Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

মেঘনার চরে একরপ্রতি ২০ হাজার টাকা দাবি, দখলে নিতে গিয়ে ফিরে এলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

Icon

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

মেঘনার চরে একরপ্রতি ২০ হাজার টাকা দাবি, দখলে নিতে গিয়ে ফিরে এলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

পুলিশি হস্তক্ষেপে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরে বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। 

রোববার (৩০ আগস্ট) সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একটি পক্ষ মেঘা চরের একটি অংশ দখলের উদ্দেশ্যে দুটি ট্রলারে অর্ধশতাধিক লোক নিয়ে সেখানে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এর আগে থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি পক্ষ চরের সাধারণ কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে লাঠিসোঁটা হাতে সেখানে অবস্থান নেয়। দখল প্রতিহত করতে কৃষকদের পক্ষ থেকে বাধা আসতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিএনপি নেতা কাদেরের নেতৃত্বাধীন গ্রুপটি ট্রলার থেকে আর চরে নামেনি।

সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত তারা ট্রলারে অবস্থান করে। অন্যদিকে কৃষকদের পক্ষের লোকজনও বিকাল পর্যন্ত চরে অবস্থান নেন। পরে ঘটনাস্থলে মজুচৌধুরীরহাট নৌপুলিশ গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে চর থেকে চলে যেতে বলে। কিছুক্ষণ পর নদীতে সদর থানা-পুলিশও অবস্থান নেয়। পুলিশি হস্তক্ষেপে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

কৃষকদের অভিযোগ, বিএনপির নেতারা চরের জমির জন্য তাদের কাছ থেকে বছরে একরপ্রতি ২০ হাজার টাকা দাবি করছেন। ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় কৃষকদের উচ্ছেদ করে চরের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাঁচজন প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চরের জমি দখলের বিষয়টিতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একটি অংশের মধ্যে মিল রয়েছে। বর্তমানে চর যাদের দখলে রয়েছে, তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনুসারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে চররমনী মোহন ইউনিয়ন যুবলীগের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি শাহজালাল মোল্লা ও স্থানীয় চরের ব্যবসায়ী শাহজালাল সরকারের আধিপত্য রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, তারা চররমনী মোহন ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মনির সরকার, যুবদল নেতা মহসিন সরকার ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল সরকারের অনুসারী। তাদের বিপক্ষে অবস্থান করছেন চররমনী মোহন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল কাদেরসহ বিএনপি নেতা হাকিম আলী সর্দার, রিপন মাঝি, মিলনসহ অনেকে।

চররমনী মোহন ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি প্রার্থী মহসিন সরকার বলেন, ‘বিএনপি নেতা কাদের, মিলন ও রিপন জমি দখল করতে গেছেন। তারা কানিপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে চেয়েছেন। তাদের নাকি টাকা দিতে হবে। তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসেছেন। আমি কৃষক। আমরা কৃষকদের পক্ষে আছি।’

অভিযোগ অস্বীকার করে চররমনী মোহন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা চরে পিকনিক করতে গেছে। চর দখলের মতো কিছু নেই। আর এসব চর এখনো আওয়ামী লীগ-যুবলীগের দখলে রয়েছে। সেখানে সাধারণ কোনো কৃষক নেই। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তারা এনেছে, তা মিথ্যা।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ দুই পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে।


Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম