কারখানায় হাতে-কলমে শেখাচ্ছে বাপা, প্রশিক্ষণ ছড়িয়েছে দেশজুড়ে
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় শিল্পকারখানার বাস্তব পরিবেশে হাতে-কলমে কাজ শিখছেন প্রশিক্ষণার্থীরা।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের দক্ষতা প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে।
অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য দক্ষতা ত্বরান্বিত ও শক্তিশালীকরণ (অ্যাসেট) প্রকল্পের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশিক্ষণ (ইবিটি) কার্যক্রমে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বাপার ১ হাজার ৯১৯টি ব্যাচে ৪৬ হাজার ৫৬ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। ব্যাচভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রার হিসাবে অর্জন শতভাগ।
কারিগরি ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি (টিএসটিপি) এবং শিক্ষানবিশ দ্বৈত-পদ্ধতি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে (এডিটিপি) শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সরাসরি যুক্ত। শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি উৎপাদনপ্রক্রিয়া, যন্ত্রপাতি চালনা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা দেওয়া হচ্ছে।
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মোড়কজাতকরণ যন্ত্র পরিচালনা, খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, বেকারি পণ্য প্রস্তুত, শিল্পপর্যায়ে বেকারি পণ্য প্রস্তুত, খাদ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় পেশায় প্রশিক্ষণ চলছে।
আকিজ-প্রাণসহ শিল্পপ্রতিষ্ঠান সরাসরি প্রশিক্ষণে
ধামরাই ও টঙ্গীর আকিজ কেন্দ্র; নরসিংদী, নাটোর, গাজীপুর, গোদাগাড়ী, হবিগঞ্জ, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও দিনাজপুরের প্রাণ কেন্দ্র; রূপগঞ্জের হাশেম ফুডস; রংপুর, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের টি কে গ্রুপ; মেঘনা, ওয়েল ফুডস, রানি ফুড, ফুলকলি, বনফুল, কিষোয়ান, লালমাই ও দেশবন্ধুর কেন্দ্র এই নেটওয়ার্কে রয়েছে। প্রাণের বগুড়া ও পাবনাসহ বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিটও যুক্ত। আরও আছে প্রাণ-বঙ্গ বেকার্স, মেঘনা নুডলস অ্যান্ড বিস্কুট, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজেস, আকিজ বেকার্স, ড্যানিশ ফুডস, সাজীব, প্যারাগন, ইফাদ, পিওরিয়া ও ফুলকলি ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট। ফলে প্রশিক্ষণ ঢাকা বা একটি শিল্পাঞ্চলে সীমিত নেই।
ধামরাইয়ে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মোড়কজাতকরণ যন্ত্র পরিচালনা, মান নিয়ন্ত্রণ ও বেকারি পণ্য প্রস্তুত শেখানো হচ্ছে।
নরসিংদীর প্রাণ কেন্দ্রে প্রক্রিয়াজাতকরণ, যন্ত্র পরিচালনা ও মান নিয়ন্ত্রণ এবং রূপগঞ্জের হাশেম ফুডসেও এসবের সঙ্গে বেকারি পণ্য প্রস্তুতের প্রশিক্ষণ রয়েছে। রংপুরের প্রাইম পুষ্টিতে শিল্পপর্যায়ের বেকারি পণ্য প্রস্তুতিও অন্তর্ভুক্ত।
মোট প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে নারী ২৬ হাজার ৯৬ জন ও পুরুষ ১৯ হাজার ৯৬০ জন; নারীর অংশ ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং পুরুষের চেয়ে নারী ৬ হাজার ১৩৬ জন বেশি। কার্যক্রমে ৫৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৫৫৮ সদস্যও অংশ নিয়েছেন।
মূল্যায়ন ও কর্মসংস্থান এখন অগ্রাধিকার
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) অধীনে ৩০ হাজার ৮৬০ জন দক্ষতা মূল্যায়নে অংশ নিয়ে ২৮ হাজার ৮৬৫ জন যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন; অর্জনের হার ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। প্রশিক্ষণ শেষ করাকেই চূড়ান্ত সাফল্য বলা হচ্ছে না। চলমান ও সদ্য শেষ ব্যাচের যোগ্যদের মূল্যায়ন সম্পন্ন করা এখন অগ্রাধিকার।
এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৮০৫ জনের চাকরি বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্য রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে প্রাণের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৭ হাজারের বেশি, আকিজে ৫৫৬, মেঘনায় ৪০৮, টি কে গ্রুপে ১ হাজার ১০৪, বনফুল ও কিষোয়ানে ৯১২ এবং হাশেম ফুডসে ২৮৮ জন চাকরি পেয়েছেন।
তবে বিভিন্ন চক্রের প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থান অনুসরণ চলমান থাকায় ২০ হাজার ৮০৫-কে এখনই চূড়ান্ত কর্মসংস্থান ফল বলা হচ্ছে না; তথ্য আরও হালনাগাদ হবে। নিয়মিত চাকরির পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও অন্য আয়মূলক কাজও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদে জাতীয় মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ তৃতীয় ও চতুর্থ স্তর, খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, গৃহস্থালি খাদ্য সংরক্ষণ, বিক্রয় পেশা, বেকারি পণ্য প্রস্তুত ও শিল্পপর্যায়ে বেকারি পণ্য প্রস্তুতের তৃতীয় স্তরের প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। শ্রমবাজার, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চতর দক্ষতায় গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম বলেন, ৪৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রশিক্ষণ এবং মূল্যায়নে ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশের যোগ্যতা অর্জন উৎসাহব্যঞ্জক হলেও লক্ষ্য হলো দক্ষতাকে চাকরি, আত্মকর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে রূপ দেওয়া। সদস্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সংযোগ জোরদার করে যোগ্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
