Logo
Logo
×
   

Advertisement

অর্থনীতি

কর রেয়াত কমছে, সঞ্চয়পত্রের সুদে বাড়ছে করের চাপ

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

কর রেয়াত কমছে, সঞ্চয়পত্রের সুদে বাড়ছে করের চাপ

Advertisement

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের সুবিধা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের সুদ আয়ের ওপর করের চাপ বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ থাকলে মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হয়। ১০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ হার ১০ শতাংশ। বিদ্যমান ব্যবস্থায় এই উৎসে করই চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য হয় এবং পরবর্তীতে এ আয়ের ওপর আর কোনো কর দিতে হয় না।

তবে নতুন বাজেটে এই সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত হবে না। বরং করদাতার মোট আয়ের সঙ্গে এই আয় যোগ হয়ে নির্ধারিত করস্ল্যাব অনুযায়ী কর পরিশোধ করতে হবে। উৎসে কাটা করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা হবে, যা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সমন্বয় করা যাবে।

এর ফলে পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রধারীও আগের তুলনায় বেশি করের আওতায় পড়বেন। আগে যেখানে তিনি সুদ আয়ের ওপর ৫ শতাংশ কর দিতেন, এখন তাকে ন্যূনতম ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হতে পারে।

অন্যদিকে কর রেয়াত সুবিধাও কমানো হচ্ছে। বর্তমানে সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, জীবন বীমার প্রিমিয়ামসহ ৯টি খাতে বিনিয়োগের বিপরীতে করদাতারা কর রেয়াত পান। মোট আয়ের ৩ শতাংশ, অনুমোদিত বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার মধ্যে যেটি কম, সেটি কর রেয়াত হিসেবে বিবেচিত হয়।

নতুন প্রস্তাবে অনুমোদিত বিনিয়োগের সীমা ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ বিনিয়োগসীমা ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সাড়ে সাত লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে প্রতি এক লাখ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে করদাতারা আগের তুলনায় প্রায় পাঁচ হাজার টাকা কম কর ছাড় পাবেন।

তবে কর রেয়াতের আওতাভুক্ত খাতগুলো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডিপিএস হিসাবেও আগের মতো কর রেয়াত সুবিধা বহাল থাকবে। এ ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ এক লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ওপর কর ছাড় পাওয়া যাবে।

এদিকে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম প্রস্তাব করা হয়েছে। ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে ৫ শতাংশ কর প্রণোদনা মিলবে, তবে তা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে কোনো প্রণোদনা বা জরিমানা থাকবে না।

অন্যদিকে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে ২ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে, যার সর্বোচ্চ সীমা তিন হাজার টাকা। আর ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রিটার্ন দিলে ৫ শতাংশ জরিমানা আরোপ করা হবে, তবে তা পাঁচ হাজার টাকার বেশি হবে না। নতুন করদাতাদের জন্য রিটার্ন জমার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ জুন।

Advertisement

Advertisement

ঘটনাপ্রবাহ: বাজেট ২০২৬-২৭


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম