দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থায় ‘অবৈধ প্রশাসক’ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন
হাজারীবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৩ এএম
অবৈধ প্রশাসক’ অপসারণ এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার পক্ষ থেকে ‘অবৈধ প্রশাসক’ অপসারণ এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১০টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরের অরফানেজ রোডে অবস্থিত সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে সংস্থার প্রায় দেড় শতাধিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সহ-সভাপতি মোখলেসুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক গাফফার, সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলামসহ প্রতিবন্ধীরা।
মানববন্ধনে সংস্থার সাধারণ সদস্য মোহাম্মদ জামাল হোসেন মিয়া বলেন, দেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য যে ভাতা কার্যক্রম চালু রয়েছে, তা এখনও সচল আছে এবং তারা নিয়মিত এই সুবিধা পাচ্ছেন।
তিনি দাবি করেন, পূর্বে রাজনৈতিক সরকারের সময় থেকেই এই ভাতা কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং বর্তমানে তা অব্যাহত রয়েছে। তবে সম্প্রতি কিছু ‘অবৈধ প্রশাসক’ সংস্থার কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ওপর অমানবিক আচরণ চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের ৩৬৪টি জেলায় সংস্থার শাখা রয়েছে এবং এসব শাখার মাধ্যমে প্রতি বছর এক থেকে দুই হাজার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ভাতা, সেলাই মেশিন, মাতৃত্বকালীন সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। এমনকি কোনো সদস্য মারা গেলে তার দাফন-কাফনের ব্যবস্থাও সংস্থা থেকে করা হয়। কিন্তু এসব কার্যক্রম কিছু কুচক্রী মহলের সহ্য হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তারা ভুল তথ্য দিয়ে প্রশাসনের কাছে প্রভাব খাটিয়ে এই কার্যক্রমগুলো বানচাল করার চেষ্টা করছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সংস্থার নির্ধারিত নির্বাচনও ইচ্ছাকৃতভাবে বানচাল করা হয়েছে এবং এই সুযোগে প্রশাসনিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে সংস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
তারা বলেন, এই ‘অবৈধ প্রশাসককে’ তারা মানেন না এবং মেনে নেবেন না।
বক্তারা সরকারের কাছে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট প্রশাসককে অপসারণের দাবি জানান। পাশাপাশি যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে, সেই কুচক্রী মহলকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ওপর কোনো ধরনের অত্যাচার বা অবিচার না হয় এবং তাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।

