Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

সাবেক প্রেমিকাকে হত্যার ভয়ংকর ছক, গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়ে দিল এআই

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৪ এএম

সাবেক প্রেমিকাকে হত্যার ভয়ংকর ছক, গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়ে দিল এআই

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাবেক প্রেমিকাকে যৌন নির্যাতন ও হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে বিস্তারিত কথোপকথনের অভিযোগে গোল্ডম্যান স্যাকসের সাবেক এক বিশ্লেষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের নথির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ম্যাসাচুসেটস লয়্যারস উইকলি।

অভিযুক্ত ড্যারেন ঝো (২৫) ওয়েস্ট পাম বিচে গোল্ডম্যান স্যাকসে বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করতেন। গত মে মাসে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে তার কথোপকথন এফবিআইয়ের কাছে পাঠায় ওপেনএআই। পরে তদন্তকারীরা প্রায় দুই মাসের ওই চ্যাট ইতিহাস পর্যালোচনা করেন।

তদন্তকারীদের দাবি, ঝোর কথোপকথনগুলো শুধু আবেগ বা ক্ষোভ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং কয়েক মাস ধরে সেখানে সহিংসতার পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দিতে হবে, সেই বিষয়গুলো উঠে আসে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে ছয় মাসের সম্পর্কের অবসানের পর ঝো তার সাবেক প্রেমিকাকে নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। তিনি পুলিশকে জানান, সাবেক প্রেমিকার আশপাশে অন্য পুরুষদের উপস্থিতি নিয়ে তিনি ঈর্ষান্বিত ছিলেন।

তদন্তকারীদের মতে, একপর্যায়ে ঝো তার সাবেক প্রেমিকার জিমের পার্কিং এলাকায় অপেক্ষা করে ফুল দিয়ে সম্পর্ক পুনরায় শুরুর প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলে তাকে গুলি করে হত্যার পর নিজেকেও হত্যার পরিকল্পনার কথাও তিনি চ্যাটে লিখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে তার কথিত পরিকল্পনায় যৌন সহিংসতা ও জিম্মি করে রাখার বিষয়ও যুক্ত হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি সাবেক প্রেমিকাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর যৌন নির্যাতন এবং আটকে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে আরও সহিংসতার আশঙ্কার কথাও চ্যাটে উঠে আসে বলে তদন্তকারীরা জানান। পরে তার কথিত হুমকির পরিধি সাবেক প্রেমিকার পরিবারের সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করে বলে তদন্তকারীদের দাবি।

তদন্তের অংশ হিসেবে ২১ বছর বয়সি ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। তিনি জানান, ঝোর অস্বাভাবিক, ঈর্ষাপ্রবণ ও নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের কারণে তিনি সম্পর্কটি শেষ করেছিলেন। তার আচরণে ভয় পাওয়ায় সামনাসামনি নয়, ফোনে সম্পর্কচ্ছেদ করেন বলেও জানান তিনি।

বিচ্ছেদের পরও ঝো ফোন, খুদে বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্য পুরুষদের নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা এবং তিনি দ্রুত নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন; এমন অভিযোগও করতেন বলে তদন্তকারীদের কাছে জানান ওই নারী।

একপর্যায়ে তিনি ঝোর ফোন নম্বর ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেন। এরপর বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে তৈরি নতুন নম্বর ব্যবহার করে ঝো যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন বলে তদন্তকারীরা দাবি করেন। এসব বার্তার কিছুতে হয়রানি, অপমানজনক বক্তব্য, যৌন ইঙ্গিত ও হুমকি ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে কথোপকথনের স্ক্রিনশটও দেন ওই নারী।

গ্রেফতারের ছয় দিন আগে এফবিআই পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়কে ঝোর কথোপকথন সম্পর্কে সতর্ক করে। এরপর তদন্তকারীরা তার চ্যাট ইতিহাস পর্যালোচনা করেন।

একজন শেরিফের ডেপুটি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ঝোর কথোপকথন পর্যালোচনা করে জানান, এগুলো কেবল অস্পষ্ট রাগ বা হতাশার বহিঃপ্রকাশ ছিল না। বরং কথোপকথনে ক্রমশ হুমকি ও সহিংসতার পরিকল্পনা দেখা গেছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।

মে মাসে গ্রেফতার পর ঝো পাম বিচ কাউন্টি কারাগারে দুই দিন ছিলেন। পরে ১ লাখ ডলার জামিনে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে গুরুতরভাবে অনুসরণ বা হয়রানি করা, লিখিতভাবে হত্যার হুমকি দেওয়া এবং মোবাইল ফোনের অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়।

সূত্র: এনডিটিভি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .