আয়কর রিটার্নের যে ৩ ভুল সংশোধন করা যাবে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ০১:৪২ এএম
আয়কর রিটার্ন প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ভুল হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। অনেকেই সঠিকভাবে হিসাব মেলাতে পারেন না, আবার কারও ক্ষেত্রে সম্পদের বিবরণীতে অসঙ্গতি থেকে যায়। এমনও দেখা যায়, কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবেও সঠিক তথ্য উপস্থাপন করেন না।
তবে কোনো কারণে রিটার্নে ভুল হয়ে গেলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আয়কর আইনে এসব ভুল সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে, ফলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তা ঠিক করা সম্ভব।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি— কোনো করদাতার রিটার্ন যদি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়, তাহলে আর সেই রিটার্ন সংশোধনের সুযোগ থাকবে না। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৮ হাজার করদাতার রিটার্ন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। এ তালিকায় থাকা করদাতারা আর সংশোধনের সুযোগ পাবেন না।
এখন দেখা যাক, কীভাবে রিটার্নের ভুল সংশোধন করা যায়।
যে ৩ ধরনের ভুল সংশোধন করা যাবে
আয়কর আইন অনুযায়ী, করদাতার রিটার্নে দেওয়া তথ্যের মধ্যে তিন ধরনের ভুল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। যদি কোনো করদাতা মনে করেন যে তিনি সঠিকভাবে কর হিসাব করতে পারেননি এবং সেই কারণে প্রকৃত কর পরিশোধ হয়নি, তাহলে তিনি তা সংশোধন করতে পারবেন।
সংশোধনযোগ্য ভুলগুলো হলো—
১. প্রদর্শিত আয়
২. দাবি করা কর অব্যাহতি বা ট্যাক্স ক্রেডিট
৩. অন্য যেকোনো যৌক্তিক কারণে হওয়া ভুল
১৮০ দিনের পর সংশোধন নয়
রিটার্ন সংশোধনের ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত প্রযোজ্য। যেমন—
১. রিটার্ন দাখিলের তারিখ থেকে ১৮০ দিন পার হয়ে গেলে আর সংশোধন করা যাবে না
২. একই অর্থবছরে একবার সংশোধনের পর দ্বিতীয়বার সংশোধনের সুযোগ নেই
৩. মূল রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হলে সংশোধন করা যাবে না
অনলাইনেই সংশোধনের সুযোগ
করদাতাদের সুবিধার্থে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অনলাইনে সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছে। এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ‘সংশোধন’ অপশন ব্যবহার করে এটি করা যায়। সংশোধনের ফলে করের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত করের সঙ্গে বিধি অনুযায়ী জরিমানাও পরিশোধ করতে হবে। উল্লেখ্য, সংশোধনের জন্য অনলাইনে প্রবেশ করলে সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
চলতি বছরে প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। তারা তাদের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের তথ্য উল্লেখ করে এই রিটার্ন দাখিল করেছেন। তবে দেশে মোট টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ।
