ভিন্নমত ভিন্নপথকে ধারণ করা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: জি কে গউছ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ বলেছেন, রাজনীতিতে ভিন্নমত ও ভিন্নপথ না থাকলে গণতন্ত্রের কোনো সৌন্দর্য থাকে না। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে ভিন্নমত ও ভিন্নপথকে ধারণ করা। অতএব, রাজনৈতিক পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জি কে গউছ বলেন, হবিগঞ্জে কারা অন্যায় অপরাধের সঙ্গে জড়িত তার সঠিক তালিকা করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় যেন বিবেচনায় নেওয়া না হয়। অপরাধী কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী হতে পারে না। একইভাবে তারা কোনো ভালো মানুষের বন্ধু হতে পারে না। অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, যদি অনুমোদন না থাকে, তাহলে খোয়াই নদী থেকে এক ঘনফুট বালুও যেন কেউ উত্তোলন করতে না পারে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। সিএনজি স্ট্যান্ড কারা দখল করেছে তাদের নাম আমরা জানতে চাই। আগে যারা দখল করেছিল তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল। এখন যারা দখল করেছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ও জানতে চাই। যারা সিএনজি স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করে তারা সমাজের ভালো মানুষ হতে পারে না। তারা অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের পেছনে যারা জড়িত তাদের নাম প্রকাশ করতে কোনো সমস্যা থাকলে গোপনীয় প্রতিবেদনে তাদের নাম উল্লেখ করার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জি কে গউছ বলেন, কোনো দুষ্ট লোকের সঙ্গে আমার বা আমার দলের সম্পর্ক নেই। যারা মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে তাদের মুখে চুনকালি দেওয়ার জন্য সত্যের বিকল্প নেই। আমি তিন বার মেয়র ছিলাম। কোটি কোটি টাকার চেকে সই করেছি। ফ্যাসিস্ট সরকার আমার বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়েছে। কিন্তু এক টাকারও দুর্নীতির মামলা দিতে পারেনি। আমি নিজে দুর্নীতি করি না, দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয়ও দেই না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি কাজের মানুষ। শুধু আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। আমি দৃশ্যমান কাজ দেখতে চাই। শহরের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে সিসি ক্যামেরার বিকল্প নেই। শহরের প্রতিটি সড়ক ও পাড়ামহল্লার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। চুরি, ছিনতাই বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণকে সচেতন করতে হবে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় করতে হবে।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ, সরকারি কৌশলী অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জল, সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী বেলাল প্রমুখ।

