অনেক কষ্টে করা নতুন রাস্তা ওয়াসাকে কাটতে দেব না: ডিএসসিসি প্রশাসক
Advertisement
হাজারীবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ টাইলস মার্কেটের সামনে ইনার সার্কুলার রিং রোড প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ওয়াসা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় নালিশ করে যে আমি নাকি রোড কাটিংয়ের (রাস্তা কাটার) অনুমতি দেই না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
তিনি বলেন, আপনারা এলাকায় খবর নিয়ে দেখুন, এই রাস্তাটা করতে কত কষ্ট হয়েছে! আট ফিটের নিচ থেকে আবর্জনা সরিয়ে মাটি কম্প্যাক্ট করে নিখুঁতভাবে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। মাত্র কিছুদিন হলো রাস্তাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন যদি পুরো রাস্তা তারা কেটে ফেলে, তবে এলাকার কি অবস্থা হবে? এ জন্য আমরা ওয়াসাকে একটি বিকল্প রাস্তা খোঁজার অনুরোধ জানিয়েছি।
ডিএসসিসি প্রশাসক এভাবেই রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ইনার সার্কুলার রিং রোডের নির্মাণকাজের প্রসঙ্গে ওয়াসার রাস্তা কাটার উদ্যোগ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, নতুন একটি রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে বিপুল কষ্ট ও অর্থ ব্যয় হয়েছে। নির্মাণের কয়েকদিন পরই সেটি কেটে ফেলা হলে পুরো কাজই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ টাইলস মার্কেটের সামনে ইনার সার্কুলার রিং রোড প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়, বেড়িবাঁধ রায়েরবাজার স্লুইস গেট থেকে লোহার ব্রিজ পর্যন্ত ইনার সার্কুলার রিং রোডের প্রথম ধাপের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে এটি পোস্তগোলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার আশা নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।
মোট ৮ লেনের (উপরে ৪ লেন ও নিচে ৪ লেন) এই ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার রাস্তার পাশাপাশি এতে ১০ কিলোমিটার ফুটপাত, ১০ কিলোমিটার ড্রেন, ৩টি ভেহিকুলার ওভারপাস, ৩টি ফ্লাইওভার ব্রিজ, ৮টি স্লুইস গেট এবং ২ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া পথচারীদের সুবিধার্থে থাকছে ৬টি বাস বে, ৬টি যাত্রীছাউনি এবং ৩টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস)। প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রায় ৪৮০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ৮টি বড় টাওয়ার স্থানান্তর করতে হচ্ছে।
প্রকল্পের নির্মাণকাজের মানের প্রশংসা করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশে কোনো সিটি করপোরেশন হয়তো এত সুন্দরভাবে এ ধরনের নির্মাণকাজ করতে পারেনি। এ জন্য তিনি প্রকৌশলী ও প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে এখানে তেমন কোনো কাজ দৃশ্যমান ছিল না। দায়িত্ব নেওয়ার পর কাজের অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইনার সার্কুলার রিং রোডের অগ্রগতি নিয়ে বারবার খোঁজখবর নেন। শুধু এই পাশ নয়, ঢাকার চারপাশে রিং রোড করার পরিকল্পনাও রয়েছে। নিচু এলাকার পানি নিষ্কাশন, নদীর পাড়ে ফুটপাত ও হাঁটার ব্যবস্থা এবং গাছ লাগানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রথম ধাপের কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ ও হাজারীবাগের দৃশ্যপট, যান চলাচল, পরিবেশ ও সৌন্দর্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
ওয়াসার রাস্তা কাটার উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন ইচ্ছামতো কোনো রাস্তা কাটার বিরোধিতা করছে না। কিন্তু যে রাস্তা নির্মাণে আট ফুটের নিচ থেকে আবর্জনা ও পলিথিন সরিয়ে মাটি কম্প্যাক্ট করে নিখুঁতভাবে নির্মাণ করতে হয়েছে, সেটি নির্মাণের কয়েকদিন পরই কেটে ফেলা হলে পুরো কাজ নষ্ট হয়ে যাবে। সঠিকভাবে মাটি কম্প্যাক্ট না করলে ভালো রাস্তা নির্মাণ সম্ভব নয়। তাই নতুন রাস্তা রক্ষার স্বার্থেই ওয়াসাকে বিকল্প পথ খুঁজে নিতে বলা হয়েছে।
সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আমরা যখন কাজ শুরু করেছিলাম, তাদের প্ল্যানিংটা তখনই দেওয়া উচিত ছিল। তাহলে একসাথেই সব কাজ হয়ে যেত। এখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করার চেষ্টা করছি, যাতে আলাদা আলাদাভাবে সরকারি টাকার অপচয় না হয়।
তিনি বলেন, কোনো সংস্থা রাস্তার কাজ শুরুর আগে তাদের পরিকল্পনা জানালে রাস্তা নির্মাণের সময়ই সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ করা যেত। পরে এসে রাস্তা কেটে কাজ করলে সরকারি অর্থের অপচয় হয়। সিটি করপোরেশন নিজেদের কাজ করছে। অন্য প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোরও আগে থেকেই সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাল ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা নিয়েও কাজ চলছে। কোনো কোনো খাল অন্য সড়কের সঙ্গে যুক্ত, আবার কোনোটি সড়কের অন্য পাশে রয়েছে। এসব বিষয় সমন্বয় করে সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। কিছু খালে অন্য সংস্থার স্থাপনা থাকায় সেসব সংস্থাকে স্থাপনা সরিয়ে খাল হস্তান্তরের জন্য বলা হয়েছে। বর্ষা শেষে খালগুলো পুরোপুরি খনন বা ড্রেজিং করার আশা রয়েছে। যেসব স্থানে খাল সড়কের পাশে রয়েছে, সেখানে সড়কের পাশে গার্ডওয়াল নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
ইনার সার্কুলার রিং রোড প্রকল্প ইতোমধ্যে দৃষ্টিনন্দন রূপ পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানোর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আধুনিক ও সুন্দর আলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পথচারীদের জন্য হাঁটার পথ থাকবে। নদীর পাশেও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক আলো ও খুঁটি স্থানান্তর, ড্রেনেজব্যবস্থা এবং খাল পরিষ্কারের কাজও প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে পুরো এলাকা আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।
কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ ও বুড়িগঙ্গা এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, এসব এলাকার অনেক জায়গা আবর্জনা ও দূষণে আচ্ছন্ন। কামরাঙ্গীরচরের অনেক অংশ আবর্জনার মধ্যেই গড়ে উঠেছে। ফলে সেখানে আবর্জনা কোথায় সরানো হবে, সেটিও বড় সমস্যা। অন্যদিকে বুড়িগঙ্গায় রয়েছে অসংখ্য দখল। বুড়িগঙ্গা পরিষ্কারে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ রয়েছে। বর্ষা শেষ হলে এ বিষয়ে কাজ শুরু হবে বলে আশা করছেন তিনি। নদীটি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে এবং নৌ চলাচলের পরিবেশও স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক মিঠুন চন্দ্র শীল, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদসহ সিটি করপোরেশনের প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য কর্মকর্তারা।



