স্বর্ণের দাম আরও কমবে, নাকি বাড়বে?
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চলতি বছরের শুরুতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ভবিষ্যতে আরও কমবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে স্পট দরে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণ প্রায় ৪ হাজার ৩৪৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। অথচ গত ২৮ জানুয়ারি এর দাম উঠেছিল ৫ হাজার ৬০২ ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় দুই লাখ টাকার কাছাকাছি। খবর বিবিসি বাংলার।
বাংলাদেশেও চলতি বছর স্বর্ণের দাম কয়েক দফা ওঠানামা করেছে। গত ২৪ জুলাই ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার টাকার ঘরে নেমে এলেও বুধবার তা বেড়ে ২ লাখ ৩২ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বর্ণের দাম বৈশ্বিক অর্থনীতি, ডলারের মূল্য, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার, তেলের দাম এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ালে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। ফলে দাম কমতে পারে। অন্যদিকে সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত পেলে স্বর্ণের দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বর্ণের মজুদ বাড়াচ্ছে। যুদ্ধ, ডলারের গ্রহণযোগ্যতা কমে যাওয়া এবং অস্থির বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে প্রতিদিন ওঠানামা হচ্ছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে গড়ে প্রায় এক হাজার টন স্বর্ণ সংগ্রহ করেছে। এর আগের দশকে এই গড় ছিল ৫০০ টন। ফলে দীর্ঘমেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার প্রবণতা দাম বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদে সুদের হার, তেলের দাম ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে স্বর্ণের দাম চাপে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মজুদ বাড়ানোর কারণে দাম আবারও বাড়তে পারে।
অর্থনীতিবিদ ড. আহসান হাবীব বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে ব্যক্তি ও বিভিন্ন দেশ স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বর্ণের দাম আরও অস্থির হতে পারে এবং শিগগিরই আবারও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

