Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনে যুদ্ধ

ড্রোন হামলায় আহত হয়ে ফিরল কালীগঞ্জের রাজন

Advertisement

Icon

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

ড্রোন হামলায় আহত হয়ে ফিরল কালীগঞ্জের রাজন

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

নির্মাণ শ্রমিকের কাজের কথা বলে রাজন হোসেনকে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অথচ ইউক্রেনের যুদ্ধে তাকে পাঠানো হয়। প্রথম দিন ড্রোন হামলার শিকার হয়ে রাজন কোমরের নিচ থেকে শক্তি হারিয়ে ফেলেন। চার দিন ধরে চার কিলোমিটার পথ বুকে ভর দিয়ে তিনি ইউক্রেনের হাসপাতালে আশ্রয় নেন। পরে রাশিয়ার এক চিকিৎসকের সহায়তায় সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেছেন। রাজন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের আব্দুল কাদের কালুর ছেলে। 

রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধে অংশ নিয়ে ড্রোন হামলায় আহত রাজন দেশে ফিরে সাংবাদিকদের কাছে যুদ্ধের ভয়াবহতা বর্ণনা করেন। দালালের খপ্পরে পড়ে তিনি রাশিয়া যান। তিনি বলেন, এ বছরের ৭ মে বাংলাদেশ থেকে মস্কো বিমানবন্দরে যান। এরপর ২৯ জন বাংলাদেশির সঙ্গে তাকেও একটি বাসে করে মস্কো থেকে ওয়ারেনবার্গ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হোটেলে ৩-৪ দিন রাখা হয়। ব্যাংক কার্ড, সিম কার্ডের কথা বলে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। এরপর কাজের কথা বলে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমাদের একদিন রাখা হয়। 

রাজন জানান, বুঝতে পেরে আমরা যুদ্ধে যেতে অস্বীকৃতি জানাই। কিন্তু তারা কোনো কথা না শুনে সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে একটা বাংকারে নিয়ে যায়। এরপর রাশিয়া সেনাবাহিনীর পোশাক, অস্ত্রসহ যুদ্ধের সবকিছু দেওয়া হয়। ২১ দিন প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর ফ্রন্ট লাইনে আমাদের পাঠানো হয়। তিনি আরও বলেন, প্রথম দিনে ১৭ জন বাংলাদেশি ড্রোন হামলায় নিহত হয়। ওইদিন একটি ড্রোন তার কোমর বরাবর আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর কোমরের নিচ থেকে আর শক্তি পাচ্ছিলেন না। উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা ছিল না। চার দিন বুকে ভর দিয়ে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনের একটি হাসপাতালে যান। এরপর রাশিয়ার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৫ দিন পর তাকে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। ২১ আগস্ট ট্রাভেল পাশ নিয়ে তিনি দেশে আসেন।  

রাজন আরও বলেন, হামলায় অসুস্থ হওয়ার পর রাশিয়া সরকার আমাকে ১০ লাখ রুবল দিয়েছে। কিন্তু ওখানকার কোম্পানি ব্যাংকের কার্ড নিয়ে নেওয়ায় সেই টাকা ওঠাতে পারিনি। বাংলাদেশের জাবাল-ই-নূর রিক্রুটিং এজেন্সি আমাদের রাশিয়ায় পাঠায়। রাজনের বাবা আব্দুল কাদের বলেন, একতারপুর গ্রামের আবু তাহের লেন্টু হোসেনের কাছে ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। তিন বছর ঘুরিয়ে গত মে মাসে শ্রমিকের কাজের কথা বলে আমার ছেলেকে প্রতারণা করে রাশিয়ার যুদ্ধে পাঠায়। আমার ছেলে যুদ্ধে আঘাত পেয়ে দেশে ফিরেছে। ছেলেকে চিকিৎসা করাব সেই অর্থ এখন আমার কাছে নেই। আমার ছেলের সঙ্গে যারা এমন কাজ করেছে তাদের শাস্তি চাই। 

প্রতারক আবু তাহের লেন্টু বলেন, আমার ভাগনে সোহেলের মাধ্যমে রাজনকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি কোনো প্রতারণা করেননি। রাজনকে সরকারিভাবে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। 

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, দালালের খপ্পরে পড়ে যেন কেউ এমন প্রতারণার শিকার না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এছাড়া রাশিয়া থেকে ফিরে আসা রাজনের পাশে উপজেলা প্রশাসন থাকবে বলেও জানান তিনি।


Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

জামায়াত-আ.লীগের পুরোনো প্রেম আবার জেগেছে: রাশেদ খান

জামায়াত-আ.লীগের পুরোনো প্রেম আবার জেগেছে: রাশেদ খান

বিএনপি নেতারা ভুলভাল বলে প্রথাগতভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন: গোলাম পরওয়ার

বিএনপি নেতারা ভুলভাল বলে প্রথাগতভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন: গোলাম পরওয়ার

জামায়াতকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য রাশেদ খানের

জামায়াতকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য রাশেদ খানের

সুযোগ থাকলে জ্বালানি তেলের মূল্য কমানো হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত

সুযোগ থাকলে জ্বালানি তেলের মূল্য কমানো হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত

হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ৫২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ৫২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঘুরতে নিয়ে প্রেমিকাকে হত্যার ১৮ মাস পর বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ঘুরতে নিয়ে প্রেমিকাকে হত্যার ১৮ মাস পর বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আরও পড়ুন

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং সন্দেহে ৬ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেফতার ৪১৫

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং সন্দেহে ৬ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেফতার ৪১৫

আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালাল শীর্ষ সন্ত্রাসী

আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালাল শীর্ষ সন্ত্রাসী

পদ্মায় জেলের জালে ২২ কেজির কাতলা, ৫৭ হাজার টাকায় বিক্রি

পদ্মায় জেলের জালে ২২ কেজির কাতলা, ৫৭ হাজার টাকায় বিক্রি

কাঁচপুর ব্রিজের দু'পাশ যেন মরণফাঁদ ভুল সিদ্ধান্ত ও নজরদারির অভাবে ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ

ভুল সিদ্ধান্ত ও নজরদারির অভাবে ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম