Logo
Logo
×
   

Advertisement

পরবাস

মানুষ মানুষের জন্য

Advertisement

Icon

রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:২২ পিএম

মানুষ মানুষের জন্য

Advertisement

যশোর বাজারে আজ পিয়াজের কেজি ২০০ টাকা।আশা করা যায় সরকারের কঠোর ভূমিকার কারণে কেজি কোনভাবেই ৩০০ টাকা হতে পারবে না।

ফেসবুকে স্টাটাস দেখলাম। সাধারণত আমি অনেক কিছুই লক্ষ্য করি তবুও উপেক্ষা করে চলি। নানা কারণ জড়িত এর পেছনে। কিন্তু পিয়াজের দাম এবং ভারতের সঙ্গে নিজেদেরকে জড়িয়ে জটিলতার জাল বোনা আমাদের নিম্নমানের মনের পরিচয় বলে মনে করি।

কারণ হলো দেয়ায় মজা আছে। আমরা ইলিশ মাছ দিয়েছি পার্শ্ববর্তী দেশকে গর্বে আমার বুক ভরে গেছে শুনে। আমরা দিতে শিখেছি। দিতে শিখেছি বাঙালির সবচেয়ে প্রিয় (ইলিশ মাছ) খাবারের অংশ বিশেষ আমাদের প্রতিবেশি দেশকে।

আমরা পানি দিয়েছি, আমরা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি গ্যাস দিতে রাজি হয়েছি। পানির অপর নাম জীবন, গ্যাসের আরেক নাম আলো, জাতি হিসাবে আমরা প্রতিবেশি দেশকে আলো, জীবন এবং আমাদের সবচেয়ে প্রিয় এবং মজার খাবার ইলিশ মাছ দিয়েছি, এতো বিশাল ব্যাপার।

হৃদয়, মন প্রাণ ভরে গেছে দূরপরবাস থেকে এখবর জানতে পেরে। আমরা শুধু নিতে নয় দিতেও শিখেছি। তারপরও এ আনন্দের খবর মেনে নিতে অনেকের কষ্ট হচ্ছে। কিছুদিন আগে একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে মরতে হলো তিস্তার পানি দেয়ার কারণে। এদিকে ধর্মে বিশেষ করে ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে প্রতিবেশিকে দিতে। প্রতিবেশি বা শত্রু ভুল বা অন্যায় করলে তাকে ক্ষমা করার কথাও বলা হয়েছে, তবে তার সীমা থাকতে হবে। নিজে না খেয়ে অন্যকে দান করা এতো মহানুভবতার পরিচয়, এতে কেন দ্বন্দ্ব তাতো বুঝতে পারছিনা! প্রতিবেশির দরকারে সাহায্যর হাত বাড়িয়েছি। যেমন তাদের পানির দরকার পানি দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছি। গ্যাস দরকার তা দিয়ে তাদের আলোয় আলোকিত করতে চেয়েছি। ইলিশ মাছ খেতে তাদের পরানে চেয়েছে তাও তাদের উৎসবে, তা দিয়ে আমরা আমাদের আত্মার তৃপ্তি পেয়েছি।

সামান্য কিছু পিয়াজ যা এই মুহুর্তে আমাদের সংকট পড়েছে, প্রতিবেশি দেশ তা জানা সত্বেও যদি না দেয় কি করার আছে! “তুমি অধম তাই বলে আমি উত্তম হইব না কেন?” ছোটবেলায় কি দরকার ছিল এসব বাণী পড়ানোর! তবে যতদিন ধরে এই কাহিনী শুনছি এতদিনে সোনার বাংলার মাটি হতে নতুন পিয়াজ উৎপাদন হবার কথা! তা না করে সরকারের কঠোর ভূমিকা “kind of jokes of the year 2020”!

Advertisement

মানুষ পেয়াজ

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম