বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার
প্রবাসীদের সঞ্চয় থেকে চলতি মূলধন ঋণ দেওয়া যাবে
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তারল্য সংকট মোকাবিলায় ব্যাংক থেকে উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন ঋণ দেওয়ার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকগুলো তাদের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে থাকা তহবিলের অর্থ দেশীয় ব্যাংকিং ইউনিটে স্থানান্তর করতে পারবে। ওই অর্থ থেকে ব্যাংক দেশীয় কোম্পানিগুলোকে বা ব্যবসায়ীদের স্থানীয় মুদ্রায় স্বল্প মেয়াদি চলতি মূলধনের জোগান দিতে পারবে। এছাড়াও ওই অর্থ থেকে দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রবাসী, প্রবাসীদের মালিকানাধীন কোম্পানিও ভোক্তা ঋণ খাতে স্থানীয় মুদ্রায় স্বল্প মেয়াদি অর্থায়ন করতে পারবে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত রাখতে হবে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে ব্যক্তিগত ও প্রবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রা আমানত হিসাবে থাকা অর্থ দেশীয় ব্যাংকিং ইউনিটে স্থানান্তর করতে পারবে। সেই অর্থ থেকে পর্যাপ্ত জামানত রেখে দেশীয় কোম্পানি বা উদ্যোক্তাদের স্থানীয় মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি চলতি মূলধন ঋণ দিতে পারবে। পাশাপাশি আলোচ্য অর্থ থেকে ব্যক্তি, প্রবাসী, প্রবাসী উদ্যোক্তা ও ভোক্তা ঋণ খাতেও অর্থায়ন করতে পারবে।
সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ও বেড়েছে। যে কারণে ওইসব ইউনিটে তারল্য প্রবাহও বেশি। ওইসব অর্থের বিনিয়োগ বাড়াতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিছু ব্যাংক ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে তারল্য সংকটে ভুগছে। এতে ওইসব ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতিরও কিছুটা উন্নতি হবে।
প্রবাসীদের সঞ্চয়ের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে উচ্চ হারে মুনাফা দিতে হচ্ছে। এসব অর্থ অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে অলস পড়ে থাকলে ব্যাংকগুলোর কোনো আয় হবে না। উলটো মুনাফা দিতে হবে নিজস্ব তহবিল থেকে। এ সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করে আয় করতে পারবে। সেই আয় থেকে প্রবাসীদের মুনাফা দিতে পারবে। ফলে ব্যাংকের ভারসাম্য রক্ষার সুযোগ ফের বাড়ল।
