Logo
Logo
×
   

অর্থনীতি

আয়কর রিটার্নে যেসব ব্যয়ের তথ্য না দিলে হতে পারে বিপদ

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ পিএম

আয়কর রিটার্নে যেসব ব্যয়ের তথ্য না দিলে হতে পারে বিপদ

বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু আয়, সম্পদ ও দায়ের বিবরণ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। একজন করদাতা সারা বছরে জীবনযাপনের বিভিন্ন খাতে কত টাকা ব্যয় করেছেন, সেই হিসাবও রিটার্নে উল্লেখ করতে হয়। মূলত ঘোষিত আয় ও বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য এসব তথ্য নেওয়া হয়।

আয়কর রিটার্নের আইটি ১১গ (২০২৩) ফরমে জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি খাত রয়েছে। পরিবারের অন্য কোনো সদস্য এসব ব্যয় বহন করলে সেটিও ফরমের মন্তব্যের ঘরে উল্লেখ করার নিয়ম রয়েছে।

পরিবারের ভরণপোষণ

বাজার-সদাইসহ পরিবারের দৈনন্দিন ভরণপোষণে সারা বছরে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তার হিসাব দিতে হয়। এখানে মাসিক খরচ নয়, পুরো বছরের মোট ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে।

বাসাভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণ

বছরে বাসাভাড়া বাবদ কত অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার পাশাপাশি বাড়ি বা বাসার রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হওয়া অর্থের হিসাবও দিতে হয়। এতে করদাতার আয় ও আবাসনসংক্রান্ত ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হয়।

গাড়ি ব্যবহারের ব্যয়

প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল কিংবা অন্য কোনো যানবাহন থাকলে সেগুলোর পেছনে বছরে কত টাকা খরচ হয়েছে, সেটিও রিটার্নে জানাতে হয়। জ্বালানি, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, বিভিন্ন মাশুল এবং চালকের বেতনসহ সংশ্লিষ্ট খরচ এ হিসাবের অন্তর্ভুক্ত।

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিল

বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোন, মোবাইল ও ইন্টারনেটের মতো নিয়মিত বিলও জীবনযাত্রার ব্যয়ের অংশ। তাই বছরজুড়ে এসব খাতে মোট কত অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার হিসাব রাখা প্রয়োজন।

সন্তানদের শিক্ষার খরচ

সন্তানদের স্কুল-কলেজের বেতন, কোচিং এবং অন্যান্য শিক্ষাসংক্রান্ত ব্যয়ের তথ্যও রিটার্নে দিতে হয়। করদাতার ঘোষিত আয়ের তুলনায় শিক্ষার পেছনে ব্যয় অস্বাভাবিক বেশি হলে ওই অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই এসব ব্যয়ের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করা জরুরি।

দেশ-বিদেশে ভ্রমণ

দেশের ভেতরে কিংবা বিদেশে ভ্রমণের সময় যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, সেটিও জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিবরণীতে উল্লেখ করতে হয়। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ভ্রমণসংক্রান্ত খরচ করা হলেও তা হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।

উৎসবের ব্যয়

ঈদ, পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে পোশাক কেনা, বাজারসদাই, স্ত্রী-সন্তান বা আত্মীয়স্বজনের জন্য খরচ এবং কাউকে নগদ অর্থ দেওয়ার মতো ব্যয়ের হিসাবও রিটার্নে দেখাতে হয়।

উৎসে কর্তিত কর ও অন্যান্য কর

বছরজুড়ে বিভিন্ন খাতে উৎসে যে কর কেটে রাখা হয়েছে, তার বিবরণ দিতে হয়। এর পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর্তিত কর এবং আগের বছরের রিটার্নের ভিত্তিতে পরিশোধ করা আয়কর ও সারচার্জের পরিমাণও উল্লেখ করতে হয়।

ঋণের সুদ

ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো উৎস থেকে নেওয়া ঋণের বিপরীতে বছরে কত টাকা সুদ পরিশোধ করা হয়েছে, সেটিও জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিবরণীতে জানাতে হয়।

জীবনযাত্রার এসব ব্যয়ের তথ্যের মাধ্যমে কর কর্মকর্তারা মূলত একজন করদাতার ঘোষিত আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য যাচাই করতে পারেন। ঘোষিত আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বেশি হলে সংশ্লিষ্ট অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা থাকে।

এ কারণে আয়কর রিটার্ন তৈরির সময় সারা বছরের বিভিন্ন খাতে করা ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে রিটার্নে সঠিক তথ্য দেওয়া যেমন সহজ হয়, তেমনি করদাতার আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্যও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা যায়।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম