Logo
Logo
×
   

Advertisement

বিনোদন

বাবার মারধর সইতে না পেরে ৫০০ রুপি পকেটে ঘর ছাড়েন রবি কিষাণ, এরপর যা হলো…

Advertisement

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

বাবার মারধর সইতে না পেরে ৫০০ রুপি পকেটে ঘর ছাড়েন রবি কিষাণ, এরপর যা হলো…

ভারতীয় অভিনেতা রবি কিষাণ। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

পর্দার হাসিখুশি চেহারা আর দুর্দান্ত অভিনয় দিয়ে যিনি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন, সেই ভোজপুরি ও বলিউড তারকা তথা সংসদ সদস্য রবি কিষাণের শৈশব ছিল চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনে ভরা। সম্প্রতি ভারতের জনপ্রিয় পডকাস্টার রাজ শামানির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা তার শৈশবের নানা অজানা ও মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।

বাবার হাতে নিত্যদিনের নির্যাতন 

রবি কিষাণের বাবা ছিলেন একজন পুরোহিত। বাবার কঠোর অনুশাসনের মধ্যে বেড়ে ওঠা রবি ছোটবেলা থেকেই বাবার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। রবি জানান, ছোটবেলায় ঈশ্বরে বাবার অন্ধ ভক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এবং রামলীলায় দেবী সীতার চরিত্রে অভিনয় করার কারণে তার বাবা তাকে প্রায় প্রতিদিনই মারধর করতেন। 

তবে সেই নির্মমতাকেও অন্যভাবে দেখতেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা কখনো মুখে তার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারতেন না। আমরা কখনো পরস্পরকে জড়িয়ে ধরিনি। তাই তিনি যখন আমাকে মারতেন, আমি ভাবতাম এটাই হয়তো আমার সঙ্গে যোগাযোগের বা ভালোবাসা প্রকাশের তার নিজস্ব উপায়।’ 

৫০০ টাকা নিয়ে বাড়ি ত্যাগ 

বাবার ইচ্ছা ছিল রবি চাষাবাদ করুক, দুধ বিক্রি করুক কিংবা কোনো সরকারি চাকরি করুক; কিন্তু অভিনয় বা নাচ তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারতেন না। একদিন নির্যাতনের মাত্রা সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। 

রবি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘একদিন বাবা আমাকে এমনভাবে মারধর করেন যে মনে হচ্ছিল চামড়া উঠে যাবে। সেদিন আমার মা আমাকে বাঁচান। তিনি আমাকে ৫০০ টাকা হাতে দিয়ে বলেন, ‘তুমি এখনই চলে যাও, নইলে ও আজ তোমাকে মেরেই ফেলবে।’ মায়ের সেই ৫০০ টাকা সম্বল করে রবি কিষাণ ঘর ছাড়েন এবং তারকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাই পাড়ি জমান। 

দীর্ঘ সংগ্রাম ও শেষ বয়সে বাবার ক্ষমা প্রার্থনা

মুম্বাইয়ে শুরুর দিনগুলো ভীষণ কষ্টে কেটেছে রবির। ঠিকমতো খাবার বা ভালো পোশাক ছিল না। কিন্তু নিজের স্বপ্নের ওপর তার অটুট বিশ্বাস ছিল। ৩৩ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামের পর তিনি একের পর এক সফলতা পেতে শুরু করেন এবং একজন প্রতিষ্ঠিত তারকা হয়ে ওঠেন।

সফলতা পাওয়ার পর রবি তার বাবাকে সব ধরনের আরাম-আয়েশ ও বিলাসী জীবন এনে দেন। একদিন তার বাবা কেঁদে ফেলেন এবং ছেলের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমি তোমাকে চিনতে ভুল করেছিলাম।’ রবি কিষাণ বাবাকে ক্ষমা করে দিয়ে বলেন, ‘আপনিই আমার ঈশ্বর, আপনার শেখানো কঠোর অনুশাসনই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।’ 

শৈশবের গভীর ট্রমা ও ক্ষত সত্ত্বেও, জীবনের শেষ দিনগুলোতে বাবার সঙ্গে একটি মধুর সম্পর্ক তৈরি করতে পেরেছিলেন এই জনপ্রিয় তারকা। 

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম