Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

নেতাজির আদর্শে নতুন দল, মূল শক্তি হবে জেন জি: চন্দ্র বসু

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

নেতাজির আদর্শে নতুন দল, মূল শক্তি হবে জেন জি: চন্দ্র বসু

চন্দ্র বসু। ফাইল ছবি

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ সামনে রেখে ভারতের রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই দলের নাম হতে পারে ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’। দলের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তরুণ প্রজন্ম তথা জেন জিকে সামনে রাখা হবে। নেতাজির প্রপৌত্র (নাতির ছেলে) চন্দ্র বসু এই উদ্যোগের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন।

চন্দ্র বসু জানিয়েছেন, আগামী ২১ অক্টোবর থেকে নতুন দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর সিঙ্গাপুরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আজাদ হিন্দ সরকারের প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক দিনটিকেই নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের সূচনার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। নেতাজির জন্মস্থান উড়িষ্যার কটক থেকে দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম কর্মসূচিও সেখানে হতে পারে।

চন্দ্র বসু ছাড়াও নেতাজির আদর্শে বিশ্বাসী একদল গবেষক ও অনুরাগী এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। তবে তাদের ভূমিকা হবে সহযোগী হিসেবে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি—সব ক্ষেত্রেই তরুণ প্রজন্মকে প্রধান ভূমিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

চন্দ্র বসুর দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণ সুভাষপ্রেমী ও গবেষকদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে এই তরুণদের একটি বড় গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা থেকেই নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন চন্দ্র বসু। এর আগে তিনি ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারও আগে দীর্ঘ সাত বছর বিজেপিতে ছিলেন। ২০১৬ সালে তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের হাত ধরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।

তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তার বক্তব্য ছিল, নেতাজির আদর্শকে সামনে রেখে তিনি জাতীয় স্তরে কাজ করতে চান। চন্দ্র বসুর দাবি, বিজেপিতে থাকাকালে সেই সুযোগ তিনি পাননি। তৃণমূল কংগ্রেসেও তিনি সেই লক্ষ্যে কাজ করার সুযোগ দেখছেন না। তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে পরাজিত হওয়ার পর সেই দলের সঙ্গে থেকে জাতীয় স্তরে নতুন করে নেতাজির আদর্শে কাজ করার সম্ভাবনাও তিনি দেখছেন না। কিন্তু নেতাজির আদর্শে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

তবে নতুন দল গঠনের ভাবনা চন্দ্র বসুর কাছে নতুন নয়। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগেও জাতীয় স্তরে নেতাজির আদর্শকে সামনে রেখে ‘আজাদ হিন্দ মোর্চা’ গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে তার আলোচনা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন চন্দ্র বসু।

চন্দ্র বসুর দাবি, সে সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে জানিয়েছিলেন, দেশে ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। নতুন করে আরও একটি দল গঠন করে কী লাভ হবে? বরং কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে থেকেই কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল তাকে।

নেতাজি-সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশের জন্য নরেন্দ্র মোদির প্রশংসাও করেছেন চন্দ্র বসু। তার মতে, ওই নথিগুলোর কিছু প্রকাশ্যে আসায় নেতাজিকে ঘিরে বহু তথ্য নতুন করে সামনে এসেছে। তবে শুধু গোপন নথি প্রকাশ কিংবা নেতাজির অন্তর্ধান ও মৃত্যুর রহস্য নিয়ে বিতর্ক চালিয়ে যাওয়া যথেষ্ট নয়। নেতাজির আদর্শকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

চন্দ্র বসুর বক্তব্য, বিজেপিতে থাকার সময় ধীরে ধীরে তার উপলব্ধি হয় যে দলটি মূলত নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শ নিয়েই কাজ করছে। নেতাজির আদর্শকে সামনে রেখে বৃহত্তর জাতীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ সেখানে তিনি পাননি। সেই কারণেই বিজেপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নতুন রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে জেন জিকে কেন এতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন চন্দ্র বসু। তার মতে, দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি গোটা রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। সেই পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তরুণ প্রজন্ম।

চন্দ্র বসুর মতে, সাম্প্রতিক দিল্লির তরুণদের আন্দোলন দেখিয়েছে, জেন জি চাইলে রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক দলের নির্দেশে নয়, নিজেদের দাবি ও ভাবনা নিয়ে তরুণদের এই সক্রিয়তা নতুন রাজনীতির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

নেতাজির আদর্শকে সামনে রেখে নতুন দল গঠিত হলে তরুণ প্রজন্মই তার প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে বলে মনে করেন চন্দ্র বসু। তার বক্তব্য, নেতাজি যে ধরনের স্বাধীন, আত্মনির্ভর ও শক্তিশালী ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই ভাবনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হবে এই রাজনৈতিক উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

দল গঠনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনে দলের নিবন্ধন এবং নির্বাচনি প্রতীক তৈরির প্রক্রিয়াও শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম