সালমানের মৃত্যুর আগেরদিন এফডিসিতে যে কারণে রেগে যান সামিরা
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৮ এএম
সালমান শাহ ও সামিরা হক। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকাই চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহ। ক্যারিয়ারে মাত্র ২৭ টি সিনেমায় অভিনয় করে মাত্র ২৫ বছর বয়সেই যিনি বাংলা চলচ্চিত্রে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এর মধ্যে ১৪ টি ছবিতেই তার সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন সেসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর।
এতগুলো সিনেমায় জুটি বেধে অভিনয়ের সুবাদে সেই সময় এই দুই তারকাকে ঘিরে প্রেমের গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। এই গুঞ্জনের জেরে সালমানের সঙ্গে সামিরা হকের মনমালিন্য সৃষ্টি হয় বলে জানা যায়।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও এই অভিনেতার শেষ সময়ের ঘটনাগুলো নিয়ে মানুষের আগ্রহ কমেনি। তার অকালবিদায় এখনো অনেকের কাছেই রহস্যের চাদরে ঘেরা। সালমানের পরিবারের পক্ষ থেকে নানাসময়ে তাকে ‘হত্যার’ অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তার স্ত্রী সামিরা হকের দিকেও সন্দেহের আঙুল উঠেছে।
সালমানের মৃত্যুর আগের দিন ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এফডিসিতে ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার ডাবিংয়ের সময় কী ঘটেছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা বক্তব্য সামনে এসেছে। এদিন সন্ধ্যায় এফডিসির একটি ডাবিং কক্ষে সালমান ও শাবনূরকে খুনসুটি করতে দেখে রাগ করে বেরিয়ে গিয়েছিলেন সালমানের স্ত্রী সামিরা।
ঘটনার দিন ‘প্রেম পিয়াসী’র ডাবিংয়ে এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে ছিলেন সালমান শাহ। ছবির নায়িকা শাবনূরও আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ডাবিংয়ের ফাঁকে দুজনের মধ্যে খুনসুটির মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল বলে বিভিন্ন স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে।
এদিকে সালমান শাহ তার বাবাকে ফোন করে স্ত্রী সামিরাকে এফডিসিতে নিয়ে আসতে বলেন। কিছুক্ষণ পর সালমানের বাবা সামিরাকে সঙ্গে নিয়ে সাউন্ড কমপ্লেক্সে পৌঁছান। এরপর ডাবিং রুমে সালমান ও শাবনূরকে একসঙ্গে দেখে সামিরা মনঃক্ষুণ্ন হন বলে বিভিন্ন সময় প্রকাশিত বর্ণনায় জানা যায়।
সামিরা নিজেও পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে ওই দিনের ঘটনা নিয়ে কথা বলেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডাবিংয়ের সময় শাবনূর সালমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলছিলেন। সেটি দেখে ভালো লাগেনি সামিরার। রাগ করে তিনি এফডিসি ত্যাগ করেন।
গাড়িতে সামিরার সঙ্গে সালমান শাহ ও পরিচালক বাদল খন্দকারও ওঠেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাড়িতে সামিরার সঙ্গে সালমানের তেমন কথা হয়নি; বরং বাদল খন্দকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছিলেন।
এফডিসির প্রধান ফটকের কাছে পৌঁছালে সালমান শাহ ও বাদল খন্দকার গাড়ি থেকে নেমে যান। কিছুক্ষণ সেখানে থাকার পর সালমান আবার ডাবিং রুমে ফিরে যান। তবে সেদিন আর ডাবিং করা হয়নি। পরে রাতের দিকে বাদল খন্দকার সালমানকে নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় পৌঁছে দেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে চলচ্চিত্র পরিচালক বাদল খন্দকার জানান, ঘটনার পরের দিন সকালে তিনি সালমানের বাসায় গিয়েছিলেন ছবির শিডিউল নিয়ে কথা বলতে। সকালে সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি দেখতে পান বাসার নিচে দারোয়ানরা কানাকানি করছেন সালমান রাতেই ফাঁস দিয়ে মারা গেছেন।
উল্লেখ্য, সালমান শাহ তার ক্যারিয়ারে শাবনূর ছাড়াও মৌসুমী, শাহনাজ, শাবনাজ, বৃষ্টি ও শাহনাজ পারভীন মিষ্টির সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন। ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বুকের ভেতর আগুন’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘আনন্দ অশ্রু’-র মতো তার অভিনীত সিনেমাগুলো এখনও দর্শকের মনে জায়গা করে রেখেছে।
এদিকে সালমানের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সামিরাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও আলোচনা তৈরি হয়েছিল। সামিরা বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন এবং সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছেন।

-6a9d983f2de61.jpg)