Logo
Logo
×
   

Advertisement

বিনোদন

মধুবালার জীবনে শেষ সময়ের সাক্ষী ছিলেন কিশোর কুমার

Advertisement

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

মধুবালার জীবনে শেষ সময়ের সাক্ষী ছিলেন কিশোর কুমার

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

বলিউড সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে অন্যতম ট্রাজিক এবং অদ্ভুত প্রেমের সম্পর্ক ছিল সংগীত পরিচালক, অভিনেতা-গায়ক কিশোর কুমার ও অভিনেত্রী মধুবালার। ১৯৬০ সালে অভিনেতা দিলীপ কুমারের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর গুরুতর অসুস্থ মধুবালা কিশোর কুমারকে বিয়ে করেন। এটা ভালোবেসে নয়, বরং কথা রাখতে এবং বিয়ের পর ৯ বছর শয্যাশায়ী অভিনেত্রীর সেবায় নিয়োজিত ছিলেন বলে জানান কিশোর কুমার।

তবে সেই সময় এক সাক্ষাৎকারে গায়ক বলেছিলেন, তিনি মধুবালাকে ভালোবাসতেন না। বরং তিনি শুধু তার বন্ধুর প্রেমিকার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

এদিকে অভিনেত্রী মধুবালা যখন জানতে পারেন যে, হৃদরোগে আক্রান্ত এবং বেশি দিন বাঁচবেন না, তখন তিনি কিশোর কুমারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর মধুবালা ৯ বছর শয্যাশায়ী ছিলেন এবং হৃদরোগের কারণে তার কষ্ট ও যন্ত্রণা অনেক বেড়ে যায়। কিশোর কুমার তাকে লন্ডনে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান এবং বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন।

কিন্তু অসুস্থতার কারণে তাদের বিবাহিত জীবনে টানাপোড়েন ছিল। শোনা যায়, জীবনের শেষ বছরগুলোতে কিশোর কুমার খুব কমই মধুবালাকে দেখতে যেতেন, যা মধুবালার যন্ত্রণাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।

তবে বাস্তবজীবনে সম্পর্ক জটিল হলেও পর্দায় তারা ছিলেন জনপ্রিয় জুটি। ‘চলতি কা নাম গাড়ি’, ‘ঝুমরু’ এবং ‘হাফ টিকিট’-এর মতো সিনেমাগুলোতে তাদের রসায়ন দর্শকরা পছন্দ করেছিলেন।

১৯৬৯ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মধুবালার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক টিকে ছিল।

গায়ক কিশোর কুমার ও মধুবালার সম্পর্ক শুধু ভালোবাসা, দায়িত্ব আর ত্যাগের এক অনন্য গল্প ছিল। রুপালি পর্দার বাইরে তাদের বাস্তবজীবনের সেই গল্প অনেক সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়ে দেয়। ভালোবাসা মানে কঠিন সময়েও পাশে থাকা— তাদের সম্পর্ক যেন সেই কথাই প্রমাণ করে দিয়েছিল।

বলিউডের ইতিহাসে প্রেম, কষ্ট আর ত্যাগের গল্প অনেক আছে, কিন্তু কিশোর কুমার এবং মধুবালার সম্পর্ক যেন এক অন্য রকম অধ্যায়। মধুবালার মৃত্যুর ৫৭ বছর পরও তাদের সম্পর্কের গল্প আজও মানুষের মনে গভীর আবেগ জাগায়। মধুবালার মৃত্যুর ৫৭ বছর পরও তাদের সম্পর্কের গল্প আজও মানুষের মনে গভীর আবেগ জাগায়। অনেক বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে কিশোর কুমার তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি খুব কষ্টের কথা বলেছিলেন।

তিনি জানিয়েছিলেন, বিয়ের আগেই তিনি জানতেন যে, মধুবালা খুব অসুস্থ। তার জন্মগত হৃদযন্ত্রের সমস্যা ছিল। চিকিৎসকরা জানতেন যে, তিনি খুব বেশি দিন বাঁচবেন না। তবু কিশোর কুমার তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখেন এবং মধুবালাকে বিয়ে করেন।

সেই সময় কিশোর কুমার আরও বলেন, তিনি জানতেন— মধুবালা মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছেন, তবু তিনি তাকে স্ত্রী হিসেবে নিজের ঘরে নিয়ে আসেন। প্রায় ৯ বছর ধরে তিনি মধুবালার সেবা করেছেন।

তিনি বলেন, মধুবালা ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত মানুষ। একজন এত সক্রিয় মানুষ কীভাবে বছরের পর বছর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী থাকবেন, সেটা মেনে নেওয়া তার পক্ষে খুব কঠিন ছিল।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, কিশোর কুমার সব সময়ে তাকে হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করতেন। কখনো তিনি মধুবালার সঙ্গে হাসতেন, আবার কখনো তার সঙ্গে কাঁদতেন। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি তার পাশে ছিলেন।

হিন্দি সিনেমা জগতের সব থেকে সুন্দরী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের একজন ছিলেন মধুবালা। তিনি খুব দ্রুত চলচ্চিত্র জগতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ‘মোগল-এ-আজম’ সিনেমায় আনারকলি চরিত্রে আজও তার উজ্জ্বল উপস্থিতি। জীবনে সত্তরেরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে কিশোর কুমার শুধু একজন গায়কই ছিলেন না। তিনি অভিনেতা, সংগীত পরিচালক এবং একই সঙ্গে প্রযোজকও ছিলেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম