ভারত ছাড়ার হুমকিতে পালটা চ্যালেঞ্জ ইমরান খানের
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
ইমরান খান। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ অভিনেতা আমির খানের ভাগ্নে অভিনেতা ইমরান খানকে ইতোমধ্যে ভারত ছাড়ার নোটিশ দিয়েছে মুম্বাই পুলিশের নির্দেশে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)। পালটা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মুম্বাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেতা। ইমরানের আইনজীবীর দাবি, ‘ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া’র হয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই।
এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থনে যে প্রতিবাদ মিছিল হয়। সেখানেই তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে অবশ্য তাকে ছেড়েও দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরই বিপাকে পড়েন জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিক ইমরান। মিছিলে যোগ দেওয়ার কারণে তাকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে এফআরআরও। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে অভিনেতাকে দেশ ছাড়তে বলে মুম্বাই পুলিশ।
‘ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি’, ২০১১ সালেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন ইমরান খান। জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিক হওয়ায় ভারতে ভোট দিতে পারেন না তিনি। তা নিয়ে হতাশা ছিল আমির খানের ভাগ্নের।
বলিউড অভিনেতার নাগরিকত্ব ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। আর সেই সময়েই পুরোনো এক সাক্ষাৎকারে বলা কথাগুলো আবারও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে।
ভারতীয় নাগরিক না হয়েও বিক্ষোভে যোগ দেওয়ায় অভিবাসন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ইমরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
২০০৯ সালের এক সাক্ষাৎকারে ইমরান সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি এ দেশের ভোটাধিকার পাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি আমেরিকার নাগরিক। এমনকি আমেরিকার নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ভোটও দিয়েছিলেন তিনি।
২০১১ সালে নিজের নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা বলেন, ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য সরকারি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি। তার আশা ছিল, খুব শিগগির সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। শুধু তাই নয়, ভারতকে নিজের দেশ বলেই মনে করার কথাও বলেন তিনি। তাই এ দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশের জন্য কিছু করাকে নিজের দায়িত্ব বলেও মনে করেন ইমরান খান।
তবে ভারতীয় নাগরিক না হওয়ায় এ দেশের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার ছিল না এ অভিনেতার। ২০১৩ সালের এক সাক্ষাৎকারে সেই আক্ষেপের কথাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ইমরান খান বলেন, ‘ভারতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে না পারাটা যথেষ্ট হতাশাজনক। তাই অন্যভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করছি। যদি অন্তত ২০ জনকেও ভোটদানে উৎসাহিত করতে পারি, মনে হয় আমার কিছু অবদান থাকল।’
উল্লেখ্য, মা নুজহাত খান ও বাবা অনিল পাল যখন আমেরিকায় পড়াশোনা করেন, তখন জন্ম হয়েছিল ইমরান খানের। কিন্তু মা-বাবা আলাদা হয়ে যাওয়ার পর ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে মুম্বাইয়ে চলে আসেন এ অভিনেতা এবং এখানেই বড় হয়ে ওঠেন। তখন তার বয়স ছিল তিন বছর। ভারতীয় শিকড় ও দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকলেও ইমরান খান বর্তমানে আমেরিকার নাগরিক এবং তার ওভারসিজ সিটিজেনশিপ অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ড রয়েছে। তবে ওসিআই কার্ড ভারতীয় নাগরিকত্বের সমতুল্য নয়। এই কার্ডের মাধ্যমে ভারতে বসবাস ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে একাধিক সুবিধা পাওয়া গেলেও ভারতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার মেলে না।
