রায়পুরে বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দিশেহারা কৃষক
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় বোরো ধানের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। সার, সেচ ও শ্রমিকের উচ্চ মজুরির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। অথচ বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, এলাকার কিছু ধান ব্যবসায়ী ও আড়তদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রতি মণ ধানের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমিয়ে দিচ্ছে। এতে কৃষকদের ঋণ পরিশোধ ও উৎপাদন খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, সরকার চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ এক হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে; কিন্তু রায়পুরের মোল্লারহাট, হায়দরগঞ্জ ও হাজিমারা বাজারসহ বিভিন্ন হাটে কৃষকরা প্রতি মণ ধান মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলার কৃষক সিরাজ ঢালি বলেন, এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে কোনো আনন্দ নেই। বরং লোকসানের শঙ্কায় সবাই হতাশ। মুখ দেখে দেখে মাঠ কর্মকর্তারা কৃষকদের তালিকা করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
কৃষক সোবহান ঢালি বলেন, আমি এবার ৩ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। সার ও কীটনাশকের দাম এমনিতেই বেশি। উচ্চ মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় আমরা যদি ধানের ন্যায্য দাম না পাই, তাহলে কোথায় যাব?
অন্যদিকে ধান ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে ধানের সরবরাহ বেড়েছে। নগদ টাকার সংকট এবং মিল মালিকদের কম কেনার কারণে দাম ধরে রাখা যাচ্ছে না। কিছু ব্যবসায়ী কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ ধান ৮০০ টাকায় কিনছেন বলেও তারা জানান।
রায়পুরের হায়দরগঞ্জ ও মোল্লারহাট বাজারের ধান ব্যবসায়ী একরামুল কাজি ও মাহমুদ হোসেন বলেন, গত মৌসুমের ধান-চাল এখনো মজুত রয়েছে। মিলাররাও এখনো নতুন ধান কেনা শুরু করেননি। এ কারণে ধানের বাজার নিম্নমুখী।
রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাজেদুল ইসলাম বলেন, এখনো উপজেলার প্রায় অর্ধেক ধান কাটা ও মাড়াই বাকি রয়েছে। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

