Logo
Logo
×
   

Advertisement

বিনোদন

দুই কোটি বাজেটের সিনেমা যেভাবে প্রায় ২৮০ কোটি আয় করল

Advertisement

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০০ পিএম

দুই কোটি বাজেটের সিনেমা যেভাবে প্রায় ২৮০ কোটি আয় করল

Advertisement

বড় কোনো তারকার উপস্থিতি নেই, নেই চোখধাঁধানো প্রচারণা কিংবা বিপুল বাজেট। মুক্তির পর প্রথম দুই সপ্তাহেও বক্স অফিসে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি সিনেমাটি।

কিন্তু এরপর পরিস্থিতি পুরোপুরি পালটে যায়। দর্শকদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া প্রশংসায় ধীরে ধীরে গতি পেতে থাকে ছবির ব্যবসা। শেষ পর্যন্ত ‘স্লিপার হিট’ হিসেবে বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পেয়েছে বিশাল চতুর্বেদি পরিচালিত আধ্যাত্মিক ড্রামা ‘হনুমান অংশ’।

ছবিটির এই অপ্রত্যাশিত সাফল্য শুধু ট্রেড বিশ্লেষকদেরই অবাক করেনি, প্রভাব ফেলেছে বড় তারকাদের সিনেমার ব্যবসাতেও। এমনকি প্রেক্ষাগৃহে ‘হনুমান অংশ’-এর দাপটের কারণে সদ্য মুক্তি পাওয়া অক্ষয় কুমার ও সাইফ আলী খান অভিনীত আলোচিত সিনেমা ‘হাইওয়ান’ও কিছুটা চাপে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির ৩৯তম দিনে ভারতে ‘হনুমান অংশ’-এর মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৬৩.৩০ কোটি রুপি। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আরও ১৬.৫০ কোটি রুপি আয় যোগ হওয়ায় বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট সংগ্রহ এখন প্রায় ২৭৯.৮০ কোটি রুপি।

সাফল্যের মূল রহস্য কি শুধু ধর্মীয় আবেগ?

ছবিটির এমন অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে দর্শকদের মুখে মুখে প্রচার বা ‘মাউথ পাবলিসিটি’কে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে বিভিন্ন সমালোচকের মতে, শুধু প্রচারণা নয়, সিনেমার গল্প, আধ্যাত্মিক দর্শন এবং মানবিক বার্তাও দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টেনে এনেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ‘হনুমান অংশ’ দর্শককে এমন এক আধ্যাত্মিক জগতে নিয়ে যায়, যেখানে প্রতিহিংসা কিংবা জোর করে কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার জায়গা নেই। সিনেমাটি কেবল ঈশ্বরের প্রতি ভক্তির গল্প নয়; বরং অহংকার, কামনা ও আত্মকেন্দ্রিকতার ঊর্ধ্বে উঠে জীবনের গভীর অর্থ খোঁজার একটি প্রয়াস।

নীম করোলি বাবার দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল প্রতিকূলতা বা অপমানের জবাব প্রতিহিংসার মাধ্যমে না দিয়ে ঈশ্বরের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করা। সিনেমাতেও ভক্তির বাহ্যিক প্রকাশের বদলে নিজের ‘অহং’কে বিসর্জন দিয়ে আধ্যাত্মিক শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এই দর্শনই বিভিন্ন শ্রেণির দর্শকের কাছে ছবিটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।

সিনেমাটি কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ঈশ্বরের আরাধনা করার নির্দেশ দেয় না। বরং দর্শকের সামনে প্রশ্ন রাখে—প্রার্থনার সময় আমরা আসলে কী চাই? নিজের বিশ্বাস, সংশয় এবং আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করে ছবিটি। ফলে শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাই নয়, মানবিকতা, ভালোবাসা ও আত্মিক শান্তিতে বিশ্বাসী অনেক দর্শকও গল্পটির সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পেয়েছেন।

হিন্দুধর্মে হনুমান শক্তি, আনুগত্য ও ভক্তির প্রতীক। ‘হনুমান অংশ’-এ নীম করোলি বাবার জীবনের মাধ্যমে সেই নিঃস্বার্থ ভক্তির ধারণাটিই তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে কোনো ব্যক্তিগত প্রাপ্তির প্রত্যাশা নেই, রয়েছে কেবল নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ। সিনেমাটির দর্শকপ্রিয়তার পেছনে এই বিষয়টিও বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।

মাত্র দুই কোটি বাজেটেও নজরকাড়া নির্মাণ

বাজেটের দিক থেকেও ‘হনুমান অংশ’ বেশ ব্যতিক্রমী। মাত্র প্রায় দুই কোটি রুপির বাজেটে তৈরি সিনেমাটির ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন দর্শকদের সন্তুষ্ট করেছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা। সীমিত বাজেটের মধ্যেও ভালো ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং আবহ তৈরি করতে পেরেছে ছবিটি।

এর পাশাপাশি নীম করোলি মহারাজের চরিত্রে শোভিনব সত্যের অভিনয়ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার অভিনয় চরিত্রটির আধ্যাত্মিক আবহকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

কে ছিলেন নীম করোলি বাবা?

‘হনুমান অংশ’-এর গল্প ভারতের আধ্যাত্মিক সাধক নীম করোলি বাবার জীবন ও দর্শনকে কেন্দ্র করে নির্মিত। তার প্রকৃত নাম ছিল লক্ষ্মণ নারায়ণ শর্মা। হনুমান বা বজরংবলীর একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে পরিচিত এই সাধক অনুসারীদের কাছে ‘মহারাজ জি’ নামে পরিচিত ছিলেন। উত্তর ভারতের অনেক মানুষ তাকে ‘মিরাকল বাবা’ নামেও ডাকতেন।

প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯০০ সালের দিকে উত্তরপ্রদেশের আকবরপুরে একটি ধনী ব্রাহ্মণ পরিবারে তার জন্ম। তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু অলৌকিক ঘটনার কাহিনি।

এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি ঘটনা ট্রেনকে ঘিরে। কথিত আছে, টিকিট না থাকায় তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপর ট্রেন আর চলছিল না। পরে রেল কর্মকর্তারা তাকে সম্মানের সঙ্গে ট্রেনে তুলে নেওয়ার পরই ট্রেন চলতে শুরু করে। ঘটনাটি নীম করোলি নামের একটি এলাকায় ঘটেছিল বলে পরবর্তীতে তিনি ‘নীম করোলি বাবা’ নামে পরিচিত হন। ওই এলাকায় একটি রেলস্টেশন নির্মাণের শর্তও তিনি দিয়েছিলেন বলে প্রচলিত রয়েছে।

ষাট ও সত্তরের দশকে বহু আমেরিকান ও পশ্চিমা নাগরিক তার আধ্যাত্মিক দর্শনে আকৃষ্ট হয়ে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন বলে জানা যায়। প্রযুক্তি বিশ্বের দুই পরিচিত নাম—অ্যাপলের স্টিভ জবস এবং ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গ—তার উত্তরাখণ্ডের কৈঞ্চী ধামের আশ্রম থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়।

সাধারণ অনুসারী থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব তৈরি করা এই সাধক ১৯৭৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মহাসমাধিতে দেহত্যাগ করেন বলে প্রচলিত রয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম