Logo
Logo
×
   

Advertisement

অর্থনীতি

নীল অর্থনীতির দুয়ার উন্মোচন

মৎস্য ও সামুদ্রিক খাতে বড় বিনিয়োগ টানছে ‘মিডা’ ও ‘জাইকা’

Advertisement

Icon

তেজগাঁও (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

মৎস্য ও সামুদ্রিক খাতে বড় বিনিয়োগ টানছে ‘মিডা’ ও ‘জাইকা’

Advertisement

বাংলাদেশের মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতিতে (ব্লু ইকোনমি) দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্যোগ জোরদার করেছে মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা)। এ লক্ষ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সহযোগিতায় বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরতে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশের মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ সেমিনার মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী

সোমবার (২৯ জুন) প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়াধীন মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই সেমিনারটি আয়োজিত হয়। 

এই খাতের বাণিজ্যিক বিকাশকে গতিশীল করতে মূলত ৪টি উচ্চ-সম্ভাবনাময় খাতের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। খাতগুলো হলো— গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ, ম্যারিকালচার (সামুদ্রিক চাষাবাদ), অ্যাকুয়াকালচার ও চিংড়ি চাষ এবং সি-ফুড (সামুদ্রিক খাদ্য) প্রক্রিয়াকরণ। সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের উপস্থাপনায় শিল্পভিত্তিক মৎস্য নৌবহর পরিচালনা, অফশোর কার্যক্রম, ল্যান্ডিং ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সার্টিফাইড চিংড়ি ভ্যালু চেইন, কোল্ড-চেইন অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানের সি-ফুড প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপনে বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট পরিধি তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম। এছাড়া মিডার নির্বাহী সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক বাংলাদেশের চিংড়ি শিল্পের সম্ভাবনা এবং জাইকার মৎস্য বিশেষজ্ঞ ড. এচিগো মানাবু জাপানি মৎস্য বাজারের সুযোগ ও বঙ্গোপসাগরে টুনা মাছ আহরণে জাপানের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরেন। 

মৎস্য অধিদপ্তরের ড. মুহাম্মদ তানভীর হোসেন চৌধুরী এবং এগ্রোলিংকের জনাব সায়েদ ইশতিয়াকও এ বিষয়ে পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের ডেপুটি প্রধান অব মিশন ও মিনিস্টার মহামান্য তাকাহাশি নাওকি। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ক্ষেত্রে চলতি বছরটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ‘জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ)’ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। 

এই প্রেক্ষাপটে আজকের সেমিনারটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। বাংলাদেশের মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতি কেবল একটি ঐতিহ্যগত শক্তিই নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন এক সম্ভাবনাময় দিগন্ত।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ মিস তাকাহাশি জুনকো অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য প্রদান করে নীতিগত সহায়তার আশ্বাস দেন।

সমাপনী বক্তব্যে মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান জনাব আশিক চৌধুরী বলেন, আমরা বিদ্যমান রেগুলেটরি (নিয়ন্ত্রণমূলক), অবকাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি যা দ্রুত সমাধান করা দরকার। আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, বিনিয়োগকারীদের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সুসমন্বিত প্রচেষ্টা গ্রহণের বিষয়ে বর্তমান নেতৃত্বের সুনির্দিষ্ট ও আন্তরিক সদিচ্ছা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সেমিনারের ফলো-আপ হিসেবে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা ও উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রাপ্ত আগ্রহপত্রের (এক্সপ্রেশনস অফ ইনটেন্ট) ভিত্তিতে মিডা বিনিয়োগকারীদের একটি পাইপলাইন তৈরির কাজ করবে এবং নীতিগত ও আইনি জটিলতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সাথে সরাসরি কাজ করবে।

উল্লেখ্য, ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৬’-এর অধীনে গঠিত ‘মিডা’ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। কক্সবাজারের মহেশখালী ও মাতারবাড়ীর কৌশলগত গভীর সমুদ্র বন্দরকে কেন্দ্র করে লজিস্টিকস্, জ্বালানি, উৎপাদন শিল্প এবং মৎস্য খাতের সমন্বয়ে এই অঞ্চলকে দেশের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সংস্থাটি।

আজকের সেমিনারটি মৎস্য খাতে কারিগরি ও কৌশলগত বিনিয়োগ সহজীকরণে ‘মিডা-জাইকা’ যৌথ সহযোগিতার একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করল।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম