৎসা:

ব্রেইনের গুরুত্বপূর্ণ এরিয়া যা একাগ্রতা, মনোযোগ, কর্মচঞ্চলতা, আচার ব্যবহার, বিবেক বিবেচনা নিয়ন্ত্রণ করে সে এরিয়া গুলোতে ডোপামিন ও এপিনেফ্রিন নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ বা সরবরাহ ওষুধ দিয়ে বাড়িয়ে দেয়া বা ব্রেইনকে স্টিমুলেট করাই হলো এ রোগের প্রধান চিকিৎসা। মিথাইলফেনিডেট ও মিথামফেটামিন জাতীয় ঔষধ ব্রেইনে ডোপামিন ও এপিনেফ্রিন নিউরোট্রান্সমিটারের নিঃসরণ বাড়ায়। এগুলোকে ব্রেইন স্টিমুলেটিং ড্রাগ বলে। তাছাড়া নন স্টিমুলেট হিসেবে এটোমোক্সিটিন নামের একটি মেডিসিন রয়েছে। তবে সাধারণত ছয় বছরের নিচে এডিএইচডি (ADHD) রোগের চিকিৎসায় স্টিমুলেটিং বা ননস্টিমুলেটিং কোন ড্রাগ ই ব্যবহার হয় না। এর পরিবর্তে বিহেভিয়ার থেরাপি বা এমিট্রিপটাইলিন জাতীয় ওষুধের বেশি জোর দেয়া হয়।

এডিএইচডি'র চিকিৎসায় মিথামফিটামি সম্পর্কে তথ্য

এডিএইচডি'র চিকিৎসায় মিথামফিটামি উপযোগী হলেও তা শরীরের জন্য বিষাক্ত এবং তীব্র আসক্তি তৈরি করে বিধায় এর ব্যবহার কম। আমাদের বর্তমান সমাজে কিশোর-কিশোরী ও যুবসমাজ মাদক হিসেবে যে ইয়াবা ট্যাবলেট নিচ্ছে তা হলো মূলতঃ এই মিথামফেটামিন।

মাত্রাতিরিক্ত, অনিয়ন্ত্রিতভাবে মিথামফিটামিন ট্যাবলেট ব্যবহারে দেহে হিরোইন, মরফিন, কোকেনের মতো একধরনের পাগলামি ভাব আসে। মারাত্মক আসক্তি তৈরি হয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে যায় এবং দেহে তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে বলে মিথামফেটামিন ড্রাগটি সাইকিয়াট্রিস্টরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রেসক্রাইব করেন।

ইতিহাসে মিথামফেটামিন

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধরত সৈনিকদের ডিপ্রেশন কাটাতে মানসিকভাবে চাঙ্গা করতে, ভয় কমাতে ও তাদেরকে দিবাস্বপ্নে বিভোর রাখতে এই কেমিক্যালের বহুল ব্যবহার হয়েছিল। তবে তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আর ক্ষতিকারক পরিণামের জন্যে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।

বর্তমানে মিয়ানমার হচ্ছে এই মিথামফেটিমিন মাদক বা ইয়াবা ট্যাবলেটের পৃথিবীর শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ। বাংলাদেশের পাশে অবস্থিত হওয়ায় দুই দেশের চোরা কারবারীরা এই কেমিক্যালের অপব্যবহার করে এ দেশের কিশোর কিশোরী ও যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

লেখক: ডা. মো. সাঈদ এনাম

সাইকিয়াট্রিস্ট, স্বাস্থ্য গবেষক ও লেখক।

jugantor-event-মাদকবিরোধী-অভিযান-২০১৮-59105--1

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.