Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ কোরিয়ায় মাঠেই ‘সেদ্ধ’ হচ্ছে আলু ও তরমুজ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

দক্ষিণ কোরিয়ায় মাঠেই ‘সেদ্ধ’ হচ্ছে আলু ও তরমুজ

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ইয়াংগু কাউন্টির কৃষকরা এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। প্রচণ্ড গরমে মাটির নিচেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাদের উৎপাদিত আলু। 

লি সাং-হিউক নামের এক কৃষক ক্ষেত থেকে আলু খুঁড়ে তুলে দেখেন, তপ্ত মাটিতে সেগুলো নরম হয়ে প্রায় সেদ্ধ হয়ে গেছে। এই চরম আবহাওয়ার কারণে শুধু আলু নয়, তরমুজ ও স্ট্রবেরির মতো ফসলও রাতারাতি পচে যাচ্ছে। ৫০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কৃষকরাও বলছেন, এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তারা আগে কখনো দেখেননি।

দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, হংকং এবং চীনসহ পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন মারাত্মক দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। গত ২ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংসান শহরে ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৯০৪ সালে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। 

দক্ষিণ কোরিয়ার রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মতে, এই তীব্র গরমে দেশজুড়ে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া প্রচণ্ড গরমে টিকতে না পেরে ৯ লাখেরও বেশি গবাদিপশু এবং ১৪ লাখ চাষের মাছ মারা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং চরম এই আবহাওয়াকে ‘নতুন স্বাভাবিক’ বা ‘নিউ নরমাল’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় সংকট মোকাবিলা ব্যবস্থাকে দ্রুত ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রতিবেশী দেশ জাপানের অবস্থাও অত্যন্ত ভয়াবহ। দেশটির বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। এই অসহনীয় তাপমাত্রাকে বোঝাতে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা এবার ‘কোকুশোবি’ বা ‘নিষ্ঠুর গরমের দিন’ নামে একটি নতুন পরিভাষা চালু করেছে। টোকিওর একটি চিড়িয়াখানায় সন্দেহভাজন হিটস্ট্রোকে তিনটি সিংহের মৃত্যু হয়েছে। জাপানের ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন সেন্টারের বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ছাড়া এই মাত্রার দাবদাহ প্রায় অসম্ভব ছিল; স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এমন গরম ১০ হাজার বছরে হয়তো একবারই দেখা যেত। এল নিনো জলবায়ু চক্রের উপস্থিতিতেও এই মাত্রার গরম অবাক করেছে বিশেষজ্ঞদের।

হংকংয়ে তাপমাত্রা ৩৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা ১৮৮৪ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ। টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে শহরটিতে এই তীব্র গরম বাতাস ছড়িয়ে পড়ে। তবে রেকর্ড তাপমাত্রার পরও হংকংয়ের আউটডোর কর্মীদের জন্য জারি করা ‘হিট স্ট্রেস ওয়ার্নিং সিস্টেম’-এর সর্বোচ্চ সতর্কতা (রেড অ্যালার্ট) চালু না হওয়ায় সিস্টেমটির কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। বাধ্য হয়ে হংকংয়ের শ্রম বিভাগ এই সতর্কতা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা দিয়েছে। 

অন্যদিকে, চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশে জুলাই মাসে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এবং উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়েও রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামছে না।

জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরূপ প্রভাব কৃষকদের আর্থিকভাবে চরম বিপর্যস্ত করে তুলছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় অনেক কৃষকের ফসল ও চাষপদ্ধতি বীমার আওতাভুক্ত না হওয়ায় তারা সরাসরি ঋণের বোঝায় জর্জরিত হচ্ছেন। ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএমও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৯১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এশিয়ার উষ্ণায়নের গতি আগের তিন দশকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। 

জাতিসংঘ ও জলবায়ু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন দ্রুত এবং ব্যাপকভাবে হ্রাস না করলে এই ধরনের চরম আবহাওয়া ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন এবং তীব্রভাবে আঘাত হানবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।


Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .