Logo
Logo
×
   

বিনোদন

লন্ডনে পিটবুলের কনসার্টে গিনেস রেকর্ড, ২২ হাজার দর্শক পরলেন ‘টাক টুপি’

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

লন্ডনে পিটবুলের কনসার্টে গিনেস রেকর্ড, ২২ হাজার দর্শক পরলেন ‘টাক টুপি’

লন্ডনে পিটবুলের কনসার্টে গিনেস রেকর্ড, ২২ হাজার দর্শক পরলেন ‘টাক টুপি’। সংগৃহীত ছবি

৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তীব্র গরমে মাথায় আঁটসাঁট প্লাস্টিকের টুপি পরা খুব একটা আরামদায়ক বিষয় নয়। তবু লন্ডনের হাইড পার্কে ২২ হাজার ১৪১ জন মানুষ ঠিক এই কাজটিই করেছেন। পরনে ছিল সাদা শার্ট, কালো টাই এবং এভিয়েটর রোদচশমা। বিএসটি ফেস্টিভ্যালের মূল আকর্ষণ র‍্যাপার পিটবুলকে সম্মান জানাতে এবং সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের টাক টুপি পরার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়তেই তাদের এই অদ্ভুত আয়োজন।

কালো স্যুট পরে রেকর্ড ভাঙার এই স্বীকৃতি গ্রহণ করার সময় এই র‍্যাপার বলেন, আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কে ভেবেছিল প্রথম প্রজন্মের একজন কিউবান এভাবে রেকর্ড ভাঙবে এবং গড়বে?

পিটবুল নিজেও টাক মাথার অধিকারী, কিন্তু রেকর্ডের অংশ হতে তাকেও একটি 'টাক টুপি' পরতে হয়েছিল। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অফিশিয়াল বিচারক উইল মুনফোর্ডের মতে, এটি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক টাক মানুষের সমাবেশের কোনো রেকর্ড ছিল না। তাই 'মিস্টার ওয়ার্ল্ডওয়াইড' (র‍্যাপারের ডাকনাম) হিসেবে পরিচিত পিটবুলকেও রেকর্ডভুক্ত হতে এই টুপি পরতে হয়েছে।

মুনফোর্ড জানান, সঠিক ফলাফল নিশ্চিত করতে প্রবেশদ্বার ও অনুষ্ঠানস্থলে ৪০০ জন স্বেচ্ছাসেবক ব্যক্তিগতভাবে সবাইকে চেক করেছেন এবং ব্যাকস্টেজে ৪২ জন গণনাকারীর সাহায্যে ড্রোন ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

কনসার্টের আগে এই টুপির চাহিদা এতই বেড়ে গিয়েছিল যে, অনেকেই শেষ মুহূর্তে এটি জোগাড় করতে হিমশিম খেয়েছেন। ৩০ বছর বয়সি লুসি তার সেরা বন্ধু হান্নাহর সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো পিটবুলের কনসার্টে এসেছিলেন। 

তিনি বলেন, এই সপ্তাহে আমি তিনটি ভিন্ন ফ্যান্সি ড্রেসের দোকানে গিয়েছিলাম, কিন্তু সব জায়গায় টুপি শেষ হয়ে গিয়েছিল। লুসি ভয় পাচ্ছিলেন যে, টাক টুপির এই বিশাল সমুদ্রে আমরাই হয়তো একমাত্র টুপি ছাড়া থাকব। মনে হচ্ছিল, এটি যেন ৬০ হাজার মানুষের মধ্যকার নিজেদের একটি দারুণ মজার জোকস।

এই বিশ্ব রেকর্ড গড়ার ধারণাটি পিটবুল, বিএসটি বা গিনেস কর্তৃপক্ষের কারও মাথা থেকেই আসেনি; এর শুরুটা করেছিলেন একজন ভক্ত।

পডকাস্ট হোস্ট ও সাংস্কৃতিক বিশ্লেষক জ্যাক রেমিংটন মজা করে বলেন, এই পুরো ঘটনাটি আমার জন্যই ঘটেছে। গত বছর বিএসটি যখন পিটবুলের পারফরম্যান্সের ঘোষণা দেয়, তখন রেমিংটন টিকটকে একটি মজার ভিডিও পোস্ট করে বলেছিলেন, বিএসটি-র ৬৫ হাজার ধারণক্ষমতা পিটবুলের মতো সাজা মানুষদের দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার জন্য অনায়াসেই যথেষ্ট।

ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয় এবং শিগগিরই রেমিংটন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এবং বিবিসি রেডিও ১-এর গ্রেগ জেমসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা পিটবুলকে মেসেজ পাঠিয়ে জানতে চান যে তিনি এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত কিনা। 'মিস্টার ওয়ার্ল্ডওয়াইড' আনন্দের সঙ্গেই উত্তর দিয়েছিলেন, 'দেল!' (স্প্যানিশ ভাষায় যার অর্থ 'এগিয়ে যাও' বা 'শুরু করো', যা তার একটি অ্যালবামেরও নাম)।

মুনফোর্ড বলেন, এই রেকর্ডটি শুধু চমক সৃষ্টির জন্য নয়। এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার কারণ হলো—এত বিশাল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ এবং এমন অনেক মানুষ রেকর্ড গড়ার অংশ হতে পেরেছেন, যারা হয়তো আগে কখনো এমন সুযোগ পাননি। পিটবুলের মতো সাজগোজ করার এই ইন্টারনেটভিত্তিক ট্রেন্ডটি আগে থেকেই বেশ জনপ্রিয় ছিল, যা এই রেকর্ড গড়তে সাহায্য করেছে।

পিটবুলের অনুকরণ করার এই ট্রেন্ডটি ২০২১ সালে শুরু হয়েছিল, যখন কয়েকজন ভক্ত তাকে মজা করে নকল করে কনসার্টে এসেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি ভাইরাল ভিডিওর সুবাদে এটি দ্রুত একটি বিশাল ফ্যান মুভমেন্টে পরিণত হয় এবং এখন 'মিস্টার ওয়ার্ল্ডওয়াইড'-এর শো-তে তার মতো সেজে আসাটাই যেন অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিউবান-আমেরিকান এ র‍্যাপার এই বিষয়টিকে সাদরে গ্রহণ করে তার ভক্তদের নাম দিয়েছেন 'দ্য বাল্ডিস'। এমনকি তিনি নিজের ওয়েবসাইটে অফিশিয়াল 'মিস্টার ওয়ার্ল্ডওয়াইড কিট' এবং টাক টুপি যথাক্রমে ৪০ ও ১০ পাউন্ডে বিক্রি করছেন। যার দুটিই এখন সোল্ড আউট।

শাওনা (যিনি টাক টুপি পরেছিলেন) এবং জ্যাক (যার মাথায় সত্যিই টাক), ৩৩ বছর বয়সি এই দুই বন্ধু পিটবুলের অন্ধ ভক্ত নন, তবে তারা এসেছিলেন নস্টালজিক ও বাঁধভাঙা আনন্দের একটি রাত কাটানোর আশায়।

শাওনা বলেন, কোনো কনসার্টে দেখা এটি আমার সবচেয়ে কম অহংকারী দর্শকসারি। পৃথিবী আক্ষরিক অর্থেই পুড়ছে, তাহলে কেন আমি মাথায় একটা টাক টুপি পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোর সেই প্রিয় পপ গানগুলোর তালে নেচে একটু ভালো অনুভব করব না?

সূর্য অস্ত যাওয়ার পর র‍্যাপার যখন মঞ্চে ওঠেন, তখন হাজার হাজার অনুকরণকারীকে তার সঙ্গে প্রতিটি গানের কলি গাইতে দেখে তিনি দৃশ্যতই অবাক হয়ে যান। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের স্বীকৃতি দিয়ে তিনি বলেন, লন্ডনে 'বাল্ডিস'দের দেখা পাওয়া আমার জন্য এক আশীর্বাদ এবং সম্মানের বিষয়।

সূত্র: দি গার্ডিয়ান

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .