ইফতার পণ্যে অসাধু ‘চোখ’
লেবুর হালি ১২০ টাকা
তিন দিনের ব্যবধানে শসা ও লেবুর দাম বেড়েছে দ্বিগুণ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রমজান মাস সামনে রেখে ডাল, ভোজ্যতেল ও ব্রয়লার মুরগির পর এবার ইফতার পণ্যের ওপর অসাধু ব্যবসায়ীদের ‘চোখ’ পড়েছে। তাদের কারসাজিতে একরকম নীরবেই বাড়ছে দাম। সংকট না থাকলেও বাজার ও এলাকার মুদি দোকানে প্রতি কেজি মুড়ি, খেজুর, বেসনের দাম এক মাসের ব্যবধানে ৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তিন দিনের ব্যবধানে শসা ও লেবুর দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। প্রতি হালি (৪ পিস) লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। পাশাপাশি ইফতারের অন্যতম আকর্ষণীয় খাবার ‘ছোলা-মুড়ি’ মাখাতে উপাদান সরিষার তেল লিটারে বেড়েছে সর্বোচ্চ ১০ টাকা। এছাড়া ধনেপাতা, পুদিনাপাতা, ইসবগুলের ভুসি, ট্যাঙ, রুহ-আফজার দামও অহেতুক বাড়ানো হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
রাজধানীর নয়াবাজার, জিনজিরা বাজার ও মালিবাগ বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি গোল শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা। যা চার দিন আগে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি হালি (৪ পিস) লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা। যা তিন দিন আগেও ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকায়। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মুড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়। যা দুই সপ্তাহ আগে ৭০-৮০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি মাঝারি মানের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০-৫৫০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে ১৮০-৫৫০ টাকায় বিক্র হয়েছে। মান ও বাজারভেদে প্রতি কেজি বেসন বিক্রি হয়েছে ৮০-১৩০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে ৭০-১২০ টাকা ছিল।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, প্রতি বছর রোজা শুরুর আগে এসব পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়। তাই সুযোগ বুঝে বাড়তি দাম নিয়ে বিক্রেতারা ক্রেতাকে ঠকায়। তিনি বলেন, ক্রেতাদের এক দিনের পণ্যের তুলনায় ১০ দিনের পণ্য কেনেন। যে কারণে বিক্রেতারা দাম বাড়াতে সুযোগ পান। তাই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য কেনা ঠিক হবে না। আর অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর জন্য অসাধুদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
প্রতি লিটার বোতলজাত সরিষার তেল ব্র্যান্ড ভেদে ৩০০-৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি খোলা সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে ২৯০-৩২০ টাকা লিটার। যা সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়েছে। এদিন প্রতি আঁটি ধনেপাতা ও পুদিনাপাতা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা। যা মাসখানেক আগে ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ইফতারে শরবত তৈরিতে ব্যবহৃত ইসবগুলের ভুসি, ট্যাঙ, রুহ-আফজার দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি কেজি ইসবগুলের ভুসি ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা এক মাস আগে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা কম ছিল। ৫০ গ্রাম প্যাকেটজাত ট্যাঙ বিক্রি হচ্ছে ৪২৫ টাকায়। ৭০০ মিলি রুহ-আফজা বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়।
রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা লাইজু আক্তার বলেন, ইফতার পণ্যের দাম বাড়ানো বাকি ছিল। এগুলোর দামও বাড়ানো হয়েছে। দাম প্রতি রোজায় বাড়ানো হয়। এটা যেন বিক্রেতাদের এক প্রকারের নিয়মে পরিণত হয়েছে। দেখার যেন কেউ নেই। যে যেভাবে পারছে, সেভাবে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, রোজা ঘিরে বাজারে সার্বিকভাবে তদারকি করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম পেলে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ইফতার পণ্যেরও তদারকি করা হবে।
