স্পেনে অতিবৃষ্টি-বন্যায় চারজনের মৃত্যু
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
পূর্ব স্পেনে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। ছবি: রয়টার্স
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পূর্ব স্পেনে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় চারজন নিহত হয়েছেন। কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্যার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি শহর।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ অক্টোবর) দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
গত শনিবার শুরু হওয়া অ্যাডাম ঝড়ের প্রভাবে ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় প্রতি বর্গমিটারে ৭০০ লিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বন্যার পানির কারণে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের বেশ কয়েকটি শহর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নদীর পানি উপচে পড়ছে এবং রাস্তাঘাট খরস্রোতা নদীতে পরিণত হয়েছে। এই দৃশ্য দুই বছর আগে ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ বন্যার কথা মনে করিয়ে দেয়, যাতে ২৩০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন
চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে উপকূলীয় রিসোর্ট শহর অলিভাতে দুজন, সাগুনতোর একটি সৈকতে একজন এবং কাতালোনিয়ায় একটি খরস্রোতা খালে পড়ে আরেকজন মারা গেছেন।
এদিকে সোমবার সকালে ৮ লাখ বাসিন্দাকে নিজ অবস্থানে নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে বিকেল নাগাদ এই নির্দেশ শুধু আটটি মিউনিসিপ্যালিটির ৮৭ হাজার বাসিন্দার জন্য কার্যকর রাখা হয়।
সরকারি প্রতিনিধি পিলার বের্নাবের তথ্য অনুযায়ী, ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী ৪০০টিরও বেশি উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে।
মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি, বাড়ির ছাদে আটকা পড়া ব্যক্তিদেরও উদ্ধার করা হয়েছে।
ঝড়টি ব্যালেরিক দ্বীপপুঞ্জ এবং কাতালোনিয়াতেও আঘাত হানে। এর ফলে কর্তৃপক্ষ সোমবার প্রায় ১০০টি মিউনিসিপ্যালিটির বাসিন্দাদের কয়েক ঘণ্টা ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল।
আঞ্চলিক সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বিকেলের আগেই অধিকাংশ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।
আলিকান্তের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত এলস পোবলেতস এলাকায় পানির তীব্র স্রোতে গাড়ি ও ভ্যানগুলো একে অপরের ওপর স্তূপ হয়ে জমে গেছে। বাসিন্দারা তাদের বাড়িঘর থেকে যতটুকু সম্ভব জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হাভিয়ের ফোরনেজ বলেন, ‘গ্রামটির অবস্থা—সত্যি বলতে, এটি একটি বিপর্যয়। ২০০৭ সালেও ঠিক এমনটাই ঘটেছিল। তখন মানুষ সবকিছু হারিয়েছিল, আর এবারও তারা আবারও সবকিছু হারাল।’
সিভিল গার্ড পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার মূলত অলিভা এলাকা থেকে ২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভ্যালেন্সিয়া ও আলিকান্তে অঞ্চলে কর্তৃপক্ষ প্রায় ১০০টি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে।
পেগোর মেয়র এনরিক মল সোমবার আঞ্চলিক সম্প্রচারমাধ্যম ‘আ পুন্ত’ রেডিওকে জানান, বেশ কয়েকজন মানুষ এখনো তাদের বাড়ির ছাদে আটকা পড়ে আছেন এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন। শহরটিতে প্রবেশের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা ‘এইএমইটি’ শুক্রবার জানিয়েছে, জুন থেকে আগস্ট ছিল স্পেনের মূল ভূখণ্ডের ইতিহাসে উষ্ণতম গ্রীষ্মকাল। এর ধারাবাহিকতায় গত সেপ্টেম্বর মাসটিও ছিল দেশটিতে রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ সেপ্টেম্বর।

