এবার ৬,৮০৫ কিমি পথ খালি পায়ে হেঁটে গিনেস রেকর্ড পুনরুদ্ধার!
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পায়ের তলার চামড়া ফেটে রক্ত ঝরেছে, কাঁটা আর কাচের টুকরো বিঁধেছে মাংসপেশিতে। কাঁটাঝোপের মারাত্মক সংক্রমণে বাধ্য হয়ে এক সপ্তাহ একটানা বন্ধ রাখতে হয়েছিল পথচলাও। এত সব শারীরিক যন্ত্রণা আর প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আয়ারল্যান্ডের ৩৪ বছর বয়সি সরকারি কর্মকর্তা ইমন কেভেনি গড়েছেন এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস। জুতোজোড়াকে বিদায় জানিয়ে তিনি খালি পায়ে ৩৬৯ দিনে পাড়ি দিয়েছেন ৬ হাজার ৮০৫ কিলোমিটার পথ।
তুরস্কের ঐতিহাসিক শহর ইস্তাম্বুল থেকে নিজের দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রা শুরু করেছিলেন কেভেনি। সমস্ত চড়াই-উতরাই ও চরম আবহাওয়া মোকাবিলা করে ৩৬৯ দিন পর গত ৭ মার্চ তিনি নিরাপদে পৌঁছে যান নিজের জন্মভূমি আয়ারল্যান্ডের মায়ো কাউন্টির ক্ল্যারিমরিসে। এর মাধ্যমে তিনি ভেঙে দিয়েছেন নিজেরই গড়া আগের রেকর্ড এবং নিয়ে গেছেন তাকে এক অনন্য উচ্চতায়।
খালি পায়ে হাঁটার এই রোমাঞ্চকর রেকর্ডটি কেভেনি প্রথম করেছিলেন ২০১৬ সালে, যখন তিনি নিজ দেশ আয়ারল্যান্ডজুড়ে ২ হাজার ৮০ কিলোমিটার পথ হেঁটেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে পোল্যান্ডের পাওয়েল দুরাকিয়েভিচ ৩ হাজার ৪০৯ কিলোমিটার খালি পায়ে হেঁটে কেভেনির সেই রেকর্ডটি নিজের দখলে নিয়ে নেন। তবে দীর্ঘ দিন বসে না থেকে কেভেনি এবার পোল্যান্ডের সেই রেকর্ডের প্রায় দ্বিগুণ পথ একসঙ্গে পাড়ি দিয়ে নিজের হারানো গৌরব সগৌরবে পুনরুদ্ধার করলেন।
অবশ্য শুধু এই রেকর্ডটিই নয়, এর আগে ২০২৩ সালে মাত্র ৫ দিন ৫ ঘণ্টা ২৩ মিনিটে এক চাকার সাইকেল বা ইউনিসাইকেলে গোটা আয়ারল্যান্ড পাড়ি দিয়ে আরও একটি তাক লাগানো রেকর্ড গড়েছিলেন এই লড়াকু তরুণ। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে কেভেনি বলেন, ‘প্রথমবার এই রেকর্ড গড়ার পরই আমার মনে বড় কিছু করার সুপ্ত বাসনা জন্ম নেয়। এক দেশ পেরিয়ে এবার একটি পুরো মহাদেশ খালি পায়ে পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন বুনি, আর সে কারণেই ইস্তাম্বুল থেকে হেঁটে আয়ারল্যান্ডে ফেরার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’
অধ্যবসায়, সাহস আর অদম্য মানসিক বল থাকলে মানুষের পক্ষে যে কোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা সম্ভব, ইমন কেভেনির এই দুঃসাহসিক অভিযাত্রা তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শারীরিক কষ্ট আর হাজারো বাধাকে পেছনে ফেলে তিনি কেবল একটি বিশ্বরেকর্ডই পুনরুদ্ধার করেননি, বরং মানবীয় ইচ্ছাশক্তির জয়গান গেয়ে বিশ্ববাসীর হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।
