Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

সিজার করতে গিয়ে নবজাতকের একাধিক অঙ্গ কেটে মৃত্যুর অভিযোগ

Icon

যশোর ব্যুরো

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

সিজার করতে গিয়ে নবজাতকের একাধিক অঙ্গ কেটে মৃত্যুর অভিযোগ

মৃত শিশুটিকে নিয়ে স্বজনদের আহাজারি। ছবি: যুগান্তর

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সিজার করাতে এসে এক নবজাতকের মৃত্যু হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। 

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও অসাবধানতায় অস্ত্রোপচারের সময় শিশুর মাথা, ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে ফেলা হয়েছে। এতে নবজাতকটির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। 

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মাথায় আঘাতে নয়; সিজারের আগেই অন্য কোনো কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতাল ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে সদর উপজেলার রায়মানিক কচুয়া গ্রামের সাগর হাসানের স্ত্রী তাসমিরার প্রসব বেদনা উঠলে পরিবারের সদস্যরা যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রসূতিকে লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করে দ্রুতই সিজারের কথা জানান।

পরে সকাল ১০টার দিকে গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে প্রসূতিকে অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা প্রসূতির স্বজনদের জানান তাদের ছেলে সন্তান হয়েছে, একই সঙ্গে নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন। তখন পরিবারের সদস্যরা নবজাতকটিকে দেখতে চাইলেও তারা দেখা করতে দেয়নি। পরে সন্দেহ হওয়ায় স্বজনরা নবজাতকটিকে দেখতে গেলে নার্সরা জানায়, তাদের মৃত শিশুর জন্ম হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সের অসংলগ্ন কথাবার্তায় স্বজনরা নবজাতকটি কোলে নিয়ে দেখতে পায় নবজাতকের মাথা, ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বজনরা কথা বলতে চাইলে ডাক্তার কথা না বলেই চলে যান।

এ সময় রক্তাক্ত কাপড়ে নবজাতকটিকে পেঁচিয়ে কোলে নিয়ে বিচার চাইতে লেবার ওয়ার্ড থেকে হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে যাচ্ছিলেন মৃত নবজাতকটির খালা রহিমা খাতুন। এ সময় তিনি বলেন, পাঁচ দিন আগে আমার বোন তাজমিরার বাচ্চা যখন নড়াচড়া করছিল না, তখন হাসপাতালে ভর্তি করি। সেই সময় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বাচ্চা ও মা ভালো আছে বলে জানায় চিকিৎসকরা। আজ ভোরে প্রসব বেদনা উঠলে চিকিৎসকের পরামর্শে সিজার করি। সিজারের পরে বাচ্চা আমাদের কাছে একটি বারের জন্য দেয়নি। শিশুটি যদি মারাই যাবে, অপারেশনের পর জানালো না কেন? জোর করে তিন ঘণ্টা পর বাচ্চা দেখতে গিয়ে দেখি শিশুটির মাথাসহ বিভিন্ন স্থানে কাটা। তার পরেও ঠিকমতো চিকিৎসা করায়নি চিকিৎসকরা। পরে জানায় শিশুটি মারা গেছে। তার পরেও শিশুটি কোলে নেওয়ার পর নড়েচড়ে উঠলে দ্রুত অন্য শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিলে তারা জানায় শিশুটি মারা গেছে। 

তিনি অভিযোগ করেন, মৃত্যুর পরেও শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকরা খেলা করেছে।

শিশুটির বাবা সাগর হাসান বলেন, চিকিৎসকরা সিজারের টেবিলে নিয়ে তিন ঘণ্টা পর মাথা কাটা বাচ্চা দিয়েছে। তার পরেও নবজাতকটির চিকিৎসায় অবহেলা করেছে। চিকিৎসকের অবহেলায় ওই নবজাতক মারা গেছে দাবি করে এ ঘটনার বিচার চান তিনি। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, লেবার ওয়ার্ডে তাজমিরা সুস্থ থাকলেও এখনও তাকে এসবের কিছু জানানো হয়নি। তাকে বলা হয়েছে, তোমার ছেলে হয়েছে। কিছুটা অসুস্থ, চিকিৎসা চলছে। আমাদের প্রথম সন্তান। ছেলে হবে বলে সবাই খুশি হয়েছিল। দুই পরিবারেই আনন্দের বন্যা বইছিল। এখন সবাইকে কি বুঝ দিব। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। সুষ্ঠু বিচার হলে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। 

তবে যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আহসান কবির বাপ্পী বলেন, নবজাতকের শরীরে যেসব ক্ষতচিহ্ন দেখা যাচ্ছে সেসব সিজারের কেটে ফেলার নয়; ধারণা করছি সিজারের আগেই অন্য কোনো কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তার পরেও স্বজনদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত করে শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ ও চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলা প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .