Logo
Logo
×
   

রাজধানী

সৌদিতে ফাস্টফুডের চাকরির প্রলোভনে মানবপাচার, গ্রেফতার ১

Icon

দক্ষিণখান (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

সৌদিতে ফাস্টফুডের চাকরির প্রলোভনে মানবপাচার, গ্রেফতার ১

বিমানবন্দর এলাকা থেকে সিআইডির মানবপাচার শাখা মো. সালমান হোসেনকে (৩৩) গ্রেফতার করে। ছবি: যুগান্তর

সৌদি আরবে ফাস্টফুডের দোকানে ভালো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেওয়ার পর নির্ধারিত কাজ না দিয়ে আটকে রেখে অতিরিক্ত অর্থ দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মানবপাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। 

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিমানবন্দর থানাধীন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) তাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মো. সালমান হোসেন (৩৩)। তিনি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার শংকরপুর (গাইনপাড়া) এলাকার মো. শহীদ শেখের ছেলে।   

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে ভালো চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেয় মানবপাচারকারী চক্রটি। প্রস্তাবে রাজি হলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেয় তারা। পরে ২০২৫ সালের ৭ জুন তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।

তবে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি তাকে। বরং গ্রেফতার সালমান হোসেন চক্রের অন্য সদস্যদের সহযোগিতায় ভুক্তভোগীকে একটি বাসায় আটকে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

এজাহারে আরও বলা হয়, আকামা করে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। টাকা আদায়ের জন্য ভুক্তভোগীর ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়।

একপর্যায়ে কৌশলে ওই বাসা থেকে পালিয়ে যান ভুক্তভোগী। পরে একটি মরুভূমি এলাকায় গিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির আশ্রয় নেন। সেখান থেকে সৌদি পুলিশ তাকে আটক করে। পরবর্তী সময়ে গত ২২ জুলাই তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার থানায় মামলা করেন। মামলাটি ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয়। এতে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬(২), ৭ ও ৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সিআইডি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতার সালমান হোসেনের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। সৌদি আরবে ভুক্তভোগী সালমানের বাসাতেই আটক ছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।  

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির মানবপাচার শাখা। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি, পলাতক আসামি এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য অন্য ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

সিআইডি জানিয়েছে, বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করতে নাগরিকদের সতর্ক থাকতে হবে। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম