Logo
Logo
×
   

Advertisement

বিনোদন

সন্তানদের স্বার্থে অভিনয়ে ছাড় দিতেও রাজি, পেছনে যে যুক্তি কোয়েলের

Advertisement

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৫, ১১:৫০ এএম

সন্তানদের স্বার্থে অভিনয়ে ছাড় দিতেও রাজি, পেছনে যে যুক্তি কোয়েলের

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

রুপালি দুনিয়ায় একটা প্রচলিত মতামত রয়েছে, বিয়ের পর নায়িকাদের ক্যারিয়ার গ্রাফ নিম্মমুখী হতে শুরু করে। সংসার-সন্তান সামলাতে গিয়ে অনেকেই পেশার সঙ্গে দূরত্বও তৈরি করেন। কেউ বা আবার ‘প্রায়োরিটি’ বেছে নেন। 

এই মতামত যেন পুরোপুরি ফলে গেলে টালিউডের নন্দিত অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের সঙ্গে। এ অভিনেত্রী বিয়ের পর সময়ের সঙ্গে মাতৃত্বকে আপন করে নিয়েছেন। দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার সামলানোর পাশাপাশি অভিনয়জীবনও বাদ দেননি একেবারে। সম্প্রতি এক দুপুরে পরিবার এবং মাতৃত্বের সফর প্রসঙ্গে বিভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের সঙ্গে কথা বললেন কোয়েল।

প্রায় দু’বছর পর বড় পর্দায় ফিরছেন কোয়েল। তবে ছবি মুক্তি বা তার প্রচারের ব্যস্ততা এখনো তার কাছে একই রয়ে গেছে। তিনি বলছিলেন, ‘শুটিংয়ের সময়ে তবুও বিরতি পাওয়া যায়। কিন্তু ছবির প্রচারে এখনো আমার বেশ চাপ লাগে। কারণ, বিরতির কোনো সুযোগ থাকে না। মুক্তির দিন পর্যন্ত ছবিটার সম্পর্কে দর্শককে জানানোর চেষ্টা করি।’ 

গত ডিসেম্বরে দ্বিতীয়বার মা হয়েছেন কোয়েল। তার পরিবারে এসেছে কন্যাসন্তান। স্বাভাবিকভাবেই মা হওয়ার পর কোয়েলের ব্যস্ততা বেড়েছে। তাই পেশার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় এখন তার কর্মপদ্ধতিও বদলে গেছে। কোয়েলের স্বীকারোক্তি, ‘আগে চিত্রনাট্য পেলেই পড়তে বসে যেতাম। নতুন কাজের জন্য পর পর মিটিং করতাম। নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিতাম। কিন্তু এখন এই সবটাই নির্ভর করে কবীরের (কোয়েলের ছেলের নাম) উপর।’

জীবনের নতুন অধ্যায় মাতৃত্ব। কোয়েল সেই নতুন অধ্যায় চুটিয়ে উপভোগ করছেন। মাতৃত্ব তাকে বহু দিক থেকে বদলেও দিয়েছে বলে উপলব্ধি কোয়েলের। তার কথায়, ‘একটা সময়ে অনেক কিছুই জানতাম না। এখন মাল্টিটাস্কিং করতে পারি। আবার আমিই যে সেগুলো করতে পারি, তা উপলব্ধি করে বিস্মিত হয়েছি।’ 

ছেলেকে সারাদিন বাড়িতে একা ছেড়ে রাখতে পছন্দ করেন না কোয়েল। যদি তাকে সেটা করতেও হয়, সে ক্ষেত্রে তিনি কবীরের সারা দিনের রুটিন তৈরি করে তার পর বাড়ির বাইরে পা রাখেন। তারপরেও অবশ্য মায়ের ছুটি নেই। 

কোয়েলের কথায়, ‘সিসিটিভিতে যখন দেখি ও একা একা ঘরে বসে আছে, তখন খুব কষ্ট হয়। স্কুল থেকে ঠিক সময়ে বাড়ি ফিরছে কি না, কী খাবার খাবে, সবটাই আমার নজরে থাকে।’

কবীর এবং কাব্যের (কোয়েলের মেয়ের নাম) মধ্যে তাকে কে বেশি বিরক্ত করে? প্রশ্ন শুনেই পরিচিত হাসির ঝিলিক খেলে যায় কোয়েলের মুখে। বললেন, ‘কেউই নয়। আমার মনে হয় জীবনের অন্যতম সেরা একটা সময়ের মধ্যে রয়েছি। তাই ওদের নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই।’

কবীরের বয়স এখন পাঁচ বছর। তাই মনের মধ্যেও তার নানা প্রশ্নের উঁকিঝুঁকি। দিনের শেষে একরাশ ক্লান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু কোনো দিন সেই বাহানায় ছেলের প্রশ্নকে এড়িয়ে যাননি কোয়েল। তার কথায়, ‘একজন মা হিসেবে বিশ্বাস করি, সন্তানদের প্রশ্নগুলো আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ না হলেও ওদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর আমি তাকে সম্মান করতে পছন্দ করি।’

কর্মরত মায়েদের নিত্যদিন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। প্রথমবার মা হওয়ার পর কোয়েলের কাছেও দুই জগৎ নতুন অর্থ বয়ে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তার অনুপ্রেরণা বাবা রঞ্জিত মল্লিক। কোয়েলের কথায়, ‘আমার ছোটবেলায় বাবা প্রায় সারা বছর কাজ করতেন। কিন্তু বাড়িতে বাবার অনুপস্থিতি আমি কোনো দিন অনুভব করিনি। তাই হয়তো আমাকেও এখন খুব বেশি চেষ্টা করতে হয়নি।’ তবে কখনো কখনো অন্যভাবেও ভাবতে পছন্দ করেন কোয়েল। যেমন, শৈশবে বাবা ব্যস্ত থাকলে, মা থাকতেন সঙ্গে। সেখানে কোয়েল এবং তার স্বামী দু’জনকেই বাড়ির বাইরে সময় কাটাতে হয়। কোয়েলের বিশ্লেষণ, ‘শিক্ষা রয়ে যায়। তারপরেও আমি বলব, সন্তানের জন্য মায়ের স্পর্শ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

পরিবারের পরিসর এবং দায়িত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কাজের সংখ্যাও কমিয়েছেন কোয়েল। কিন্তু তা নিয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই। কোয়েলের কথায়, ‘এখনো পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ধাপ আমি উপভোগ করেছি এবং অভিনেত্রী, স্ত্রী বা মা হিসাবে দায়িত্ব পালনে কোনো রকম ফাঁকি দিইনি।’ ‘প্রতিযোগিতা’ নয়, বরং এই মুহূর্তে সন্তানরাই কোয়েলের কাছে সবার আগে। তার কথায়, ‘‘ছবি তো আমি পরেও করতে পারব। কিন্তু ওদের বড় হওয়ার এই সময়টা চলে গেলে তো আর ফিরে আসবে না।’’

সন্তানের প্রতিপালনে কোনও রকম ত্রুটি রাখতে নারাজ কোয়েল। এই সফরে তিনিও নিজেকে প্রতি মুহূর্তে নতুন ভাবে আবিষ্কার করছেন। ভাল চিত্রনাট্য এবং চরিত্রের প্রস্তাব পেলে অভিনয়ও করতে রাজি। কোয়েলের কথায়, ‘করতে হবে বলে অভিনয় করতে চাই না। কোনো দিন করিনি। আগামী দিনেও করব না।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম