Logo
Logo
×
   

বিনোদন

আমির খানকে যেভাবে ‘গজনি’ ছবিতে রাজি করিয়েছিলেন সদ্য প্রয়াত প্রদীপ রাওয়াত

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

আমির খানকে যেভাবে ‘গজনি’ ছবিতে রাজি করিয়েছিলেন সদ্য প্রয়াত প্রদীপ রাওয়াত

আমির খান ও প্রদীপ রাওয়াত। ছবি: সংগৃহীত

কোনো কোনো অভিনেতার জন্য একটিমাত্র চরিত্রই যথেষ্ট হয়ে ওঠে সারাজীবনের খ্যাতি ও পরিচিতি এনে দেওয়ার জন্য। সদ্য প্রয়াত অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত—যিনি তামিল ও তেলুগু ‘গজনি’ ছবিতে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন—তিনিই মূলত এ. আর. মুড়ুগাদোসের হিন্দি রিমেকটিতে আমির খানকে মূল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য রাজি করিয়েছিলেন। 

কীভাবে তিনি আমিরকে সম্মত করেছিলেন, সে গল্পটিও বেশ চমৎকার।

দুই বছর আগে সিদ্ধার্থ কান্নানের সঙ্গে এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে প্রদীপ রাওয়াত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছিলেন, কীভাবে এস. এস. রাজামৌলির সিনেমার সেটে তার সঙ্গে মুড়ুগাদোসের পরিচয় হয় এবং কীভাবে তিনি আমির খানকে ছবিটিতে যুক্ত করেছিলেন।

প্রদীপ রাওয়াত স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘তখন তেলুগু সিনেমায় আমি ইতোমধ্যেই বেশ সফল। ‘লাগান’ সিনেমা দেখে এস. এস. রাজামৌলির সহকারী আমাকে খুঁজে বের করার জন্য একটি এজেন্সিকে দায়িত্ব দেন। 

রাজামৌলির দ্বিতীয় সিনেমা ‘সাই’-এর জন্য আমাকে অডিশন দিতে বলা হয়। এটি ছিল রাগবি খেলার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত সিনেমা, যা বিশ্বের অন্যতম কঠিন খেলা। তাছাড়া চরিত্রটি ছিল একজন কলেজপড়ুয়া ছেলের। যখন আমি নির্বাচিত হলাম, রাজামৌলি আমার বয়সের সঙ্গে মেলাতে চরিত্রটিকে একজন গুন্ডা বা মাওয়ালির চরিত্রে বদলে দিলেন।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘হায়দরাবাদে যখন আমি ওই ছবির শুটিং করছিলাম, তখন খেয়াল করলাম একজন লোক আমার মেকআপ রুমের দরজার পেছন থেকে উঁকি দিয়ে আমাকে দেখছেন এবং কিছু না বলেই চলে যাচ্ছেন। দু-তিনবার এমন হওয়ার পর আমি আমার সহকারীকে জিজ্ঞেস করি, ‘উনি কে?’ তখন সেই ব্যক্তি নিজেই উত্তর দেন, ‘স্যার, আমি এ. আর. মুড়ুগাদোস। আমি একজন পরিচালক।’ 

প্রদীপ রাওয়াত জানান, সে সময় এ. আর. মুড়ুগাদোস ইংরেজি বা হিন্দি বলতে পারতেন না; এমনকি একজন পরিচালকের যেমন ব্যক্তিত্ব বা উপস্থিতি থাকে, তার তাও ছিল না। যেহেতু প্রদীপ ইতোপূর্বে সালমান খানের সঙ্গে কাজ করেছিলেন, তাই পরিচালক প্রথমদিকে সালমানকেই ‘গজনি’র প্রধান চরিত্রে নিতে চেয়েছিলেন। 

‘সালমান খান একটু রাগী স্বভাবের, তাই আমার মনে হয়েছিল এ. আর. মুড়ুগাদোসের সঙ্গে তার কাজের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হতে পারে। অন্যদিকে আমিরকে আমি ২৫ বছর ধরে চিনি। আমি কখনো তাকে কারো ওপর চিৎকার করতে দেখিনি, তিনি কখনো গালিগালাজও করেন না। তাই আমি আমিরের কথা চিন্তা করি এবং তার কাছে যাই,’ স্মরণ করেন রাওয়াত।

প্রদীপ রাওয়াত প্রথমে আমির খানকে জানান যে, তিনি তাকে একটি তামিল সিনেমা দেখাতে চান। কিন্তু তিনি মূল চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন—এ কথা তিনি শুরুতেই ঘুণাক্ষরেও আমিরকে বুঝতে দেননি। 

পরবর্তীতে কেবল সিনেমা দেখার অজুহাতে তিনি আমিরকে তামিল ‘গজনি’ দেখান। ছবির গল্প ও চরিত্র নির্মাণ দেখে মুগ্ধ হয়ে আমির নিজেই ছবিটি হিন্দিতে পুনর্নির্মাণের বিষয়ে আগ্রহ দেখান। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রদীপ রাওয়াত প্রকাশ করেন যে, এর মূল পরিচালক মুড়ুগাদোস নিজেই তাকে নিয়ে হিন্দি সংস্করণটি তৈরি করতে চান—আর এভাবেই হিন্দি ‘গজনি’র জন্ম হয়। 

উল্লেখ্য, ক্যানসারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ৭৪ বছর বয়সে মারা গেছেন প্রদীপ রাওয়াত। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ দিন আগে তাকে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধিরুভাই আম্বানি হাসপাতাল থেকে ভিওয়ান্ডির একটি ক্যানসার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে বিক্রমাদিত্যকে রেখে গেছেন। 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .