ঈদে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলবে ১৬টি ফেরি ও ২০ লঞ্চ
Advertisement
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে সমন্বয় সভা। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলবে ১৬টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি, লঞ্চসহ অন্যোন্য জলযান সুষ্ঠুভাবে চলাচল; ঘাটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও যাত্রী সাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে সমন্বয় সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
সভায় জানানো হয়, যাত্রীরা যেন ঈদের আগে বাড়িতে ও ঈদের পরে কর্মস্থলে নির্বিঘ্নে ফিরতে পারেন সে লক্ষ্যে ঈদের আগে পাঁচদিন ও পরে পাঁচদিন নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে। যাত্রীদের জন্য ওয়াশ ব্লক, নারীদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, সড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, দৌলতদিয়া বাইপাস সড়কে রাতে লাইটিং ব্যবস্থা, এছাড়াও ফেরিঘাটে যানজট এড়াতে পল্টনে রিকশা ও ইজিবাইক না উঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঈদযাত্রায় চুরি ও ছিনতাই রোধে যাত্রীদের সচেতন করতে ঘাট এলাকায় মাইকিং করা হবে। এছাড়াও লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণ না করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ ও লঞ্চ মালিক সমিতির সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে রো রো, ইউটিলিটি ও কে টাইপসহ বহরে মোট ১৬টি ফেরি থাকবে। এছাড়াও দৌলতদিয়া প্রান্তে ৩, ৪ ও ৭নং ঘাট সচল থাকবে। ১৬টি ফেরি ও ৩টি ঘাটের মাধ্যমে দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে পারাপার হতে পারবে।
বিআইডব্লিউটিএ আরিচা বন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (নৌ-নিট্রা) মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের ঘাটগুলো সংস্কারের কাজ চলছে। আশা করছি সবার সহযোগিতায় আমরা ঘরমুখো যাত্রীদের ভালো একটি ঈদ উপহার দিতে পারব।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। থানা পুলিশ, সাদা পোশাকে পুলিশ, ডিবি পুলিশসহ একাধিক টিম থাকবে। এছাড়াও নৌপুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।যাত্রীদের নিরাপত্তা স্বার্থে জেলা পুলিশ সর্বদা মাঠে থাকবে।
রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, যাত্রী সাধারণের যেন ভোগান্তি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেকোনো মূল্যে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা যেন ভালো হয় এজন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন কাজ করবে।দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ঈদের আগে মোবাইল কোর্ট করার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে। যাত্রীদের থেকে পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা যেন অতিরিক্ত ভাড়া না নিতে পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট থাকবে।
তিনি আরও বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। অস্থায়ী পাবলিক টয়লেট স্থাপন করতে হবে, মাতৃদুগ্ধের ব্যবস্থা থাকতে হবে। রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়া টার্মিনালে যানবাহনের ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান থাকবে। এছাড়াও ঘাট এলাকায় সচেতনতামূলক বিভিন্ন ব্যানার থাকবে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম, দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ বিশ্বাস, বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, বিআইডব্লিউটিএ আরিচা বন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বোরহান উদ্দিন, জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক গ্রুপের সহ-সভাপতি মুরাদ হাসান উপস্থিত ছিলেন।

