Logo
Logo
×
   

Advertisement

বিনোদন

‌‘আমি চাই, আমার কোনো শত্রুও যেন এ রকম পরিস্থিতিতে না পড়ে’

Advertisement

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:০৫ এএম

‌‘আমি চাই, আমার কোনো শত্রুও যেন এ রকম পরিস্থিতিতে না পড়ে’

অভিনেত্রী জয়া আহসান।

Advertisement

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানকে কেন্দ্র করেই বড়পর্দায় ফিরছে পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলীর আলোচিত সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। এ সিনেমাটি আজ মুক্তি পাচ্ছে। ২০২৩ সালের সফল সিনেমা ‘অর্ধাঙ্গিনী’র দ্বিতীয় কিস্তি এটি। চেনা চরিত্রগুলো ফিরছে অচেনা মোড় নিয়ে। কিছু দিন ধরে প্রচারে তাই বৃষ্টি-ঘামে ভিজছেন নির্মাতা-শিল্পীরা।

এর আগে বহুল প্রশংসিত ‘অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমার এটি দ্বিতীয় কিস্তি। এ সিনেমায়ও জয়ার চরিত্র ঘিরে নির্মিত হয়েছে। প্রথম পর্বে অভিনেত্রীর অভিনয় সিনেমাপ্রেমী দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। নতুন কিস্তিতেও তার চরিত্রের আবেগ, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং জীবনের নানা দ্বন্দ্বই গল্পের মূল চালিকাশক্তি হবে। 

এ ছাড়া প্রথম পর্বের সিনেমার সাফল্য এবং জয়া আহসানের জনপ্রিয়তার কারণে দ্বিতীয় পর্ব ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ নিয়ে এরই মধ্যে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সম্পর্কের সূক্ষ্ম অনুভূতি ও মানুষের অন্তর্গত দ্বন্দ্ব কেন্দ্র করে নির্মিত এ সিনেমাটি আবারও দর্শকদের  মন ছুঁয়ে যাবে বলেই প্রত্যাশা নির্মাতার। 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমা প্রসঙ্গে পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলী বলেন, প্রথম সিনেমা নির্মাণের সময় থেকেই দ্বিতীয় পর্বের ভাবনা তার মাথায় ছিল। তবে দর্শকদের ভালোবাসা ও অভূতপূর্ব সাড়াই সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে অনুপ্রাণিত করেছে।

এ নির্মাতা বলেন, ‘অর্ধাঙ্গিনী’ মুক্তির পর তিনি যেখানেই গেছেন, সেখানেই সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা শুনেছেন। দর্শকদের এমন আগ্রহ তার প্রত্যাশারও বাইরে ছিল। একই সময়ে বড় বাজেটের একটি জনপ্রিয় সিনেমা মুক্তি পেলেও ‘অর্ধাঙ্গিনী’ দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।

তিনি বলেন, একটি সিনেমা অনেকটা গাছের মতো। নির্মাতা শুধু বীজ বপন করতে পারেন, কিন্তু সেটি বড় হয়ে ওঠে দর্শকের ভালোবাসা, গ্রহণযোগ্যতা ও সমর্থনে। সেই ভালোবাসার ফল হিসেবেই এবার আসছে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’।

কৌশিক গাঙ্গুলী বলেন, নতুন সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হবে সম্পর্কের জটিলতা, অতীত ও বর্তমানের টানাপোড়েন এবং মানুষের না-বলা অনুভূতিকে ঘিরে। অতীত কখনো মুছে যায় না— এ উপলব্ধিই সিনেমাটির অন্যতম ভিত্তি।‘অর্ধাঙ্গিনী’র দুই পর্বেই জয়া আহসানের সঙ্গে জুটি হয়ে কাজ করেছেন চূর্ণী গাঙ্গুলি। তারা দুজনেই ভালো করেছে।

নারীকেন্দ্রিক চরিত্র প্রসঙ্গে এ নির্মাতা বলেন, পর্দায় নারীর অনুভূতি, মনস্তত্ত্ব ও জীবনসংগ্রাম তুলে ধরতে তিনি সবসময় আগ্রহী। নারী চরিত্রের গভীরতা অন্বেষণ একজন নির্মাতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।

'আজও অর্ধাঙ্গিনী' সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা জয়া আহসান প্রচারে ব্যস্ত। কাকভেজা শহরে ছুটতে গিয়ে ঝক্কি পোহাতে হয়। ঠাণ্ডা লেগেছে অভিনেত্রীর। আপাতত তাই ওষুধকে সঙ্গী করে দায়িত্ব সামলে নেওয়ার চেষ্টা। অসুস্থতার সঙ্গে মন খারাপও আছে বৈকি! এদিক-ওদিক ছোটাছুটির ফাঁকে টের পাচ্ছেন দর্শকদের আগ্রহ? দর্শক ভীষণ আগ্রহী। অস্থির হয়ে আছে সিনেমাটি দেখার জন্য। আগেরটা সবাই পছন্দ করেছিল, আর এবার ট্রেলারটা দেখার পর মনে হচ্ছে সবার আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে বলে জানান জয়া আহসান। তিনি বলেন, যেসব হলে চূড়ান্ত হয়েছে, সেগুলোতে অলরেডি সব শো হাউজফুল হয়ে গেছে। হলের পুরো তালিকা এলে তবেই তো দর্শক টিকিট সংগ্রহ করতে পারবে। 

তিন বছর পর ‘অর্ধাঙ্গিনী’দের ফেরা। হাঁড়ির খবর তো আর জানতে চাওয়া চলে না। কিন্তু হাঁড়িতে নতুন রসদ কী, সেটুকু নিশ্চয়ই বলা যায়? রহস্য জিইয়ে কিংবা আরেকটু বাড়িয়েই উত্তরটা দিলেন ‘দেবী’খ্যাত অভিনেত্রী জয়া আহসান, ‘একটাই কথা বলতে পারি— এবার ডোজটা একটু কড়া।’

বলতে দ্বিধা নেই, নির্মাতা কৌশিক গাঙ্গুলির ছবি দিয়েই ওপার বাংলায় অনন্য অবস্থান গড়ে নিয়েছেন জয়া আহসান। তার ‘বিসর্জন’, ‘বিজয়া’ কিংবা ‘অর্ধাঙ্গিনী’ ছবিগুলো জয়াকে নিয়ে গেছে মুগ্ধতার শিখরে। এ নির্মাতা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, তিনি (কৌশিক গাঙ্গুলি) অত্যন্ত গুণী নির্মাতা ও অভিনেতা। এর পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও অনন্য। আমার মনে হয়, চিত্রনাট্য সম্পর্ক বিল্ডআপের ক্ষেত্রে পিএইচডির ওপরেও যদি কোনো ডিগ্রি থাকে, সেটার অধিকারী কৌশিক দা।

তিনি বলেন, ‌আজও অর্ধাঙ্গিনী সিনেমায় এমন কিছু কৌতূহলের পারদ রয়েছে, যা এক লাফে আকাশ ছুঁতে পারে। এ সিনেমায় কিছু জটিল ও স্পর্শকাতর মোড় আছে; আমি চাই, আমার কোনো শত্রুও যেন এ রকম পরিস্থিতিতে না পড়ে।

উল্লেখ্য, অভিনেত্রী জয়া আহসান ছাড়াও ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন চূর্ণী ও কৌশিক সেন, অম্বরিশ ভট্টাচার্য, লিলি চক্রবর্তী, ইন্দ্রাশিস রায়, রায়া ভট্টাচার্য, ডিম্পল আচার্য প্রমুখ। 

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম