অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় লালগালিচায় হাঁটলেন মাহিরা
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খান। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের রেড কার্পেট—সর্বত্রই আলোচনায় ৪১ বছর বয়সি পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খান। কারণ, এ বয়সে দ্বিতীয়বার মা হচ্ছেন তিনি।
১৭ বছর পর আবারও মাতৃত্বের স্বাদ নিতে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি কানাডার টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আনার পাশাপাশি এই নতুন জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী।
মাহিরা প্রথমবার মা হয়েছিলেন ২৪ বছর বয়সে। তৎকালীন স্বামী আলি আসকারির সঙ্গে তার ঘরে জন্ম নেয় ছেলে আজলান। ২০০৭ সালে বিয়ে করেছিলেন তারা। তবে ২০১৫ সালে তাদের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। এরপর ২০২৩ সালে ব্যবসায়ী সেলিম করিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মাহিরা। দ্বিতীয় বিয়ের প্রায় তিন বছর পর এবার তাদের সংসারে আসতে যাচ্ছে নতুন অতিথি।
টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে মাহিরা শুধু সিনেমা নিয়েই কথা বলেননি, সেখানে প্রকাশ্যে আসে তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবরও। উৎসবের এক আলোচনায় তিনি বিশ্ব চলচ্চিত্রে দক্ষিণ এশিয়ার গল্প ও শিল্পীদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
তবে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এই খবর প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত মাহিরার জন্য সহজ ছিল না। তিনি জানান, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সাধারণত প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাই অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবরটি প্রকাশ করার বিষয়েও তার মধ্যে কিছুটা দ্বিধা ছিল।
পোশাক নিয়েও তাকে ভাবতে হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় লালগালিচায় হাঁটার অভিজ্ঞতা তার জন্য প্রথম। শেষ পর্যন্ত শরীরের পরিবর্তন আড়াল না করে সেটিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার পথই বেছে নেন তিনি।
উৎসবে মাহিরার পরনে ছিল গাঢ় রঙের শাড়ি। এতে ছিল সূক্ষ্ম কারুকাজ। এর সঙ্গে তিনি পরেছিলেন কাজ করা ওড়না। বড় কানের দুল, সাজসজ্জা এবং খোলা বেণিতে তাকে দেখা যায়।
দুইবারের মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার পার্থক্য তুলে ধরে মাহিরা বলেন, এবারের সময়টা তার কাছে অনেকটাই আলাদা। ২৪ বছর বয়সে যখন প্রথমবার মা হয়েছিলেন, তখন তার মধ্যে এক ধরনের সরলতা কাজ করত। তখন স্বাস্থ্যও ভালো ছিল। ভবিষ্যতে কী হতে পারে, তা নিয়েও খুব বেশি চিন্তা করতেন না।
এবার তার বয়স ৪১ বছর। তাই শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকেই এই অভিজ্ঞতা তার কাছে বেশি কঠিন মনে হচ্ছে।
মাহিরার ভাষ্য, এখন অনেক সময় এমন দিন আসে, যখন তার শরীর মন যেভাবে চায়, সেভাবে সাড়া দেয় না। অথচ নিয়মিত কাজ করা, ভ্রমণ এবং ব্যস্ত জীবনযাপনের সঙ্গে তিনি অভ্যস্ত।
শরীরের পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসিক দিক থেকেও এবারের অভিজ্ঞতা ভিন্ন বলে জানান মাহিরা। বয়স বাড়ার সঙ্গে জীবনের মূল্য এবং এর ভঙ্গুরতা সম্পর্কে তার উপলব্ধি আরও গভীর হয়েছে। ফলে আনন্দের পাশাপাশি ভয়, ক্লান্তি ও দুর্বলতার অনুভূতিও তাকে ঘিরে থাকে।
মাহিরা জানান, দ্বিতীয়বার মা হওয়ার এই পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে তার জীবন অনেকটাই গুছিয়ে নিয়েছিলেন। বড় হয়ে যাওয়া ছেলে, নিজের পেশা, দৈনন্দিন জীবন ও স্বাধীনতার সঙ্গে তিনি অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন। জীবনের এই সময়টা কীভাবে কাটাবেন, সে সম্পর্কেও তার নিজস্ব একটি পরিকল্পনা ছিল।
কিন্তু এত বছর পর আবার মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, এমনটা তিনি আগে কল্পনাও করেননি।
তবে এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনকেই এখন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে দেখছেন মাহিরা। তার উপলব্ধি, জীবনের প্রতিটি বিষয় আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখা যায় না। মানুষ অনেক সময় একভাবে ভবিষ্যৎ সাজালেও জীবন তাকে ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে পারে।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মাহিরা বলেন, সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা না করে জীবন যেদিকে নিয়ে যায়, সেটিকেও গ্রহণ করতে হয়।
টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসরে মাহিরার উপস্থিতি তাই তার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে একসঙ্গে সামনে এনেছে। একদিকে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানি ও দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব, অন্যদিকে ১৭ বছর পর আবারও মাতৃত্বের পথে যাত্রা।
