বাবার মৃত্যু হয়েছে প্রস্টেট ক্যানসারে, সচেতন অক্ষয় কুমার
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
বলিউডের খিলাড়িখ্যাত অভিনেতা অক্ষয় কুমার বাবাকে হারিয়েছেন ক্যানসারে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নিজেদের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে এখনো অস্বস্তিবোধ করেন অনেক পুরুষই। আর সেই নীরব থাকাটাই অনেক সময় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি অক্ষয় নিজের জীবনকাহিনি শুনিয়ে সবাইকে সতর্ক করার চেষ্টা করলেন।
বলিউডের খিলাড়িখ্যাত অভিনেতা অক্ষয় কুমার বাবাকে হারিয়েছেন ক্যানসারে। সেই ২০০০ সালের ঘটনা। আজ ২৬ বছর আগে। সেই সময় পুরুষের মধ্যে সাধারণ ক্যানসার নিয়ে সচেতনতার অভাব দেখে ভীত অক্ষয় কুমার। তাই সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে প্রস্টেট ক্যানসার নিয়ে সতর্ক করলেন বলিউড তারকা। তার একটিই আর্জি— বছরে একবার করে প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন (পিএসএ) পরীক্ষা করানো উচিত।
নিজেদের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে এখনো অস্বস্তিবোধ করেন অনেক পুরুষই। আর সেই নীরব থাকাটাই একটা সময় বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি অক্ষয় কুমার নিজের জীবনকাহিনি শুনিয়ে সবাইকে সতর্ক করার চেষ্টা করেন। তিনি নিজে পরে জেনেছেন, ৫০-এ পা দেওয়ার পর থেকেই বছরে একবার করে পিএসএ পরীক্ষা করানো উচিত। কারণ এ রোগের কবলে পড়েই তার বাবার মৃত্যু হয়েছে।
সেই সময় এ অভিনেতার বাবার বয়স ছিল ৬৭ বছর। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বলেন, এই রোগের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার এবং নিয়মিত পরীক্ষা করানো উচিত। এভাবে কেবল নিজের নয়, পরিবারেরও জীবন বাঁচানো যাবে বলে জানান এ খিলাড়িখ্যাত অভিনেতা।
প্রস্টেট ক্যানসার পুরুষের মধ্যে অন্যতম সাধারণ ক্যানসার। প্রস্টেট গ্রন্থি পুরুষ প্রজননতন্ত্রের একটি ছোট গ্রন্থি, যা মূত্রথলির নিচে এবং মলদ্বারের সামনে অবস্থিত। এটি বীর্য তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় তরল উৎপন্ন করে থাকে। সমস্যা হলো— এই অঙ্গের ক্যানসারে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই থাকে না। ফলে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে, যখন চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে যায়। কিন্তু সময়মতো শনাক্ত করা গেলে শুশ্রুষার পথ সহজ হয়। তাই একটি সাধারণ রক্তপরীক্ষা করানো উচিত বছরে একবার।
সাধারণত এ পরীক্ষায় প্রস্টেটের স্বাস্থ্যের সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। রক্তে পিএসএর মাত্রা বেশি হলে সেটি প্রস্টেট ক্যানসারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত হতে পারে। যদিও অন্য আরও একাধিক কারণেও এটি বাড়তে পারে। তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হয় বা পরবর্তী চিকিৎসা শুরু করাতে হয়।
এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলেন, ৫০ বছরের পর নিয়মিত এ পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। কারণ এতে ক্যানসার অনেক আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এ ছাড়া ডিজিটাল রেক্টাল পরীক্ষা করানো হয়। এ ক্ষেত্রে মলদ্বার দিয়ে প্রস্টেট গ্রন্থি পরীক্ষা করা হয়। এতে কোনো স্ফীতি বা শক্ত অংশ রয়েছে কিনা, তা দেখা হয়।
প্রস্টেট ক্যানসারের শুরুতে অনেক সময়ে কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে ধীরে ধীরে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যেমন—
- প্রস্রাবের গতি কমে যাওয়া
- বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা, বিশেষ করে রাতে
- প্রস্রাবের সময় ব্যথা
- প্রস্রাবে রক্ত দেখা দেওয়া

