ওমর সানীর সঙ্গে বিচ্ছেদ গুঞ্জনের খবরে যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন মৌসুমী
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি মৌসুমী ও ওমর সানীর সম্পর্কের বয়স তিন দশকের বেশি। ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ চুপিসারে বিয়ে করেছিলেন তারা। দীর্ঘ এই দাম্পত্য জীবনে সংসার, সন্তান, অভিমান ও নানা আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি একাধিকবার তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। তবে এসব গুঞ্জনের মধ্যেও একসঙ্গেই আছেন এই তারকা দম্পতি।
সম্প্রতি মৌসুমীর সঙ্গে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন ও সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন ওমর সানী। বিচ্ছেদের গুঞ্জন নিয়ে তাদের অবস্থান সম্পর্কেও জানিয়েছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ওমর সানী বলেন, ‘আমি তো মানুষ, আমার ভুল হতেই পারে। মৌসুমীও তাই। ওরও ভুল হতে পারে। এ রকম আমরা সবাই মানুষ। সমস্যা হয় যখন এসব নিয়ে অতিমাত্রায় লেখালেখি হয়।’
এসব আলোচনা নিয়ে মৌসুমীর প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরেন সানী। তিনি বলেন, ‘ওদের হয়তোবা এসব বলে কিংবা লিখে সংসার চলে। হয়তোবা দুইটা পয়সার কারণে চাল-ডাল কিনে খায়।’
তবে বিচ্ছেদের গুঞ্জন কিংবা নানা আলোচনা-সমালোচনার বাইরে স্ত্রী মৌসুমীর প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও স্পষ্ট করেছেন ওমর সানী। তিনি বলেন, ‘এই বয়সেও এসে আমি বলব, ফারদীন–ফাইজার আম্মু—তোমাকে ভালোবাসি।’
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিশ্বাস ও ত্যাগকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন সানী। তার ভাষায়, ‘আসলে হয় কি, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা হচ্ছে একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করা, স্যাক্রিফাইজ করা। সেটা আমাদের মধ্যে আছে।’
মৌসুমীর কোন বিষয়গুলো তাকে এখনো টানে—জানতে চাইলে সানী বলেন, ‘মৌসুমীর কেয়ারিং এবং ওর জিদটাও আমাকে ভীষণ টানে। ও একটা কথা অনেক জমাট করে রাখতে পারে, আমি পারি না। আমার একটু ধৈর্য কম, ওর একটু বেশি আছে।’
স্ত্রী হিসেবে মৌসুমীর সবচেয়ে বড় পরিচয় হিসেবে সন্তানদের কথাই আগে আসে সানীর কাছে। তিনি বলেন, ‘একটা সময় ছিল বাবা-মা, আমি আর এখন আমাদের দুই সন্তান ফারদীন, ফাইজা। সন্তানদের নিয়ে ওর যত চিন্তা। এরপর বাকি থাকলে আমি।’
নিজের সংসারের একটি মজার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘দেখা গেল, আমি খেতে বসলাম, এই মাংসটা ফারদীন খাবে, এটা ফাইজা। ঠিক আছে। আমি অনেক সময় হাড্ডি চাবাই–চুবাই খাই। ভালোই লাগে এসব।’
মৌসুমীর আরেকটি গুণের কথাও উল্লেখ করে সানী বলেন, ‘মৌসুমী মাঝেমধ্যে বোকামির জন্য আমাকে বকাটকা দেয়। বলে, তুমি তো এটা লস করছ, এটা করছ, এটাও করছ—দিনশেষে আমাদের কি কোনো জায়গা নেই? এরপর আবার নিজেই বলবে—কী লাগবে, কী রকম লাগবে, কী করবা, কী করতে চাও। সবকিছু মিলিয়ে মৌসুমী ভেরি কমফরট্যাবল।’
সানী-মৌসুমীর সম্পর্কের শুরুটাও ছিল সিনেমার গল্পের মতো। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মহরত অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় তাদের। পরে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম একটি ছবির প্রস্তাব নিয়ে ওমর সানীকে সঙ্গে করে মৌসুমীদের ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসায় যান। সেখানেই প্রথম কথা হয় দুজনের।
অন্য ছবির ব্যস্ততার কারণে সেই প্রস্তাবে রাজি হতে পারেননি মৌসুমী। মন খারাপ নিয়েই সেদিন ফিরেছিলেন ওমর সানী।
১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর কয়েকজন প্রযোজকের উদ্যোগে ‘দোলা’ ছবিতে প্রথমবার জুটি বাঁধেন তারা। সিলেটে ছবিটির শুটিং করতে গিয়ে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্যও হয়। তবে সেই দূরত্বই একসময় রূপ নেয় ভালো লাগায়।
মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব, তার পরিবারের আন্তরিকতা ও আচরণ মুগ্ধ করে ওমর সানীকে। এরপর ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের কাছের মানুষ এবং ঘনিষ্ঠ দুই চলচ্চিত্র পরিচালকের উপস্থিতিতে চুপিসারে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের দেড় বছর পর ২ আগস্ট আয়োজন করা হয় তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা।
এরপর পেরিয়ে গেছে তিন দশকের বেশি সময়। নানা গুঞ্জন ও আলোচনা-সমালোচনা পেরিয়ে বিশ্বাস, ভালোবাসা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ায় এখনো একসঙ্গেই আছেন মৌসুমী ও ওমর সানী।
