রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সমাজকল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ডাক্তার ও ফিজিওথেরাপিস্ট একজন আরেকজনের প্রতিপক্ষ হওয়ার মানসিকতা পরিহার করতে হবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ‘হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি এবং শারীরিক কার্যকলাপের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে ফিজিওথেরাপিস্টস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-প্যাব। আলোচনা সভা শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি র্যালি বের করা হয়।
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, হৃদরোগ ও স্ট্রোক বর্তমানে মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এসব রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, স্ট্রোকের পর অনেক রোগীর চলাফেরা, শরীরের ভারসাম্য, দৈনন্দিন কাজ সম্পাদন এবং স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ব্যাহত হয়। যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন কার্যক্রম রোগীকে তার সক্ষমতা ফিরে পেতে সহায়তা করতে পারে। একইভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিরাপদ ও পরিকল্পিত শারীরিক কার্যক্রম পুনর্বাসনের অংশ হতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, শারীরিক ব্যায়াম বা ফিজিওথেরাপির ধরণ ও মাত্রা সবার জন্য এক নয়। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা ও রোগের ধরন বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আমাদের জনগণের মধ্যে হৃদরোগ ও স্ট্রোক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, ধূমপান পরিহার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। ডাক্তারের কাজ ডাক্তার করবে, আপনাদের কাজ আপনারা করবেন। একজন আরেকজনের প্রতিপক্ষ হওয়ার মানসিকতা পরিহার করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো জটিল রোগের ক্ষেত্রে প্রতিরোধের পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা এবং পরবর্তী পুনর্বাসনের গুরুত্ব অপরিসীম। স্ট্রোকের পর একজন মানুষ তার স্বাভাবিক চলাফেরা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের সক্ষমতা হারাতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রয়োজন হয়। প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে উপযুক্ত পুনর্বাসন রোগীর শারীরিক সক্ষমতা উন্নত করতে এবং দৈনন্দিন জীবনে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করতে পারে।
তিনি বলেন, নিয়মিত ও নিরাপদ শারীরিক কার্যকলাপ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শিশু, তরুণ ও বয়স্ক সব বয়সী মানুষের মধ্যেই বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী সক্রিয় জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ফিজিওথেরাপিকে শুধু রোগ হওয়ার পরের চিকিৎসা হিসেবে দেখলে চলবে না। রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এর গুরুত্ব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে।
সংগঠনের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান কল্লোলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন বিএনপির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডাক্তার নজরুল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ফিজিওথেরাপিস্ট এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীরুল আলম প্রমুখ।
