Logo
Logo
×
   

অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ

লোয়ি ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন

অস্ট্রেলিয়ায় সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চীন

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

অস্ট্রেলিয়ায় সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চীন

চীন এখন অস্ট্রেলিয়ার ওপর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে দাবি করেছে অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। 

দীর্ঘপাল্লার ও হাইপারসনিক অস্ত্রের মজুত বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ চীন সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণের কারণে এই হুমকি আরও বাড়ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) প্রকাশিত লোয়ি ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় সামরিক ঝুঁকি হলো চীনের জাহাজ, সাবমেরিন এবং নতুন মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে সম্ভাব্য আঘাত।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী এক দশকে চীনের আক্রমণ সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে ডিএফ-২৭ মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনযোগ্য আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এই সক্ষমতা শক্তিশালী হচ্ছে।

মার্কিন সামরিক তথ্য অনুযায়ী, ডিএফ-২৭ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

তবে প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়, এই মূল্যায়ন চীনের সামরিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের ওপর নয়। লোয়ি ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক স্যাম রোগেভিন বলেন, এই বিশ্লেষণ আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য নয়, আবার অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিরও নয়।

তিনি আরও বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির দ্রুত সম্প্রসারণ, যা নিয়ে আরও তথ্যভিত্তিক আলোচনা প্রয়োজন।

চীনের নৌবাহিনীর দ্রুত সম্প্রসারণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তিন বছর আগে অস্ট্রেলিয়া তাদের সামরিক কৌশলে পরিবর্তন আনে। নতুন কৌশলে দেশের উত্তরাঞ্চলীয় প্রবেশপথে সম্ভাব্য হুমকি প্রতিরোধে জোর দেওয়া হয়।

তবে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সরকার অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে সরাসরি হামলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা থেকে বিরত রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সমুদ্রের তলদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা, সাইবার হামলা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি—এগুলো এখনো অস্ট্রেলিয়ার জন্য প্রধান ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। পাশাপাশি সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিও ক্রমশ বাড়ছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, চীনের ডং ফেং-২৬ (ডিএফ-২৬) মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যদি দক্ষিণ চীন সাগরের কৃত্রিম দ্বীপ থেকে মোতায়েন করা হয়, তবে তা অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দূরপাল্লার বোমারু বিমান বা অস্ট্রেলিয়ার নিকটবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হলে দেশটির নিরাপত্তা ঝুঁকি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়া ও চীনের মধ্যে নিরাপত্তা প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলমান রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এই অঞ্চলে চীনের সামরিক উপস্থিতি ঠেকাতে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .