ঢাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরবে লালকুঠি নর্থব্রুক হল: ডিএসসিসি প্রশাসক
Advertisement
পুরান ঢাকা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৩ এএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দীর্ঘদিনের সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজ শেষে নতুন রূপে ফিরেছে ১৪০ বছরেরও বেশি পুরোনো পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা লালকুঠি নর্থব্রুক হল। ঢাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০২৩ সালের জুনে শুরু হয়ে এ কাজ শেষ হয় ২০২৬ সালের ৩১ মে।
সংস্কার শেষে স্থাপনাটি পরিদর্শন করেছেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুটসহ ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের পুরো স্থাপনাটি ঘুরে দেখান। এ সময় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদসহ স্থানীয় সুশীল সমাজ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মো. আবদুস সালাম বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে করা এ প্রকল্পে শুধু ভবন সংস্কার নয়, এর ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ধরে রেখে তৈরি করা হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও। ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকার ১০ লাখ মানুষের মুক্ত নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গা হবে এই নর্থব্রুক হল। ঢাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে লালকুঠির এ সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। লাল কুঠি কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং ১৫০ বছরের ইতিহাসের বিরল সাক্ষী। ১৮৭৪ সালে ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল জর্জ ব্যারিং নর্থব্রুক ঢাকায় এলে তার সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। শুরুর দিকে ভবনটি ছিল নগর মিলনায়তন। পরবর্তী সময়ে একে গণগ্রন্থাগারে রূপান্তর করে এর সঙ্গে জনসন হল নামে একটি ক্লাবঘর সংযুক্ত করা হয়। ভবনটির নির্মাণকলায় মোগল স্থাপত্যরীতির সঙ্গে ইউরোপীয় রেনেসাঁর সংমিশ্রণ ঘটেছিল। এই ভবনেই আয়োজন করা হতো তৎকালীন উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সভা এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। ১৯২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এখানেই কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ঢাকা পৌরসভার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বিশ্বব্যাংকের পরিদর্শন টিমের প্রধান ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংস্কারের অংশ হতে পেরে গর্বিত বিশ্বব্যাংক। দেশের বর্তমান নাগরিকগণ তাদের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস চর্চা করে নিজেদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে বলে প্রত্যাশা করছি। লেখক, গবেষকগণ এখানকার লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করে দেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
পুরান ঢাকার বাসিন্দা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়া স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমরা ছোটবেলায় পাল তোলা নৌকায় চড়ে দেখতাম আহসান মঞ্জিল, লালকুঠি ও রূপলাল হাউজসহ নদীর দুই পাড়ের অপরূপ দৃশ্য। মধ্যে এসব প্রায় বিলীন হয়ে গিয়েছেন। বর্তমান সরকার এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আমরা আমাদের হারানো গৌরব ফিরে পেতে যাচ্ছি।

