Logo
Logo
×
   

Advertisement

বিনোদন

রূপালি পর্দা থেকে সিরিয়ার পার্লামেন্টে: কে এই অভিনেত্রী?

Advertisement

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম

রূপালি পর্দা থেকে সিরিয়ার পার্লামেন্টে: কে এই অভিনেত্রী?

বামে রোজিনা লাজকানি, ডানে আহমেদ আল-শারা। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে সিরিয়া। দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে নতুন সংসদ গঠন করেছে। আর সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন সিরিয়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী, মডেল ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব রোজিনা লাজকানি। অভিনয়জগতের পরিচিত মুখ এবার আইনপ্রণেতা হিসেবে দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে অংশ নিতে যাচ্ছেন।

নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা গঠিত প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন পিপলস অ্যাসেম্বলি বা সংসদে রোজিনা লাজকানিকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি কোনো নির্বাচনে অংশ নিয়ে নয়, বরং প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে মনোনীত ৭০ জন বিশিষ্ট নাগরিকের একজন হিসেবে সংসদে স্থান পেয়েছেন।

নতুন রাজনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সিরিয়ায় ২১০ সদস্যের একটি নতুন সংসদীয় কাঠামো চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন, আর বাকি এক-তৃতীয়াংশকে সরাসরি মনোনয়ন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এই মনোনীত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সংস্কৃতিকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, গৃহযুদ্ধে নিহতদের স্বজন, সাবেক রাজনৈতিক বন্দী এবং রাসায়নিক হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা। এ তালিকায় স্থান পাওয়া ১৫ জন নারী সদস্যের একজন রোজিনা লাজকানি। নতুন সংসদে মোট নারী সদস্যের সংখ্যা ২১ জন।

১৯৯০ সালে দামেস্কে জন্ম নেওয়া রোজিনা লাজকানি সংস্কৃতিমনা একটি পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তিনি হায়ার ইনস্টিটিউট অব ড্রামাটিক আর্টস থেকে সিনোগ্রাফি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচ, গান এবং বিভিন্ন আরবি উপভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলার দক্ষতাও তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।

২০১৩ সালে ‘ওয়েটিং’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নির্মাতাদের নজরে আসেন। এরপর ‘ইনটেনসিভ কেয়ার’ (২০১৫), ‘শৌক’ (২০১৭), ‘মা ফিয়ি’ (২০১৯), ‘আল-হায়বা: দ্য পেব্যাক’ (২০২০) এবং ‘তাহত এল আরদ’ (২০২৫)-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেন। বিশেষ করে ‘আল-হায়বা’ সিরিজে অভিনয়ের সুবাদে তিনি আরব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

শুধু অভিনয়েই নয়, রাজনৈতিক অবস্থানেও ছিলেন স্পষ্টভাষী। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যাওয়া সিরীয় বিপ্লবের প্রকাশ্য সমর্থক ছিলেন রোজিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি শুরু থেকেই আসাদবিরোধী অবস্থান নেন এবং বিপ্লবের প্রতি সমর্থন জানান।

৮ ডিসেম্বর আসাদ সরকারের পতনের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করে ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন। অনেকের মতে, গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পক্ষে তার দৃঢ় অবস্থান নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে তাকে একজন গ্রহণযোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর রোজিনা লাজকানি এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে তিনি সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সিরিয়ার পুনর্গঠন, উদ্বাস্তুদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন এবং জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে সংস্কৃতি ও শিল্পের বিকাশে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।

রূপালি পর্দার জনপ্রিয় মুখ থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য— রোজিনা লাজকানির এই যাত্রা শুধু একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং নতুন সিরিয়ার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম