ক্রমাগত বিকাশের শক্ত ভিত্তির নাম পারফরম্যান্স
jugantor
ক্রমাগত বিকাশের শক্ত ভিত্তির নাম পারফরম্যান্স

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫:০৪:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

লেখাপড়ার জগতে লাখো লাখো রসায়নবিদ, পদার্থবিদ, অর্থনীতিবিদ রয়েছে। কিন্তু সবাই নোবেল পুরস্কার পায় না। নোবেল পুরস্কার সবাই পাবে না, তবুও লেখাপড়া থেমে নেই। লেখাপড়ার মধ্যে রয়েছে ধারাবাহিকতা, রয়েছে উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রবণতা। লেখাপড়ার মতো খেলাধুলাতেও ধারাবাহিকতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রবণতা থাকতে হবে। খেলাধুলায় শুধু জয়-পরাজয় নয়, ক্রমাগত নিজের বিকাশ ঘটাতে হবে। বেশিরভাগ খেলোয়াড় বিশ্বাস করে খেলায় নিমগ্ন না হলে এর উচ্চস্তরে পৌঁছানো অসম্ভব। কথায় বলে দ্য উইনার টেকস ইট অল, সেক্ষেত্রে সেকেন্ড প্লেসটিও কিন্তু পরাজয়ের জায়গা।

খেলাধুলায় উন্নতি করতে হলে জিততে হবে এটাই মূল উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য প্রতি খেলায় গুড টু বেটার করার মন-মানসিকতা তৈরি করা। সাধারণত খেলায় যারা জিতে তারা হেরেও থাকে। এখানে হার-জিতের গুরুত্ব রয়েছে। তা সত্ত্বেও জেতার ফোকাসটি দৃশ্য ও অদৃশ্য দর্পণে জ্বলজ্বল করতে থাকে। যার কারণে অনেকে পরাজয়কে মেনে নিতে পারে না।

আমরা মানুষ জাতি ক্রমাগত বিকশিত হতে পছন্দ করি। ক্রমাগত বিকাশ সাধনের একটি উপায় হলো নিয়মিত অনুশীলন, চর্চা ও প্রতিযোগিতা। ক্রমাগত চর্চা, অনুশীলন ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা বিকাশোন্নয়নের পরিমাপও করতে পারি। সেক্ষেত্রে অনেকে খেলাধুলাকে একমাত্র জায়গা হিসেবে বেছে নেয় যেখানে তারা যথেষ্ট পরিমাণে প্রতিযোগী খুঁজে পায়। এ ধরণের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব শুধু খেলাধুলায় নয়, এটা পড়ালেখা, গান বাজনা, অভিনয় বা চাকরির ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে।

তবে এটি খুব নেতিবাচকও হতে পারে। এর ফলে বিকাশের পরিবর্তে এর বিপরীতটাও দেখা যায়। বিপরীতটা বলছি এই অর্থে যে, অধিকাংশ সময়ই প্রতিপক্ষের বিজয়ে আমরা তাকে অভিনন্দন না জানিয়ে ঈর্ষান্বিত হই। এটি মানসিক বিকাশের পরিবর্তে মানুষকে হীনমন্যতায় ভোগাতে থাকে। এছাড়া খেলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে অনেকেই অধিক এক্সাইটেড ও নার্ভাস হয়ে পড়ে।

এমতাবস্থায় নিজেকে একজন দুর্বল, পরাজিত ও ব্যর্থ খেলোয়াড় হিসেবে মনে হয়। ব্যর্থতার অনুভূতি নিজের মধ্যে প্রতিবিম্বিত হতে থাকে। এ ক্ষেত্রে ফলাফল নির্বিশেষে প্রতিযোগিতাকে বিকশিত করার উপায় হিসেবে দেখার পরিবর্তে ক্ষতি হিসেবে দেখা হয়। যার কারণে একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে কম মূল্যবান বলে মূল্যায়ন করা হয়। শুধু পরাজয়কে আসল পরিমাপ হিসেবে দেখা হয়। খেলাধুলার মাধ্যমে যে নিজের শারীরিক ও মানসিক মান উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, সেটা অনেকে ভুলে যায়।

আপনি কি কখনও খেলাধুলা, পড়ালেখা বা কোনো কাজ করতে পেরে খাঁটি আনন্দ এবং সুখ খুঁজে পেয়েছেন? যেকোনো কাজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার দিকে মনোনিবেশ না করে ফলাফলের দিকে নজর যারা দেয় তারাই বেশি পরাজিত হয়ে থাকে। এটা বেশি লক্ষণীয় খেলাধুলার ক্ষেত্রে। একটি শিশু কোনো ফলাফল ছাড়াই বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে খেলতে পছন্দ করে। কারণ তার কাছে এটি বিনোদন। শিশুর কাছে জয় বা পরাজয় বলে কিছু নেই এটা কেবলই আনন্দের একটি প্রবাহ মাত্র। এর অর্থ হলো শিশু সবসময়ই বিজয়ী।

একজন অভিজাত অ্যাথলেট হিসেবে আপনি কি আপনার প্রতিযোগিতার বিষয়ে ক্রমাগত বিকাশ ছাড়া অন্যরকম দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভাবছেন? এমনও হতে পারে আপনি জানেন যে আপনার কাছে প্রতিযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। আপনার নিজের চিন্তাধারার মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলুন। নিজের সঙ্গে নিজে প্রতিযোগিতা করুন। নিজের বিকাশের পূর্ববর্তী স্তর থেকে অধিকতর ও উন্নত স্তর তৈরির জন্য প্রতিযোগিতা করুন। জয় পরাজয়ের দিকে নজর না দিয়ে নিজেকেই নিজের শক্ত প্রতিযোগী হিসেবে বেছে নিন।

ভাবুন এমন করে যেন সবচেয়ে ভালো প্রতিপক্ষের সঙ্গে শীর্ষে খেলতে পারি। একজন ভাল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলে নিজের দক্ষতা পরিমাপ করতে পারি। অন্যরা সফল হলে আনন্দ করুন। আপনি বুঝতে পারছেন যে অন্যরা যখন সফল হয় তখন আপনিও সফল হবেন এবং পরবর্তীতে আরও ভালো খেলবেন। এমনকি আপনার সাথে নিজেকে পরিমাপ করার মতো কেউ আছেন সেটাও অনুভব করবেন।

আপনি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে যাই হোক না কেন ভালো জায়গায় আছেন। আপনার জীবনে এমন একটি পরিবেশে সত্যিকার অর্থে আপনি ক্রমাগত বিকাশের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হবেন। সে বিকাশটি সত্যিই মজাদার হবে যদি জয়-পরাজয় বা লাভ-ক্ষতির ব্যাপারটা না ভাবেন। যখন আপনি জানেন যে আপনার মান ক্রমাগত বিকাশের ধারায় রয়েছে তবে এটি অবশ্যই আপনার মনের মধ্যে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। অতএব সেভাবেই নিজেকে তৈরি করুন।

আপনি আপনার প্রতিযোগিতা কীভাবে সম্পাদন করবেন আর শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে তা খেলার শেষেই জানার মনোভাব গড়ে তুলুন। সত্যিকার অর্থে প্রতিযোগিতার কারণে ফোকাসের পরিবর্তন হয়। আপনার ফোকাস হোক সবসময় ডু ইয়োর বেস্ট। তাতে করে আপনি জিততে বা হারতে ভয় পাবেন না। আপনি যে ফলাফলগুলো পেয়েছেন তাতে কেবল আপনি যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সময় দিয়েছেন তাই নয়, এতে প্রমাণিত যে এটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ, যখন আপনি নিজের দক্ষতার ক্রমাগত বিকাশ করতে পেরেছেন প্রতিফলনের মধ্য দিয়ে।

আপনি আপনার খেলাধুলায় ক্রমাগত বিকাশ ঘটান। যখন একজন স্বনামধন্য মানুষ হিসেবে পরিপক্ব হবেন তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে আসল প্রতিযোগিতা আপনার এবং আপনার চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে। প্রতিযোগিতার রাস্তাকে ভালোবাসার অর্থ হলো প্রশিক্ষণে সময়, ফোকাস এবং প্রচেষ্টাকে ভালোবাসা এবং এগুলোকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে শেখা। এটা প্রতিনিয়ত করতে হবে।

আপনি যখন জিতবেন কেবল তখন নয়, সব সময়। প্রতিযোগিতার মতো এমন কিছু থাকার জন্য আজ আপনি বিপরীতে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছেন। বৈপরীত্যগুলোর জন্য উন্নতির দিকে পরিচালিত হতে পারছেন। উন্নয়ন মানেই অনুপ্রেরণার জীবন। এই অনুপ্রেরণার কারণে আপনি যে পদকটি পান তা হলো মনের স্বাধীনতা। আর এই মনের স্বাধীনতাই আপনার বিকাশের একমাত্র নিয়ামক যা সত্যিই দুর্লভ।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ক্রমাগত বিকাশের শক্ত ভিত্তির নাম পারফরম্যান্স

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৩:০৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

লেখাপড়ার জগতে লাখো লাখো রসায়নবিদ, পদার্থবিদ, অর্থনীতিবিদ রয়েছে। কিন্তু সবাই নোবেল পুরস্কার পায় না। নোবেল পুরস্কার সবাই পাবে না, তবুও লেখাপড়া থেমে নেই। লেখাপড়ার মধ্যে রয়েছে ধারাবাহিকতা, রয়েছে উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রবণতা। লেখাপড়ার মতো খেলাধুলাতেও ধারাবাহিকতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রবণতা থাকতে হবে। খেলাধুলায় শুধু জয়-পরাজয় নয়, ক্রমাগত নিজের বিকাশ ঘটাতে হবে। বেশিরভাগ খেলোয়াড় বিশ্বাস করে খেলায় নিমগ্ন না হলে এর উচ্চস্তরে পৌঁছানো অসম্ভব। কথায় বলে দ্য উইনার টেকস ইট অল, সেক্ষেত্রে সেকেন্ড প্লেসটিও কিন্তু পরাজয়ের জায়গা।

খেলাধুলায় উন্নতি করতে হলে জিততে হবে এটাই মূল উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য প্রতি খেলায় গুড টু বেটার করার মন-মানসিকতা তৈরি করা। সাধারণত খেলায় যারা জিতে তারা হেরেও থাকে। এখানে হার-জিতের গুরুত্ব রয়েছে। তা সত্ত্বেও জেতার ফোকাসটি দৃশ্য ও অদৃশ্য দর্পণে জ্বলজ্বল করতে থাকে। যার কারণে অনেকে পরাজয়কে মেনে নিতে পারে না।

আমরা মানুষ জাতি ক্রমাগত বিকশিত হতে পছন্দ করি। ক্রমাগত বিকাশ সাধনের একটি উপায় হলো নিয়মিত অনুশীলন, চর্চা ও প্রতিযোগিতা। ক্রমাগত চর্চা, অনুশীলন ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা বিকাশোন্নয়নের পরিমাপও করতে পারি। সেক্ষেত্রে অনেকে খেলাধুলাকে একমাত্র জায়গা হিসেবে বেছে নেয় যেখানে তারা যথেষ্ট পরিমাণে প্রতিযোগী খুঁজে পায়। এ ধরণের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব শুধু খেলাধুলায় নয়, এটা পড়ালেখা, গান বাজনা, অভিনয় বা চাকরির ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে। 

তবে এটি খুব নেতিবাচকও হতে পারে। এর ফলে বিকাশের পরিবর্তে এর বিপরীতটাও দেখা যায়। বিপরীতটা বলছি এই অর্থে যে, অধিকাংশ সময়ই প্রতিপক্ষের বিজয়ে আমরা তাকে অভিনন্দন না জানিয়ে ঈর্ষান্বিত হই। এটি মানসিক বিকাশের পরিবর্তে মানুষকে হীনমন্যতায় ভোগাতে থাকে। এছাড়া খেলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে অনেকেই অধিক এক্সাইটেড ও নার্ভাস হয়ে পড়ে। 

এমতাবস্থায় নিজেকে একজন দুর্বল, পরাজিত ও ব্যর্থ খেলোয়াড় হিসেবে মনে হয়। ব্যর্থতার অনুভূতি নিজের মধ্যে প্রতিবিম্বিত হতে থাকে। এ ক্ষেত্রে ফলাফল নির্বিশেষে প্রতিযোগিতাকে বিকশিত করার উপায় হিসেবে দেখার পরিবর্তে ক্ষতি হিসেবে দেখা হয়। যার কারণে একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে কম মূল্যবান বলে মূল্যায়ন করা হয়। শুধু পরাজয়কে আসল পরিমাপ হিসেবে দেখা হয়। খেলাধুলার মাধ্যমে যে নিজের শারীরিক ও মানসিক মান উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, সেটা অনেকে ভুলে যায়।

আপনি কি কখনও খেলাধুলা, পড়ালেখা বা কোনো কাজ করতে পেরে খাঁটি আনন্দ এবং সুখ খুঁজে পেয়েছেন? যেকোনো কাজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার দিকে মনোনিবেশ না করে ফলাফলের দিকে নজর যারা দেয় তারাই বেশি পরাজিত হয়ে থাকে। এটা বেশি লক্ষণীয় খেলাধুলার ক্ষেত্রে। একটি শিশু কোনো ফলাফল ছাড়াই বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে খেলতে পছন্দ করে। কারণ তার কাছে এটি বিনোদন। শিশুর কাছে জয় বা পরাজয় বলে কিছু নেই এটা কেবলই আনন্দের একটি প্রবাহ মাত্র। এর অর্থ হলো শিশু সবসময়ই বিজয়ী।

একজন অভিজাত অ্যাথলেট হিসেবে আপনি কি আপনার প্রতিযোগিতার বিষয়ে ক্রমাগত বিকাশ ছাড়া অন্যরকম দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভাবছেন? এমনও হতে পারে আপনি জানেন যে আপনার কাছে প্রতিযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। আপনার নিজের চিন্তাধারার মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলুন। নিজের সঙ্গে নিজে প্রতিযোগিতা করুন। নিজের বিকাশের পূর্ববর্তী স্তর থেকে অধিকতর ও উন্নত স্তর তৈরির জন্য প্রতিযোগিতা করুন। জয় পরাজয়ের দিকে নজর না দিয়ে নিজেকেই নিজের শক্ত প্রতিযোগী হিসেবে বেছে নিন। 

ভাবুন এমন করে যেন সবচেয়ে ভালো প্রতিপক্ষের সঙ্গে শীর্ষে খেলতে পারি। একজন ভাল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলে নিজের দক্ষতা পরিমাপ করতে পারি। অন্যরা সফল হলে আনন্দ করুন। আপনি বুঝতে পারছেন যে অন্যরা যখন সফল হয় তখন আপনিও সফল হবেন এবং পরবর্তীতে আরও ভালো খেলবেন। এমনকি আপনার সাথে নিজেকে পরিমাপ করার মতো কেউ আছেন সেটাও অনুভব করবেন।

আপনি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে যাই হোক না কেন ভালো জায়গায় আছেন। আপনার জীবনে এমন একটি পরিবেশে সত্যিকার অর্থে আপনি ক্রমাগত বিকাশের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হবেন। সে বিকাশটি সত্যিই মজাদার হবে যদি জয়-পরাজয় বা লাভ-ক্ষতির ব্যাপারটা না ভাবেন। যখন আপনি জানেন যে আপনার মান ক্রমাগত বিকাশের ধারায় রয়েছে তবে এটি অবশ্যই আপনার মনের মধ্যে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। অতএব সেভাবেই নিজেকে তৈরি করুন।

আপনি আপনার প্রতিযোগিতা কীভাবে সম্পাদন করবেন আর শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে তা খেলার শেষেই জানার মনোভাব গড়ে তুলুন। সত্যিকার অর্থে প্রতিযোগিতার কারণে ফোকাসের পরিবর্তন হয়। আপনার ফোকাস হোক সবসময় ডু ইয়োর বেস্ট। তাতে করে আপনি জিততে বা হারতে ভয় পাবেন না। আপনি যে ফলাফলগুলো পেয়েছেন তাতে কেবল আপনি যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সময় দিয়েছেন তাই নয়, এতে প্রমাণিত যে এটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ, যখন আপনি নিজের দক্ষতার ক্রমাগত বিকাশ করতে পেরেছেন প্রতিফলনের মধ্য দিয়ে।

আপনি আপনার খেলাধুলায় ক্রমাগত বিকাশ ঘটান। যখন একজন স্বনামধন্য মানুষ হিসেবে পরিপক্ব হবেন তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে আসল প্রতিযোগিতা আপনার এবং আপনার চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে। প্রতিযোগিতার রাস্তাকে ভালোবাসার অর্থ হলো প্রশিক্ষণে সময়, ফোকাস এবং প্রচেষ্টাকে ভালোবাসা এবং এগুলোকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে শেখা। এটা প্রতিনিয়ত করতে হবে। 

আপনি যখন জিতবেন কেবল তখন নয়, সব সময়। প্রতিযোগিতার মতো এমন কিছু থাকার জন্য আজ আপনি বিপরীতে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছেন। বৈপরীত্যগুলোর জন্য উন্নতির দিকে পরিচালিত হতে পারছেন। উন্নয়ন মানেই অনুপ্রেরণার জীবন। এই অনুপ্রেরণার কারণে আপনি যে পদকটি পান তা হলো মনের স্বাধীনতা। আর এই মনের স্বাধীনতাই আপনার বিকাশের একমাত্র নিয়ামক যা সত্যিই দুর্লভ।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

০৭ মার্চ, ২০২১
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১