Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

Icon

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ছবি যুগান্তর

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট উচ্চবিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশে আওয়ামী লীগের এক নেতার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক মো. মতিয়ার রহমান ফকিরকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় মাঠে অবস্থান নিয়ে তারা এ বিক্ষোভ করে। এ সময় প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।

খবর পেয়ে কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুনছুর রহমান বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে শিক্ষার্থীরা তার কাছে ইউএনওর কাছে দেওয়ার জন্য লিখিত অভিযোগ দেয়। এরপর তারা শ্রেণিকক্ষে ফিরে যায়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বাদল হোসেন বলে, ‘অফিসে ঢুকে আমাদের স্যারকে চড় মারা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই।’

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে বিদ্যালয়ে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে পুনট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ফকির উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

এরই জেরে গত বুধবার সকালে পুনট ইউনিয়নের বিএনপির এক কর্মী ইয়াসিন আলী ২০ থেকে ২৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে যান। পরে আরও কয়েকজন ব্যক্তি কক্ষে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করলে তারা বিদ্যালয় থেকে চলে যান। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।  

প্রধান শিক্ষকের কক্ষে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে লাঞ্ছিত করার দৃশ্য দেখা গেছে। ফুটেজে দেখা যায়, গতকাল বুধবার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে প্রধান শিক্ষক কক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় লুঙ্গি পরা এক ব্যক্তি কক্ষে ঢুকে তার সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে চড় মারেন। প্রধান শিক্ষক চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালে ওই ব্যক্তি তাকে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আরও ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি কক্ষে ঢুকে তাকে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক জানান, তাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক আওয়ামী লীগ মনোভাবাপন্ন। সে কারণেই তিনি পরিকল্পিতভাবে ফ্যাসিস্ট, জুলাই মামলার আসামি এবং আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুসকে অভিভাবক সমাবেশে আসা ও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। তার উদ্দেশ্যই হয়তো ছিল স্থানীয় রাজনীতির মাঠে একটি হট্টগোলের ইস্যু তৈরি করা।

প্রধান শিক্ষক মো. মতিয়ার রহমান ফকির বলেন, অভিভাবক সমাবেশে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে তার নিকটাত্মীয় পুনট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ফকির এসেছিলেন। আমরা তাকে দাওয়াত করিনি। কে বা কারা সমাবেশের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। গতকাল সকালে কক্ষে বসে কাজ করার সময় ইয়াসিন আলী গালিগালাজ করতে করতে এসে আমাকে লাঞ্ছিত করেন।

তবে প্রধান শিক্ষককে চড় মারার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইয়াসিন আলী। তিনি বলেন, এখন বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। অথচ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশে বিএনপির কাউকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি প্রধান শিক্ষক। ফ্যাসিস্ট ও জুলাই মামলার আসামি আওয়ামী লীগের নেতাকে ঠিকই অভিভাবক সমাবেশে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। এ কারণে প্রধান শিক্ষকের কাছে জবাব চাইতে যাওয়া হয়েছিল।

কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুনছুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার পুনট উচ্চবিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে একটি রাজনৈতিক দলের নেতার উপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ ছিল। কালাই ইউএনও তাকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।

কালাই থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, পুনট উচ্চবিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস ফকির উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .