সিএনএনের বিশ্লেষণ
যুদ্ধ নয়, অর্থনৈতিক চাপে ইরানকে নত করতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপের হুমকি দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কৌশল ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা অন্য দেশগুলোকেও কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন।
তবে ট্রাম্পের এমন কঠোর ঘোষণার পরও প্রশ্ন উঠছে—রাজনৈতিক চাপ ও অর্থনৈতিক ব্যয় বাড়তে থাকলে তিনি শেষ পর্যন্ত এই অবস্থানে কতটা অটল থাকবেন। অতীতেও ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প একাধিক কঠোর পদক্ষেপ ও হুমকি দিয়েছিলেন, পরে সেসব অবস্থান থেকে সরে আসার নজির রয়েছে। ফলে এবার ঘোষিত অর্থনৈতিক যুদ্ধকৌশল কতদিন কার্যকর থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বোমাবর্ষণ করে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে কিংবা সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে তাদের সাথে পারমাণবিক আলোচনায় বসতে ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের এই নতুন কৌশলকে নিজেদের মুখ রক্ষার একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক মিত্রদের জানানো হয়েছে যে, ইরানের সাথে সব ধরনের আলোচনা বন্ধ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে দেশটি যাতে সম্পূর্ণ নতি স্বীকার করে, সেজন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থা ইরানকে যেকোনো ধরণের সুবিধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেইসঙ্গে তেল চোরাচালান, অর্থ স্থানান্তর, ভুয়া কোম্পানি ও জাহাজের নিবন্ধনের মতো সমস্ত পথ অবিলম্বে বন্ধ করার তাগিদ দেন তিনি।
ইসরাইল ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগের সাবেক ইরান-বিষয়ক প্রধান ড্যানিয়েল সিট্রিনোভিচ জানান, তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও ইরান ভেঙে পড়বে এমনটি ভাবা হবে চরম ভুল। আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার যে কৌশল তেহরান নিয়েছে, তা পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ইরানের মূল রাজনৈতিক অবস্থানের কোনো পরিবর্তন আসবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে হলে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ধৈর্যের প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) রাজস্ব এবং আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সমন্বয়ে একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ দরকার।
হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো লুদোভিক হুড মনে করেন, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের উচিত ইরানের তেলের বড় ক্রেতা চীনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো। তবে আগামী সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে ওয়াশিংটন এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা, তা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই মাস আগে ইরানেরও পালটা জবাব দেওয়ার রাজনৈতিক সুযোগ রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে মার্কিন ভোটারদের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে পারে তেহরান।
ডেমোক্রেট প্রতিনিধি জেমস ওয়াকিনশ এই বিষয়ে জানান, তিনি এমন কোনো অর্থনৈতিক ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে আগ্রহী নন, যেখানে মার্কিন জনগণকে গ্যাস স্টেশন ও মুদি দোকানে এর চূড়ান্ত মূল্য দিতে হয়। ফলে ট্রাম্পের এই নতুন অর্থনৈতিক যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান আনবে, নাকি রাজনৈতিক চাপে তিনি পিছু হটবেন, তা এখনও একটি বড় প্রশ্ন।
তথ্যসূত্র: সিএনএন


