Logo
Logo
×
   

বিনোদন

বাংলার মহানায়ক বুলবুলের আজ জন্মদিন

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

বাংলার মহানায়ক বুলবুলের আজ জন্মদিন

ঢালিউডের ‘মহানায়ক’খ্যাত অভিনেতা বুলবুল আহমেদের আজ জন্মদিন। ১৯৩৯ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক আগামসি লেনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা খলিল আহমেদ ও মাতার এই অষ্টম সন্তান ছিলেন তাবাররুক আহমেদ। তবে পারিবারিক ভালোবাসায় তিনি হয়ে ওঠেন সবার প্রিয় ‘বুলবুল’। শেষে রুপালি পর্দায়ে এসে হয়ে যান বুলবুল আহমেদ।

বাংলা সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ও রুপালি পর্দার এ অভিনেতা একসময় ব্যাংকে চাকরি করছিলেন। সেই চাকরি ফেলে অভিনয়ের খাতায় নাম লেখান তিনি।  

কারণ বুলবুলের রক্তেই যেন ছিল অভিনয়ের বীজ। বাবা খলিল আহমেদ ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তানের অর্থ বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারি। এর পাশাপাশি ছিলেন স্বনামধন্য নাট্যকার ও অভিনেতা। তাদের পুরান ঢাকার বাড়িতেই বসত তৎকালীন বিখ্যাত শিল্পীদের নাটকের মহড়া। 

কাজী খালেক, কথাশিল্পী ও অভিনেতা নারায়ণ চক্রবর্তী, আয়েশা আক্তার, রানী সরকার কিংবা মোহাম্মদ আনিসের মতো গুণী শিল্পীদের অভিনয় কিশোর বুলবুলকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। পুরান ঢাকার মাহবুব আলি ইনস্টিটিউশনে বাবার নির্দেশিত নাটক দেখেই ধীরে ধীরে তার মনে সঞ্চারিত হয় অভিনয়ের দুর্বার তৃষ্ণা।

শিক্ষাজীবনে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কলেজিয়েট স্কুল ও নটর ডেম কলেজে পড়াশোনা করেন বুলবুল আহমেদ। পরে সিলেট এমসি কলেজেও কিছু দিন অধ্যায়ন করেন তিনি। সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিরকুমার সভা’ নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে পুরো কলেজের নজর কাড়েন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন বুলবুল। পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনে তৎকালীন ইউবিএল ব্যাংকের টিএসসি শাখায় টানা ১০ বছর সফলতার সঙ্গে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ব্যাংকের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি ১৯৬৪ সালে আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘বরফ গলা নদী’ নাটকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় পা রাখেন এ 'মহানায়কখ্যাত' অভিনেতা। এরপের একাধারে মঞ্চ, বেতার, টিভি, চলচ্চিত্র, আবৃত্তি ও উপস্থাপনায় নিজের বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। 

১৯৭২ সালে পরিচালক আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমামের অনুপ্রেরণায় ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে সিনেমায় যুক্ত হন এ অভিনেতা। এরপর ‘ইয়ে করে বিয়ে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথম নায়ক হিসেবে বড়পর্দায় তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘অঙ্গীকার’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’র মতো দর্শকপ্রিয় সিনেমা তিনি উপহার দেন অবিস্মরণীয় অভিনয়।

১৯৮৭ সালে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘দেবদাস’ সিনেমায় শরৎচন্দ্রের অমর সৃষ্টি ‘দেবদাস’ চরিত্রে অভিনয় করে ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী আসন করে নেন বুলবুল আহমেদ। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি নির্দেশনায়ও সফল ছিলেন তিনি। তার পরিচালিত ও প্রযোজিত ছবিগুলোর মধ্যে ‘ওয়াদা’, ‘মহানায়ক’, ‘ভালো মানুষ’, ‘রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত’, ‘আকর্ষণ’, ‘গরম হাওয়া’ ও ‘কত যে আপন’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মঞ্চ নাটক ‘মালঞ্চ’, ‘মাল্যদান’, ‘বড়দিদি’, ‘আরেক ফাল্গুন’, ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’ এবং ফিওদর দস্তয়েভস্কির উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘ইডিয়েট’ নাটকে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসিত হন। 

উল্লেখ্য, ৪৪ বছরের সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে বুলবুল আহমেদ প্রায় ৩০০ টিভি নাটক এবং দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ‘দুই নয়নের আলো’ এবং ২০০৯ সালে নির্মিত ‘বাবার বাড়ি’ তার অভিনীত ও পরিচালিত শেষ টিভিনাটক। 

বুলবুল আহমেদ অভিনয়ে অসামান্য অবদানের জন্য চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কারসহ অজস্র সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম