মৌসুমীর সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে টিকে আছে, গোপন রহস্য জানালেন ওমর সানী
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি মৌসুমী ও ওমর সানীর প্রেম-ভালোবাসার গল্প তিন দশক পেরিয়েও দর্শকের আগ্রহের বিষয়। ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ চুপিসারে বিয়ে করেছিলেন তারা। বিয়ের দেড় বছর পর ২ আগস্ট আয়োজন করা হয় বিবাহোত্তর সংবর্ধনার। দেখতে দেখতে তাদের দাম্পত্য জীবনের ৩১ বছর পেরিয়ে গেছে। সংসার, সন্তান, অভিমান কিংবা বিচ্ছেদের গুঞ্জন—সবকিছু পেরিয়েও এখনো একসঙ্গে আছেন এই তারকা দম্পতি।
সম্প্রতি দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন ও মৌসুমীর প্রতি নিজের ভালোবাসা নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন ওমর সানী। জানিয়েছেন, স্ত্রীর কোন বিষয়গুলো এখনো তাকে সবচেয়ে বেশি টানে।
মৌসুমীর কোন বিষয়টি এখনো তাকে বেশি আকর্ষণ করে—জানতে চাইলে ওমর সানী বলেন, ‘মৌসুমীর কেয়ারিং এবং ওর জিদটাও আমাকে ভীষণ টানে। ও একটা কথা অনেক জমাট করে রাখতে পারে, আমি পারি না। আমার একটু ধৈর্য কম, ওর একটু বেশি আছে।’
স্ত্রী হিসেবে মৌসুমীর সবচেয়ে বড় পরিচয় কী—এমন প্রসঙ্গে সানীর কাছে সবার আগে আসে সন্তানদের কথা। তিনি বলেন, ‘একটা সময় ছিল বাবা-মা, আমি আর এখন আমাদের দুই সন্তান ফারদীন, ফাইজা। সন্তানদের নিয়ে ওর যত চিন্তা। এরপর বাকি থাকলে আমি।’
সংসারের একটি মজার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘দেখা গেল, আমি খেতে বসলাম, এই মাংসটা ফারদীন খাবে, এটা ফাইজা। ঠিক আছে। আমি অনেক সময় হাড্ডি চাবাই–চুবাই খাই। ভালোই লাগে এসব।’
দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন সময় মৌসুমী ও ওমর সানীর বিচ্ছেদের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। এসব আলোচনা নিয়ে মৌসুমীর প্রতিক্রিয়া কী—জানতে চাইলে ওমর সানী বলেন, ‘আমি তো মানুষ, আমার ভুল হতেই পারে। মৌসুমীও তাই। ওরও ভুল হতে পারে। এ রকম আমরা সবাই মানুষ। সমস্যা হয় যখন এসব নিয়ে অতিমাত্রায় লেখালেখি হয়।’
এ সময় মৌসুমীর একটি মন্তব্যও তুলে ধরেন তিনি। সানী বলেন, ‘ওদের হয়তোবা এসব বলে কিংবা লিখে সংসার চলে। হয়তোবা দুইটা পয়সার কারণে চাল-ডাল কিনে খায়।’
তবে সব আলোচনা-সমালোচনার বাইরে নিজের অনুভূতিটা স্পষ্ট করে ওমর সানী বলেন, ‘এই বয়সেও এসে আমি বলব, ফারদীন–ফাইজার আম্মু—তোমাকে ভালোবাসি।’
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিশ্বাস ও ত্যাগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ওমর সানী। তার ভাষায়, ‘আসলে হয় কি, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা হচ্ছে একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করা, স্যাক্রিফাইজ করা। সেটা আমাদের মধ্যে আছে।’
মৌসুমীর আরেকটি গুণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সানী বলেন, ‘মৌসুমী মাঝেমধ্যে বোকামির জন্য আমাকে বকাটকা দেয়। বলে, তুমি তো এটা লস করছ, এটা করছ, এটাও করছ—দিনশেষে আমাদের কি কোনো জায়গা নেই? এরপর আবার নিজেই বলবে—কী লাগবে, কী রকম লাগবে, কী করবা, কী করতে চাও। সবকিছু মিলিয়ে মৌসুমী ভেরি কমফরট্যাবল।’
যেভাবে শুরু হয়েছিল তাদের সম্পর্ক
সানী-মৌসুমীর সম্পর্কের শুরুটা অবশ্য এতটা সহজ ছিল না। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মহরত অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় তাদের। পরে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম একটি ছবির প্রস্তাব নিয়ে ওমর সানীকে সঙ্গে করে মৌসুমীদের ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসায় যান। সেখানেই প্রথম কথা হয় দুজনের।
তবে অন্য ছবির ব্যস্ততার কারণে সেই প্রস্তাবে রাজি হতে পারেননি মৌসুমী। মন খারাপ নিয়েই সেদিন ফিরেছিলেন ওমর সানী।
১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর কয়েকজন প্রযোজকের উদ্যোগে ‘দোলা’ ছবিতে প্রথমবার জুটি বাঁধেন তারা। সিলেটে ছবিটির শুটিং করতে গিয়ে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্যও হয়েছিল। তবে সেই দূরত্বই একসময় রূপ নেয় ভালো লাগায়।
মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব, তার পরিবারের আন্তরিকতা ও আচরণ মুগ্ধ করে ওমর সানীকে। এরপর ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের কাছের মানুষ এবং ঘনিষ্ঠ দুই চলচ্চিত্র পরিচালকের উপস্থিতিতে চুপিসারে বিয়ে করেন তারা।
বিয়ের দেড় বছর পর ২ আগস্ট আয়োজন করা হয় বিবাহোত্তর সংবর্ধনার। এরপর পেরিয়ে গেছে তিন দশকের বেশি সময়। নানা আলোচনা-সমালোচনা ও গুঞ্জনের মধ্যেও বিশ্বাস, ভালোবাসা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ায় এখনো একসঙ্গে আছেন মৌসুমী ও ওমর সানী। তাদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের রহস্য হিসেবে সানীর কথায় উঠে এসেছে—বিশ্বাস, ত্যাগ, বোঝাপড়া এবং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা।
